সাতক্ষীরায় সুন্দরবন উপকূলবর্তী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশের ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর প্রচেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত ৮ থেকে ১০ জুন পর্যন্ত তিন দিনে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১৮ থেকে ২০ জনকে নদীপথসহ বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে ঢোকানোর চেষ্টা করে। তবে বিজিবির কড়া নজরদারি, সীমান্তজুড়ে অতিরিক্ত টহল এবং তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার কারণে তাদের সেই অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
নীলডুমুরস্থ বিজিবি-১৭ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন সীমান্ত এলাকায় বিজিবির তৎপরতার ফলেই এই অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা সফল হয়নি। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, পুশইন প্রতিরোধে ১৭ ব্যাটালিয়ন সীমান্তে বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সীমান্তবর্তী বিওপিগুলোতে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি মোটরসাইকেল ও এটিভি ব্যবহার করে নিয়মিত রাত্রিকালীন টহল জোরদার করা হয়েছে। এছাড়াও, সীমান্ত এলাকায় মাইকিং করে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বাঁশি, সার্চলাইট ও মেগাফোন ব্যবহার করে বিশেষ টহল পরিচালনা করা হচ্ছে।
নদীপথে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে সীমান্তবর্তী নদীগুলোতে হাই-স্পিড বোটের মাধ্যমে নিয়মিত টহল অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক সভাও আয়োজন করা হচ্ছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে সার্বক্ষণিক একটি কুইক রেসপন্স ফোর্স (কিউআরএফ) প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে বিজিবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে বিজিবি-১৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহারিয়ার রাজিব বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইনের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, সীমান্তে রাতভর টহল জোরদার করা হয়েছে এবং নদীপথসহ বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়মিত নজরদারি চলছে। মাইকিং ও হুইসেলের মাধ্যমে বিএসএফকে সতর্ক করা হচ্ছে যে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি-১৭ ব্যাটালিয়ন সর্বদা প্রস্তুত ও দায়িত্ব পালন করছে।
রিপোর্টারের নাম 




















