ঢাকা ০৬:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

‘ঘৃণ্য অপরাধেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি’: আইনমন্ত্রী

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, দেশের সবচেয়ে জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রেও আইনের শাসন, যথাযথ বিচারপ্রক্রিয়া এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির আইনগত প্রতিনিধিত্বের অধিকার নিশ্চিত করা আবশ্যক। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় জনপ্রিয়তার চেয়েও ন্যায়, যুক্তি ও আইনের আলোকে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড লিগ্যাল স্টাডিজ (CALS) আয়োজিত এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশনা ও সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারের বিষয় ছিল “Legal Representation in Death Penalty Cases in Bangladesh: An Empirical and Conceptual Analysis”।

মন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ হলেও বাংলাদেশের বর্তমান সামাজিক বাস্তবতায় এটি বিলোপের প্রশ্নটি অত্যন্ত জটিল। বিশেষ করে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মতো নৃশংস অপরাধের ঘটনায় সমাজের ন্যায়বিচারের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। তবে অপরাধের ধরন যাই হোক না কেন, প্রত্যেক অভিযুক্তের ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

তিনি রামিসা হত্যা মামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ঘটনার পরপরই আসামিকে গ্রেপ্তার, দ্রুত তদন্ত, ডিএনএ পরীক্ষা, অভিযোগপত্র দাখিল এবং বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করার মাধ্যমে সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারের বাস্তব প্রতিফলন ঘটিয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগের মাধ্যমে যথাযথ বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা সত্ত্বেও সরকার আইনের মৌলিক নীতিমালা থেকে বিচ্যুত হয়নি। কারণ ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রত্যেক অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকা আবশ্যক।

তিনি আরও বলেন, বিচারপ্রাপ্তির সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার আইনগত সহায়তা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে। ইতোমধ্যে দেশের প্রতিটি জেলায় লিগ্যাল এইড কমিটি শক্তিশালী করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আইনগত সহায়তা পৌঁছে দিতে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী জানান, মামলা জট কমাতে এবং সাধারণ মানুষের হয়রানি হ্রাস করতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (ADR) ও মধ্যস্থতা (Mediation) কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাহুবলে মাতৃত্বকালীন ভাতা পেতে ভোগান্তি: সময়সীমার আগেই তালিকা চূড়ান্তের অভিযোগ

‘ঘৃণ্য অপরাধেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি’: আইনমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৯:৫৮:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, দেশের সবচেয়ে জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রেও আইনের শাসন, যথাযথ বিচারপ্রক্রিয়া এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির আইনগত প্রতিনিধিত্বের অধিকার নিশ্চিত করা আবশ্যক। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় জনপ্রিয়তার চেয়েও ন্যায়, যুক্তি ও আইনের আলোকে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড লিগ্যাল স্টাডিজ (CALS) আয়োজিত এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশনা ও সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারের বিষয় ছিল “Legal Representation in Death Penalty Cases in Bangladesh: An Empirical and Conceptual Analysis”।

মন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ হলেও বাংলাদেশের বর্তমান সামাজিক বাস্তবতায় এটি বিলোপের প্রশ্নটি অত্যন্ত জটিল। বিশেষ করে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মতো নৃশংস অপরাধের ঘটনায় সমাজের ন্যায়বিচারের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। তবে অপরাধের ধরন যাই হোক না কেন, প্রত্যেক অভিযুক্তের ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

তিনি রামিসা হত্যা মামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ঘটনার পরপরই আসামিকে গ্রেপ্তার, দ্রুত তদন্ত, ডিএনএ পরীক্ষা, অভিযোগপত্র দাখিল এবং বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করার মাধ্যমে সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারের বাস্তব প্রতিফলন ঘটিয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগের মাধ্যমে যথাযথ বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা সত্ত্বেও সরকার আইনের মৌলিক নীতিমালা থেকে বিচ্যুত হয়নি। কারণ ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রত্যেক অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকা আবশ্যক।

তিনি আরও বলেন, বিচারপ্রাপ্তির সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার আইনগত সহায়তা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে। ইতোমধ্যে দেশের প্রতিটি জেলায় লিগ্যাল এইড কমিটি শক্তিশালী করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আইনগত সহায়তা পৌঁছে দিতে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী জানান, মামলা জট কমাতে এবং সাধারণ মানুষের হয়রানি হ্রাস করতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (ADR) ও মধ্যস্থতা (Mediation) কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।