ঢাকা ০৭:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

ফেসবুকে প্রেমের ফাঁদ: সুনামগঞ্জে কিশোরী গণধর্ষণের শিকার, গ্রেপ্তার ৩

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১২:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেমের টানে সিলেটের বিশ্বনাথ থেকে সুনামগঞ্জে এসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার পর তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরীর বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায়। সুনামগঞ্জের জনৈক ‘ভৈরব’ নামের এক যুবকের সঙ্গে ফেসবুকে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই যুবকের সঙ্গে দেখা করতে সুনামগঞ্জে আসে কিশোরীটি। সাক্ষাতের পর উভয়ের ভিন্ন ধর্মাবলম্বী হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ পেলে সম্পর্কটি আর না এগোনোর সিদ্ধান্ত নেয় তারা।

এরপর ‘ভৈরব’ তাৎক্ষণিকভাবে ওই কিশোরীকে তার বন্ধু সোহেল মিয়ার বাসায় রেখে যায়। সেখানে সোহেল মিয়া একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। একপর্যায়ে গত রবিবার সোহেলের মা ওই কিশোরীকে বাসা থেকে চলে যেতে বলেন।

পরে কিশোরীকে সিলেটে পৌঁছে দেওয়ার জন্য দুই বন্ধু এরশাদ ও মাসুমকে দায়িত্ব দেয় সোহেল। কিন্তু তারা কিশোরীকে সিলেটে না নিয়ে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভেতরে মাসুম ও এরশাদ তাকে ধর্ষণ করে। পরে কিশোরী কান্নাকাটি শুরু করলে তাকে বিশ্বম্ভরপুর শহরের ওয়েজখালী এলাকার একটি বাসায় নিয়ে আটকে রাখা হয়।

ওই বাসার মালিক বিষয়টি সোহেলকে জানালে সে কিশোরীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগী কিশোরী বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।

সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ জানান, মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- সুনামগঞ্জ পৌর শহরের বাঁধনপাড়া এলাকার সোহেল মিয়া (৩০), বড়পাড়া এলাকার মাসুম মিয়া (২৫) ও গণিপুর এলাকার মোহাম্মদ এরশাদ (৩৪)।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরাকে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা

ফেসবুকে প্রেমের ফাঁদ: সুনামগঞ্জে কিশোরী গণধর্ষণের শিকার, গ্রেপ্তার ৩

আপডেট সময় : ০৬:১২:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেমের টানে সিলেটের বিশ্বনাথ থেকে সুনামগঞ্জে এসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার পর তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরীর বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায়। সুনামগঞ্জের জনৈক ‘ভৈরব’ নামের এক যুবকের সঙ্গে ফেসবুকে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই যুবকের সঙ্গে দেখা করতে সুনামগঞ্জে আসে কিশোরীটি। সাক্ষাতের পর উভয়ের ভিন্ন ধর্মাবলম্বী হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ পেলে সম্পর্কটি আর না এগোনোর সিদ্ধান্ত নেয় তারা।

এরপর ‘ভৈরব’ তাৎক্ষণিকভাবে ওই কিশোরীকে তার বন্ধু সোহেল মিয়ার বাসায় রেখে যায়। সেখানে সোহেল মিয়া একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। একপর্যায়ে গত রবিবার সোহেলের মা ওই কিশোরীকে বাসা থেকে চলে যেতে বলেন।

পরে কিশোরীকে সিলেটে পৌঁছে দেওয়ার জন্য দুই বন্ধু এরশাদ ও মাসুমকে দায়িত্ব দেয় সোহেল। কিন্তু তারা কিশোরীকে সিলেটে না নিয়ে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভেতরে মাসুম ও এরশাদ তাকে ধর্ষণ করে। পরে কিশোরী কান্নাকাটি শুরু করলে তাকে বিশ্বম্ভরপুর শহরের ওয়েজখালী এলাকার একটি বাসায় নিয়ে আটকে রাখা হয়।

ওই বাসার মালিক বিষয়টি সোহেলকে জানালে সে কিশোরীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগী কিশোরী বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।

সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ জানান, মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- সুনামগঞ্জ পৌর শহরের বাঁধনপাড়া এলাকার সোহেল মিয়া (৩০), বড়পাড়া এলাকার মাসুম মিয়া (২৫) ও গণিপুর এলাকার মোহাম্মদ এরশাদ (৩৪)।