ঢাকা ১১:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

কারখানায় চাঁদা দাবির অভিযোগে বিএনপি-যুবদলের ৩ নেতা গ্রেফতার

গাইবান্ধার সাঘাটায় ‘মোল্লা অ্যাগ্রো ফার্ম’ নামে একটি ফিড উৎপাদন কারখানায় দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে বিএনপি-যুবদল ও ছাত্রদলের তিন নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে সাঘাটা থানা পুলিশ তাদের আদালতে সোপর্দ করলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। এর আগে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাত ৮টার দিকে উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের তেলিয়ান গ্রামে অবস্থিত ওই ফিড উৎপাদন কারখানায় চাঁদা দাবির ঘটনায় তাদের গ্রেফতার করা হয়।

তারা হলেন—বোনারপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সম্রাট মিয়া, ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব হাসান কবির, বোনারপাড়া ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সৃজন আহমেদ শিপন।

পুলিশ ও ‎স্থানীয় সূত্র জানায়, তেলিয়ান গ্রামে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) ডিলার শরিফুল ইসলাম মোল্লার মালিকানাধীন ‘মোল্লা অ্যাগ্রো ফার্মে’ মাছের প্রি-মিক্স খাদ্য উৎপাদন করা হয়। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে কারখানায় দুই লাখ চাঁদা দাবিতে বন্ধ করে দেওয়া হয়। রাতে এ ঘটনায় কারখানার মালিক তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এতে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

কারখানা মালিকের অভিযোগ, অভিযুক্তরা কারখানায় এসে বিভিন্ন কাগজপত্র দেখতে চান। কারখানা কর্তৃপক্ষ জানতে চাইলে তারা কীসের কাগজ দেখতে চান, তখন তারা জানান—কারখানার কার্যক্রম সম্পর্কে তারা অবগত আছেন এবং কাগজপত্র না দেখালে থানায় নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানান।

সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুর রহমান বলেন, ‌‘কারখানা থেকে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলার ভিত্তিতে বোনারপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে গাইবান্ধা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করছে। তদন্তের পর আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।’

কারখানার মালিক শরিফুল ইসলাম মোল্লা বলেন, ‘গ্রেফতার ব্যক্তিরা আমার ম্যানেজারের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কারখানায় গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে হামলার চেষ্টা করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এ ফোন করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা চলে যান। ঘটনার পরপরই সাঘাটা থানায় মামলা করেছি আমরা।’

 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষিণ আফ্রিকাকে মাটিতে নামিয়ে ফাইনালে নিউজিল্যান্ড

কারখানায় চাঁদা দাবির অভিযোগে বিএনপি-যুবদলের ৩ নেতা গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০৯:৩৪:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

গাইবান্ধার সাঘাটায় ‘মোল্লা অ্যাগ্রো ফার্ম’ নামে একটি ফিড উৎপাদন কারখানায় দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে বিএনপি-যুবদল ও ছাত্রদলের তিন নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে সাঘাটা থানা পুলিশ তাদের আদালতে সোপর্দ করলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। এর আগে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাত ৮টার দিকে উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের তেলিয়ান গ্রামে অবস্থিত ওই ফিড উৎপাদন কারখানায় চাঁদা দাবির ঘটনায় তাদের গ্রেফতার করা হয়।

তারা হলেন—বোনারপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সম্রাট মিয়া, ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব হাসান কবির, বোনারপাড়া ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সৃজন আহমেদ শিপন।

পুলিশ ও ‎স্থানীয় সূত্র জানায়, তেলিয়ান গ্রামে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) ডিলার শরিফুল ইসলাম মোল্লার মালিকানাধীন ‘মোল্লা অ্যাগ্রো ফার্মে’ মাছের প্রি-মিক্স খাদ্য উৎপাদন করা হয়। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে কারখানায় দুই লাখ চাঁদা দাবিতে বন্ধ করে দেওয়া হয়। রাতে এ ঘটনায় কারখানার মালিক তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এতে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

কারখানা মালিকের অভিযোগ, অভিযুক্তরা কারখানায় এসে বিভিন্ন কাগজপত্র দেখতে চান। কারখানা কর্তৃপক্ষ জানতে চাইলে তারা কীসের কাগজ দেখতে চান, তখন তারা জানান—কারখানার কার্যক্রম সম্পর্কে তারা অবগত আছেন এবং কাগজপত্র না দেখালে থানায় নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানান।

সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুর রহমান বলেন, ‌‘কারখানা থেকে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলার ভিত্তিতে বোনারপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে গাইবান্ধা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করছে। তদন্তের পর আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।’

কারখানার মালিক শরিফুল ইসলাম মোল্লা বলেন, ‘গ্রেফতার ব্যক্তিরা আমার ম্যানেজারের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কারখানায় গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে হামলার চেষ্টা করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এ ফোন করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা চলে যান। ঘটনার পরপরই সাঘাটা থানায় মামলা করেছি আমরা।’