ঢাকা ১১:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

‘মব’ করে আইনশৃঙ্খলা সভায় জামায়াত নেতাকে মারধরের চেষ্টা বিএনপি নেতাকর্মীদের

মেহেরপুরে ‘মব’ সৃষ্টি করে গাংনী উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে জামায়াত নেতা কাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আলম হুসাইনের ওপর হামলা ও মারধরের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (০৪ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদের হলরুমে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর একটি দল এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সকাল ১০টার দিকে ওই হলরুমে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা শুরু হয়। এতে মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য জামায়াত নেতা নাজমুল হুদা, কাজিপুর ইউপির চেয়ারম্যান আলম হুসাইন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু, উপজেলা জামায়াতের আমির রবিউল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল ও গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

সভায় আলোচনার একপর্যায়ে যুবদলের ২০-২৫ জন নেতাকর্মী একটি দল মিছিল নিয়ে উপজেলা চত্বরে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা ‘একটি করে শিবির ধর, ধরে ধরে জবাই কর,’ ‘কে বলে রে জিয়া নেই, জিয়া সারা বাংলায়’ প্রভৃতি স্লোগান দেন। একপর্যায়ে তারা উপজেলা হলরুমে সভায় প্রবেশ করেন। তারা আলম হুসাইনকে সভা থেকে বের করে দেওয়ার দাবি তুলে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মী সভাকক্ষে প্রবেশ করে আলম হুসাইনের ওপর হামলার চেষ্টা চালান। এ নিয়ে হট্টগোল শুরু হয় এবং সভা পণ্ড হয়ে যায়। খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। উপজেলার হলরুমে যুবদলের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে প্রবেশ করে এমন ঘটনা ঘটানোর ফলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন পুলিশসহ উপস্থিত সবাই। সভা পণ্ড হয়ে গেলে সবাই সেখান থেকে চলে যান।

সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেনসেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন

এরই মধ্যে ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। হট্টগোলের ঘটনায় গাংনী পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইমন হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নাজমুল হক, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সাহিবুল ইসলাম, যুবদল কর্মী বিজয় হোসেন, পৌর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলামকে দেখা যায়। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সভায় উপস্থিত কয়েকজন জানান, উপজেলা প্রশাসনের অধীনে হওয়া ঠিকাদারি কাজ, টিআর-কাবিখা, খাদ্যগুদামে চাল-গম ক্রয়সহ নানা সরকারি কর্মকাণ্ডে আধিপত্য বিস্তার করতে চায় বিএনপির একটি অংশ। ওই উদ্দেশ্য থেকে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ব্যাপারে জামায়াত নেতা কাজিপুর ইউপির চেয়ারম্যান আলম হুসাইন বলেন, ‘আজকের সভায় আসাদুজ্জামান বাবলুও উপস্থিত ছিলেন। তিনি আধিপত্য ধরে রাখতে তার লোকজনকে ফোনে ডেকে নিয়ে আমাকে মারধর করার চেষ্টা করেন। সভায় অনেকে উপস্থিত থাকায় আমাকে মারতে পারেননি। এভাবে সরকারি সভায় মারধর করতে আসা এক রকম মববাজি।’

কেন এমন ঘটনা ঘটেছে জানতে চাইলে আলম হুসাইন বলেন, ‘সম্প্রতি গাংনী উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের পরিষদে চাল বরাদ্দ নিয়ে আসাদুজ্জামান বাবলুর সঙ্গে বিবাদ হয়েছে। এর জের ধরে আজকের ঘটনা ঘটেছে।’

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বিষয়টি ন্যক্কারজনক। এজন্য আমি সবার কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করছি।’ এরপর এমন ঘটনা ঘটলে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।  

গাংনী পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলা বলেন, ‘উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় উপস্থিত থাকেন উপজেলার সর্বোচ্চ কর্মকর্তা ব্যক্তিবর্গ। সেখানে মিছিল নিয়ে সভাকক্ষে নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার ও পুলিশ সদস্যদের ধাক্কা দিয়ে প্রবেশ করে একজন চেয়ারম্যানকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা আমার জীবনের প্রথম দেখা। তারা যে দলের কিংবা যারই অনুসারী হোক, তারা গুরুতর অপরাধ করেছেন। আমি গাংনীর মানুষ ও বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী। ঘটনায় জড়িতদের বিচার চাই।’

উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দীন কালু বলেন, ‘আমাদের উপস্থিতিতে যারা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে তারা সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ। তাদের রুখতে না পারলে গাংনীর বিএনপি মানুষের কাছে সমালোচনার মুখে পড়বে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানাই।’

উপজেলার হলরুমে যুবদলের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে প্রবেশ করে এমন ঘটনা ঘটানোর ফলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন পুলিশসহ উপস্থিত সবাইউপজেলার হলরুমে যুবদলের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে প্রবেশ করে এমন ঘটনা ঘটানোর ফলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন পুলিশসহ উপস্থিত সবাই

উপজেলা জামায়াতের আমির রবিউল ইসলাম বলেন, ‘রাজনীতির নামে এসকল সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের কঠোর হস্তে দমন করা না গেলে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে না। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।’

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এমন ঘটনা দেখে আমিও অন্যদের মতো হতবাক। হতভম্ভ হয়েছি। এটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়া কিছুই নয়।’

ইউএনও আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সরকারি কাজের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে আমরা সচেষ্ট। কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা বা প্রশাসনিক কাজে বাধা বরদাশত করা হবে না। আমরা এমন বাংলাদেশ প্রত্যাশা করিনি। আজকের আইনশৃঙ্খলা সভায় উপজেলার সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের সামনে এসে কী ঘটানো হলো তা বিএনপির যারা নেতৃবৃন্দ আছেন, তারা সবাই দেখেছেন। তাদের সামনে যুবদলের ছেলেরা যা করলো তার দায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকেই নিতে হবে। এর সুষ্ঠু সমাধান না হলে আমরা আইনি প্রক্রিয়ার দিকে যাবো।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনে বিএনপির প্রার্থী আমজাদ হোসেনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছেন জেলা জামায়াতের শুরা সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে পরাজিত হয়ে তারা এখন দখল-বাণিজ্যে নেমেছে। উপজেলা দখল করে স্বেচ্ছাচারিতা করতে চাচ্ছেন আসাদুজ্জামান। তবে সন্ত্রাস করে গাংনীর মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন ছিনিয়ে নিতে দেওয়া হবে না। এখানে শুধুমাত্র জামায়াত নেতা আলম হুসাইনের ওপর হামলার জন্য আসেনি তারা, এ হামলা আমাদের সবার ওপর হয়েছে। এর সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।’

এদিকে জামায়াত নেতার ওপর হামলার চেষ্টার প্রতিবাদে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটিতে লাঠিসোঁটা নিয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায় জামায়াত নেতাকর্মীদের।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষিণ আফ্রিকাকে মাটিতে নামিয়ে ফাইনালে নিউজিল্যান্ড

‘মব’ করে আইনশৃঙ্খলা সভায় জামায়াত নেতাকে মারধরের চেষ্টা বিএনপি নেতাকর্মীদের

আপডেট সময় : ০৯:১২:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

মেহেরপুরে ‘মব’ সৃষ্টি করে গাংনী উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে জামায়াত নেতা কাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আলম হুসাইনের ওপর হামলা ও মারধরের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (০৪ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদের হলরুমে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর একটি দল এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সকাল ১০টার দিকে ওই হলরুমে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা শুরু হয়। এতে মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য জামায়াত নেতা নাজমুল হুদা, কাজিপুর ইউপির চেয়ারম্যান আলম হুসাইন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু, উপজেলা জামায়াতের আমির রবিউল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল ও গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

সভায় আলোচনার একপর্যায়ে যুবদলের ২০-২৫ জন নেতাকর্মী একটি দল মিছিল নিয়ে উপজেলা চত্বরে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা ‘একটি করে শিবির ধর, ধরে ধরে জবাই কর,’ ‘কে বলে রে জিয়া নেই, জিয়া সারা বাংলায়’ প্রভৃতি স্লোগান দেন। একপর্যায়ে তারা উপজেলা হলরুমে সভায় প্রবেশ করেন। তারা আলম হুসাইনকে সভা থেকে বের করে দেওয়ার দাবি তুলে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মী সভাকক্ষে প্রবেশ করে আলম হুসাইনের ওপর হামলার চেষ্টা চালান। এ নিয়ে হট্টগোল শুরু হয় এবং সভা পণ্ড হয়ে যায়। খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। উপজেলার হলরুমে যুবদলের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে প্রবেশ করে এমন ঘটনা ঘটানোর ফলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন পুলিশসহ উপস্থিত সবাই। সভা পণ্ড হয়ে গেলে সবাই সেখান থেকে চলে যান।

সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেনসেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন

এরই মধ্যে ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। হট্টগোলের ঘটনায় গাংনী পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইমন হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নাজমুল হক, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সাহিবুল ইসলাম, যুবদল কর্মী বিজয় হোসেন, পৌর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলামকে দেখা যায়। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সভায় উপস্থিত কয়েকজন জানান, উপজেলা প্রশাসনের অধীনে হওয়া ঠিকাদারি কাজ, টিআর-কাবিখা, খাদ্যগুদামে চাল-গম ক্রয়সহ নানা সরকারি কর্মকাণ্ডে আধিপত্য বিস্তার করতে চায় বিএনপির একটি অংশ। ওই উদ্দেশ্য থেকে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ব্যাপারে জামায়াত নেতা কাজিপুর ইউপির চেয়ারম্যান আলম হুসাইন বলেন, ‘আজকের সভায় আসাদুজ্জামান বাবলুও উপস্থিত ছিলেন। তিনি আধিপত্য ধরে রাখতে তার লোকজনকে ফোনে ডেকে নিয়ে আমাকে মারধর করার চেষ্টা করেন। সভায় অনেকে উপস্থিত থাকায় আমাকে মারতে পারেননি। এভাবে সরকারি সভায় মারধর করতে আসা এক রকম মববাজি।’

কেন এমন ঘটনা ঘটেছে জানতে চাইলে আলম হুসাইন বলেন, ‘সম্প্রতি গাংনী উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের পরিষদে চাল বরাদ্দ নিয়ে আসাদুজ্জামান বাবলুর সঙ্গে বিবাদ হয়েছে। এর জের ধরে আজকের ঘটনা ঘটেছে।’

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বিষয়টি ন্যক্কারজনক। এজন্য আমি সবার কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করছি।’ এরপর এমন ঘটনা ঘটলে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।  

গাংনী পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলা বলেন, ‘উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় উপস্থিত থাকেন উপজেলার সর্বোচ্চ কর্মকর্তা ব্যক্তিবর্গ। সেখানে মিছিল নিয়ে সভাকক্ষে নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার ও পুলিশ সদস্যদের ধাক্কা দিয়ে প্রবেশ করে একজন চেয়ারম্যানকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা আমার জীবনের প্রথম দেখা। তারা যে দলের কিংবা যারই অনুসারী হোক, তারা গুরুতর অপরাধ করেছেন। আমি গাংনীর মানুষ ও বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী। ঘটনায় জড়িতদের বিচার চাই।’

উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দীন কালু বলেন, ‘আমাদের উপস্থিতিতে যারা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে তারা সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ। তাদের রুখতে না পারলে গাংনীর বিএনপি মানুষের কাছে সমালোচনার মুখে পড়বে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানাই।’

উপজেলার হলরুমে যুবদলের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে প্রবেশ করে এমন ঘটনা ঘটানোর ফলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন পুলিশসহ উপস্থিত সবাইউপজেলার হলরুমে যুবদলের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে প্রবেশ করে এমন ঘটনা ঘটানোর ফলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন পুলিশসহ উপস্থিত সবাই

উপজেলা জামায়াতের আমির রবিউল ইসলাম বলেন, ‘রাজনীতির নামে এসকল সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের কঠোর হস্তে দমন করা না গেলে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে না। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।’

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এমন ঘটনা দেখে আমিও অন্যদের মতো হতবাক। হতভম্ভ হয়েছি। এটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়া কিছুই নয়।’

ইউএনও আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সরকারি কাজের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে আমরা সচেষ্ট। কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা বা প্রশাসনিক কাজে বাধা বরদাশত করা হবে না। আমরা এমন বাংলাদেশ প্রত্যাশা করিনি। আজকের আইনশৃঙ্খলা সভায় উপজেলার সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের সামনে এসে কী ঘটানো হলো তা বিএনপির যারা নেতৃবৃন্দ আছেন, তারা সবাই দেখেছেন। তাদের সামনে যুবদলের ছেলেরা যা করলো তার দায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকেই নিতে হবে। এর সুষ্ঠু সমাধান না হলে আমরা আইনি প্রক্রিয়ার দিকে যাবো।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনে বিএনপির প্রার্থী আমজাদ হোসেনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছেন জেলা জামায়াতের শুরা সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে পরাজিত হয়ে তারা এখন দখল-বাণিজ্যে নেমেছে। উপজেলা দখল করে স্বেচ্ছাচারিতা করতে চাচ্ছেন আসাদুজ্জামান। তবে সন্ত্রাস করে গাংনীর মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন ছিনিয়ে নিতে দেওয়া হবে না। এখানে শুধুমাত্র জামায়াত নেতা আলম হুসাইনের ওপর হামলার জন্য আসেনি তারা, এ হামলা আমাদের সবার ওপর হয়েছে। এর সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।’

এদিকে জামায়াত নেতার ওপর হামলার চেষ্টার প্রতিবাদে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটিতে লাঠিসোঁটা নিয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায় জামায়াত নেতাকর্মীদের।