ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে পাওনা টাকা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত অর্ধশত ব্যক্তি আহত হয়েছেন। বুধবার (৪ মার্চ) সকালে উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের শ্রীঘর গ্রামে এই সহিংস ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার রাতে। শ্রীঘর মধ্যপাড়া গ্রামের আরস মিয়া পাওনা টাকা চাইতে গেলে নূরধন মিয়া ও তার লোকজনের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে রাতেই পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মধ্যস্থতা করে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
তবে রাতের উত্তেজনা প্রশমিত হয়নি। গতকালের ঘটনার রেশ ধরে বুধবার সকালে নূরধন মিয়ার পক্ষ নিয়ে শ্রীঘর গ্রামের সাচ্ছার পাড়ার লোকজন আরস মিয়ার সমর্থকদের ওপর চড়াও হয়। মুহূর্তেই এই সংঘাত পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশত গ্রামবাসী আহত হন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে নাসিরনগর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাপক লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং শান্তি বজায় রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহকারী পুলিশ সুপার (সরাইল সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পাওনা টাকা পরিশোধ না করাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রাতে আরস মিয়ার লোকজন শাহজাহান মিয়ার বাবা নূরধন মিয়াকে মারধর করে। এ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ রাতেই হস্তক্ষেপ করে। কিন্তু সকালে আবারও তারা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, যার ফলে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























