ঢাকা ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ: টিআইবির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ডাক

কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ দেওয়া থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি মনে করে, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে ঘিরে বিনা প্রশ্নে কালো টাকা বৈধ করা এবং পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে নিঃশর্ত ক্ষমা দেওয়ার যে আলোচনা সামনে এসেছে, তা অত্যন্ত হতাশাজনক ও উদ্বেগজনক।

টিআইবি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আবাসন খাতের স্থবিরতা দূরীকরণ, শিল্পখাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার যুক্তিতে এ ধরনের সুযোগ দেওয়া সরকারের জন্য আত্মঘাতী হবে। এটি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতি ও অনিয়মকে স্বাভাবিক করে তোলার শামিল। তাই সংস্থাটি কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ চিরতরে বন্ধ করার জোর দাবি জানিয়েছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, স্বাধীনতার পর প্রায় সব সরকারই কোনো না কোনোভাবে ‘অপ্রদর্শিত অর্থ’ বৈধ করার সুযোগ দিয়েছে, যা সংবিধানের ২০(২) অনুচ্ছেদের চেতনার পরিপন্থী। বিগত কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে এই প্রক্রিয়া আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। কখনো বিনা প্রশ্নে, আবার কখনো কম করহারে কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এসব উদ্যোগের ফলে করফাঁকি বেড়েছে এবং সৎ করদাতারা নিরুৎসাহিত হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, কালো টাকা সাদা করার বিধান জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিভিন্ন ধাপে বন্ধ করলেও, বর্তমান সরকারের সেটি পুনরায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা এক ধাপ এগিয়ে দুই ধাপ পিছিয়ে পড়ার মতো। কারণ কালো টাকা সাদা করার সুযোগ প্রদান রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতা দেওয়ারই শামিল, যা বর্তমান সরকারকে বিতর্কিত করার সুযোগ সৃষ্টি করছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের অঙ্গীকার করে বিপুল জনরায়ে নির্বাচিত সরকারের এই অনৈতিক ও আত্মঘাতী চর্চা পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে প্রকৃত অর্থে কী বার্তা দিতে চাচ্ছেন? এক্ষেত্রে সরকারকে স্বার্থান্বেষী ও সুবিধাবাদী শ্রেণির চেয়ে দেশের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ বিবেচনা করে জনআকাঙ্ক্ষা মূল্যায়নে আন্তরিক হওয়া জরুরি।

জাতীয় জুলাই সনদ ২০২৫ এর ৬৭ ধারায় ব্যক্তির অনুপার্জিত আয় ভোগ করার সুযোগ বন্ধের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার পরিপূর্ণ বাস্তবায়নে বিএনপি সহ সকল রাজনৈতিক দল ও জোট সর্বসম্মতভাবে অঙ্গীকার করেছে উল্লেখ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিএনপি তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে দুর্নীতি দমন ক

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনা সিটি মেডিকেল হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড: দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে, হতাহতের খবর নেই

কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ: টিআইবির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ডাক

আপডেট সময় : ১২:১৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ দেওয়া থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি মনে করে, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে ঘিরে বিনা প্রশ্নে কালো টাকা বৈধ করা এবং পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে নিঃশর্ত ক্ষমা দেওয়ার যে আলোচনা সামনে এসেছে, তা অত্যন্ত হতাশাজনক ও উদ্বেগজনক।

টিআইবি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আবাসন খাতের স্থবিরতা দূরীকরণ, শিল্পখাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার যুক্তিতে এ ধরনের সুযোগ দেওয়া সরকারের জন্য আত্মঘাতী হবে। এটি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতি ও অনিয়মকে স্বাভাবিক করে তোলার শামিল। তাই সংস্থাটি কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ চিরতরে বন্ধ করার জোর দাবি জানিয়েছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, স্বাধীনতার পর প্রায় সব সরকারই কোনো না কোনোভাবে ‘অপ্রদর্শিত অর্থ’ বৈধ করার সুযোগ দিয়েছে, যা সংবিধানের ২০(২) অনুচ্ছেদের চেতনার পরিপন্থী। বিগত কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে এই প্রক্রিয়া আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। কখনো বিনা প্রশ্নে, আবার কখনো কম করহারে কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এসব উদ্যোগের ফলে করফাঁকি বেড়েছে এবং সৎ করদাতারা নিরুৎসাহিত হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, কালো টাকা সাদা করার বিধান জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিভিন্ন ধাপে বন্ধ করলেও, বর্তমান সরকারের সেটি পুনরায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা এক ধাপ এগিয়ে দুই ধাপ পিছিয়ে পড়ার মতো। কারণ কালো টাকা সাদা করার সুযোগ প্রদান রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতা দেওয়ারই শামিল, যা বর্তমান সরকারকে বিতর্কিত করার সুযোগ সৃষ্টি করছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের অঙ্গীকার করে বিপুল জনরায়ে নির্বাচিত সরকারের এই অনৈতিক ও আত্মঘাতী চর্চা পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে প্রকৃত অর্থে কী বার্তা দিতে চাচ্ছেন? এক্ষেত্রে সরকারকে স্বার্থান্বেষী ও সুবিধাবাদী শ্রেণির চেয়ে দেশের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ বিবেচনা করে জনআকাঙ্ক্ষা মূল্যায়নে আন্তরিক হওয়া জরুরি।

জাতীয় জুলাই সনদ ২০২৫ এর ৬৭ ধারায় ব্যক্তির অনুপার্জিত আয় ভোগ করার সুযোগ বন্ধের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার পরিপূর্ণ বাস্তবায়নে বিএনপি সহ সকল রাজনৈতিক দল ও জোট সর্বসম্মতভাবে অঙ্গীকার করেছে উল্লেখ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিএনপি তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে দুর্নীতি দমন ক