ঢাকা ১২:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

সুদানে ভয়াবহ ড্রোন হামলায় প্রাণহানি, নিহত ২৩

সুদানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর এল-ওবেইদ এক ভয়াবহ ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। এই হামলায় অন্তত ২৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে একটি মানবাধিকার সংস্থা। ২০২৩ সালে দেশটিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এটি অন্যতম মারাত্মক বিমান হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

২০২৩ সালের এপ্রিলে সুদানের সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ড্রোন হামলা যুদ্ধের একটি প্রধান রণকৌশলগত হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। যুদ্ধের সময় ঘটে যাওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অপরাধের তথ্য সংগ্রহকারী সংগঠন ‘ইমার্জেন্সি লয়ার্স’ জানিয়েছে, দক্ষিণ কর্দোফান অঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ শহরে বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত একটানা হামলা চালানো হয়। ড্রোনগুলো আবাসিক এলাকা, একটি জানাজার জমায়েত এবং খাদ্য সরবরাহকারী একটি ট্রাককে লক্ষ্য করে আঘাত হানে।

সংগঠনটি এই হামলার জন্য আরএসএফকে দায়ী করেছে এবং জানিয়েছে যে হামলায় আরও অন্তত ১৯ জন আহত হয়েছেন। তবে এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং আরএসএফের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। উত্তর কর্দোফানের রাজধানী এল-ওবেইদ শহরটি গত কয়েক মাস ধরে আধাসামরিক বাহিনীর আংশিক অবরোধের মধ্যে রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা হামলার পর সেখানে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের বর্ণনা দিয়েছেন। বহু বাড়িঘর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং নিহতদের মরদেহ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শহরের পূর্বাঞ্চলের আল-মাতার এলাকার এক প্রত্যক্ষদর্শী বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, “বাসিন্দাদের ওপরই ঘরের ছাদ ভেঙে পড়েছে। কিছু বাড়ির অবস্থা দেখে মনে হবে না যে সেখানে কেউ বেঁচে থাকতে পারে।” অন্য একজন বাসিন্দা জানান, হামলায় তার চাচাতো ভাই নিহত হয়েছেন এবং তিনি স্থানীয় একটি হাসপাতালে সাতটিরও বেশি মরদেহ দেখতে পেয়েছেন। একজন চিকিৎসা কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে দুটি শিশু এবং তাদের মা রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে দেশজুড়ে ড্রোন হামলায় অন্তত ৮৮০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। গত অক্টোবরে পশ্চিম দারফুরে সেনাবাহিনীর শেষ বড় ঘাঁটি এল-ফাশের আরএসএফের দখলে যাওয়ার পর থেকে কর্দোফান অঞ্চল এবং ইথিওপিয়া সীমান্তের কাছাকাছি ব্লু নাইল রাজ্যে লড়াই আরও তীব্র হয়েছে। কর্দোফান অঞ্চলটি আরএসএফের ঘাঁটি দারফুরের সাথে পূর্ব সুদানের সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত এলাকার সংযোগস্থল হওয়ায় এটি দুই পক্ষের জন্যই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অভাবের তাড়নায় চা বিক্রেতার মেয়ের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন অনিশ্চিত

সুদানে ভয়াবহ ড্রোন হামলায় প্রাণহানি, নিহত ২৩

আপডেট সময় : ১০:৫৬:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

সুদানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর এল-ওবেইদ এক ভয়াবহ ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। এই হামলায় অন্তত ২৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে একটি মানবাধিকার সংস্থা। ২০২৩ সালে দেশটিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এটি অন্যতম মারাত্মক বিমান হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

২০২৩ সালের এপ্রিলে সুদানের সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ড্রোন হামলা যুদ্ধের একটি প্রধান রণকৌশলগত হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। যুদ্ধের সময় ঘটে যাওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অপরাধের তথ্য সংগ্রহকারী সংগঠন ‘ইমার্জেন্সি লয়ার্স’ জানিয়েছে, দক্ষিণ কর্দোফান অঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ শহরে বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত একটানা হামলা চালানো হয়। ড্রোনগুলো আবাসিক এলাকা, একটি জানাজার জমায়েত এবং খাদ্য সরবরাহকারী একটি ট্রাককে লক্ষ্য করে আঘাত হানে।

সংগঠনটি এই হামলার জন্য আরএসএফকে দায়ী করেছে এবং জানিয়েছে যে হামলায় আরও অন্তত ১৯ জন আহত হয়েছেন। তবে এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং আরএসএফের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। উত্তর কর্দোফানের রাজধানী এল-ওবেইদ শহরটি গত কয়েক মাস ধরে আধাসামরিক বাহিনীর আংশিক অবরোধের মধ্যে রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা হামলার পর সেখানে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের বর্ণনা দিয়েছেন। বহু বাড়িঘর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং নিহতদের মরদেহ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শহরের পূর্বাঞ্চলের আল-মাতার এলাকার এক প্রত্যক্ষদর্শী বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, “বাসিন্দাদের ওপরই ঘরের ছাদ ভেঙে পড়েছে। কিছু বাড়ির অবস্থা দেখে মনে হবে না যে সেখানে কেউ বেঁচে থাকতে পারে।” অন্য একজন বাসিন্দা জানান, হামলায় তার চাচাতো ভাই নিহত হয়েছেন এবং তিনি স্থানীয় একটি হাসপাতালে সাতটিরও বেশি মরদেহ দেখতে পেয়েছেন। একজন চিকিৎসা কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে দুটি শিশু এবং তাদের মা রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে দেশজুড়ে ড্রোন হামলায় অন্তত ৮৮০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। গত অক্টোবরে পশ্চিম দারফুরে সেনাবাহিনীর শেষ বড় ঘাঁটি এল-ফাশের আরএসএফের দখলে যাওয়ার পর থেকে কর্দোফান অঞ্চল এবং ইথিওপিয়া সীমান্তের কাছাকাছি ব্লু নাইল রাজ্যে লড়াই আরও তীব্র হয়েছে। কর্দোফান অঞ্চলটি আরএসএফের ঘাঁটি দারফুরের সাথে পূর্ব সুদানের সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত এলাকার সংযোগস্থল হওয়ায় এটি দুই পক্ষের জন্যই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা।