ঢাকা ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

অভাবের তাড়নায় চা বিক্রেতার মেয়ের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন অনিশ্চিত

রাজশাহীর তানোর উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের একটি ছোট চায়ের দোকানের আয় দিয়েই কোনো রকমে চলে চার সদস্যের সংসার। প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করা সেই চা বিক্রেতা বাবার মেয়ে এবার সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেলেও, ভর্তি হওয়ার পর অর্থসংকটে তার চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

মোসা. মাহমুদা খাতুন তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মেডিকেল কলেজ ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে জামালপুর সরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েছেন এবং ইতোমধ্যে ক্লাসও শুরু হয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় বই, শিক্ষা উপকরণ ও হোস্টেল খরচের টাকা জোগাড় করতে না পারায় পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি ও তার পরিবার।

মাহমুদার বাবা মাসুদ রানা গ্রামের একটি ছোট চায়ের দোকান চালান এবং মা সায়েরা বিবি গৃহিণী। দুই মেয়ের মধ্যে মাহমুদা বড়। ছোট বোন মিম খাতুন স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন মাহমুদা। ২০২৩ সালে এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ এবং ২০২৫ সালে এইচএসসিতেও গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেন। পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে কখনো নিয়মিত কোচিং কিংবা প্রাইভেট পড়ার সুযোগ পাননি। অনেক সময় সহপাঠীদের বই ধার করে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়েছে তাকে।

মাসুদ রানা বলেন, আমরা নিজেরা লেখাপড়া জানি না। কিন্তু মেয়ের পড়ার আগ্রহ দেখে কষ্ট করে তাকে পড়িয়েছি। মেডিকেলে সুযোগ পাওয়ার খবর আমাদের জন্য অনেক বড় আনন্দের ছিল। কিন্তু এখন সেই আনন্দের সঙ্গে যোগ হয়েছে দুশ্চিন্তা। ভর্তির জন্য প্রায় ১৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, সেটাও ধার করে জোগাড় করতে হয়েছে। তিনি জানান, মেডিকেলের প্রথম বর্ষের জন্য প্রয়োজনীয় বই কিনতেই প্রায় ২০ হাজার টাকা লাগবে। পাশাপাশি অ্যানাটমি শিক্ষার জন্য একটি কঙ্কাল (স্কেলেটন) কিনতে হবে, যার মূল্য প্রায় ৪০ হাজার টাকা। এছাড়া প্রতি মাসে হোস্টেল, খাবার ও শিক্ষা উপকরণ বাবদ ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা প্রয়োজন হবে।

মাহমুদার মা সায়েরা বিবি বলেন, আমাদের কোনো জমিজমা নেই। মাত্র দুই শতক জমির ওপর কাঁচা ঘরে বসবাস করি। মেয়েটা ছোটবেলা থেকেই ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখে। সে যেন পড়াশোনা শেষ করে মানুষের সেবা করতে পারে, এজন্য স

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনা সিটি মেডিকেল হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড: দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে, হতাহতের খবর নেই

অভাবের তাড়নায় চা বিক্রেতার মেয়ের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন অনিশ্চিত

আপডেট সময় : ১২:১৯:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

রাজশাহীর তানোর উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের একটি ছোট চায়ের দোকানের আয় দিয়েই কোনো রকমে চলে চার সদস্যের সংসার। প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করা সেই চা বিক্রেতা বাবার মেয়ে এবার সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেলেও, ভর্তি হওয়ার পর অর্থসংকটে তার চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

মোসা. মাহমুদা খাতুন তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মেডিকেল কলেজ ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে জামালপুর সরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েছেন এবং ইতোমধ্যে ক্লাসও শুরু হয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় বই, শিক্ষা উপকরণ ও হোস্টেল খরচের টাকা জোগাড় করতে না পারায় পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি ও তার পরিবার।

মাহমুদার বাবা মাসুদ রানা গ্রামের একটি ছোট চায়ের দোকান চালান এবং মা সায়েরা বিবি গৃহিণী। দুই মেয়ের মধ্যে মাহমুদা বড়। ছোট বোন মিম খাতুন স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন মাহমুদা। ২০২৩ সালে এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ এবং ২০২৫ সালে এইচএসসিতেও গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেন। পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে কখনো নিয়মিত কোচিং কিংবা প্রাইভেট পড়ার সুযোগ পাননি। অনেক সময় সহপাঠীদের বই ধার করে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়েছে তাকে।

মাসুদ রানা বলেন, আমরা নিজেরা লেখাপড়া জানি না। কিন্তু মেয়ের পড়ার আগ্রহ দেখে কষ্ট করে তাকে পড়িয়েছি। মেডিকেলে সুযোগ পাওয়ার খবর আমাদের জন্য অনেক বড় আনন্দের ছিল। কিন্তু এখন সেই আনন্দের সঙ্গে যোগ হয়েছে দুশ্চিন্তা। ভর্তির জন্য প্রায় ১৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, সেটাও ধার করে জোগাড় করতে হয়েছে। তিনি জানান, মেডিকেলের প্রথম বর্ষের জন্য প্রয়োজনীয় বই কিনতেই প্রায় ২০ হাজার টাকা লাগবে। পাশাপাশি অ্যানাটমি শিক্ষার জন্য একটি কঙ্কাল (স্কেলেটন) কিনতে হবে, যার মূল্য প্রায় ৪০ হাজার টাকা। এছাড়া প্রতি মাসে হোস্টেল, খাবার ও শিক্ষা উপকরণ বাবদ ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা প্রয়োজন হবে।

মাহমুদার মা সায়েরা বিবি বলেন, আমাদের কোনো জমিজমা নেই। মাত্র দুই শতক জমির ওপর কাঁচা ঘরে বসবাস করি। মেয়েটা ছোটবেলা থেকেই ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখে। সে যেন পড়াশোনা শেষ করে মানুষের সেবা করতে পারে, এজন্য স