ঢাকা ১২:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

প্রস্তাবিত বাজেটে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী বৃদ্ধি, হজ ব্যবস্থাপনা সহজ করার উদ্যোগ

মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পুরোহিত ও সেবায়েতদের মাসিক সম্মানী ও উৎসব ভাতা প্রদানের পরিধি বাড়াতে আগামী বাজেটে ১ হাজার ৮১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি হজ ব্যবস্থাপনা আরও সাশ্রয়ী ও সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে এসব তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, মসজিদের ক্ষেত্রে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমকে মোট ১০ হাজার টাকা এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পুরোহিত ও সেবায়েতকে মোট ৮ হাজার টাকা মাসিক ভিত্তিতে প্রদান করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত মোট ৬,৪৩৮টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৯,৫২০ জনকে মাসিক সম্মানী ও উৎসব ভাতা প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি তার জীবনের প্রথম বাজেট এবং সদ্য গঠিত বিএনপি সরকারেরও এটি প্রথম বাজেট। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ১৩.৭ শতাংশ। আগামী অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৬.৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৭.৫ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩.৬ শতাংশ। এই ঘাটতির বড় অংশই অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে মেটানোর প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা (জিডিপির ১২.৬ শতাংশ)। সংশোধিত বাজেটে এর আকার প্রাক্কলন করা হয়েছিল ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। সেই হিসাবে এবারের বাজেটের আকার ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণত বাজেট ঘোষণার পর কিছু পণ্য ও সেবার দামে পরিবর্তন আসে। গত বছরের চেয়ে এ বছর বাজেটের আকার বাড়লেও বেশ কিছু পণ্যে উৎস কর, শুল্ক, ভ্যাট ও সারচার্জ বাড়ানো হয়েছে, ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে। আবার কিছু কিছু খাতে করছাড় ও ভর্তুকির ফলে পণ্যের দাম কমবে। এবারের বাজেট বক্তৃতায় কোন খাতে কর বাড়ছে, কোথায় করছাড় দেওয়া হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে এর কী প্রভাব পড়বে, তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অভাবের তাড়নায় চা বিক্রেতার মেয়ের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন অনিশ্চিত

প্রস্তাবিত বাজেটে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী বৃদ্ধি, হজ ব্যবস্থাপনা সহজ করার উদ্যোগ

আপডেট সময় : ১০:৫৬:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পুরোহিত ও সেবায়েতদের মাসিক সম্মানী ও উৎসব ভাতা প্রদানের পরিধি বাড়াতে আগামী বাজেটে ১ হাজার ৮১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি হজ ব্যবস্থাপনা আরও সাশ্রয়ী ও সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে এসব তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানান, মসজিদের ক্ষেত্রে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমকে মোট ১০ হাজার টাকা এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পুরোহিত ও সেবায়েতকে মোট ৮ হাজার টাকা মাসিক ভিত্তিতে প্রদান করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত মোট ৬,৪৩৮টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৯,৫২০ জনকে মাসিক সম্মানী ও উৎসব ভাতা প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি তার জীবনের প্রথম বাজেট এবং সদ্য গঠিত বিএনপি সরকারেরও এটি প্রথম বাজেট। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ১৩.৭ শতাংশ। আগামী অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৬.৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৭.৫ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩.৬ শতাংশ। এই ঘাটতির বড় অংশই অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে মেটানোর প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা (জিডিপির ১২.৬ শতাংশ)। সংশোধিত বাজেটে এর আকার প্রাক্কলন করা হয়েছিল ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। সেই হিসাবে এবারের বাজেটের আকার ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণত বাজেট ঘোষণার পর কিছু পণ্য ও সেবার দামে পরিবর্তন আসে। গত বছরের চেয়ে এ বছর বাজেটের আকার বাড়লেও বেশ কিছু পণ্যে উৎস কর, শুল্ক, ভ্যাট ও সারচার্জ বাড়ানো হয়েছে, ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে। আবার কিছু কিছু খাতে করছাড় ও ভর্তুকির ফলে পণ্যের দাম কমবে। এবারের বাজেট বক্তৃতায় কোন খাতে কর বাড়ছে, কোথায় করছাড় দেওয়া হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে এর কী প্রভাব পড়বে, তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।