ঢাকা ১২:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

গণবিরোধী বাজেট প্রত্যাখ্যান: জামায়াতের বিক্ষোভ ও সংশোধনের দাবি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর কর্তৃক ঘোষিত বাজেটকে ‘গণবিরোধী’ ও ‘শোষণের হাতিয়ার’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। দলটির ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দীন মোল্লা বলেছেন, এই বাজেট জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তর বাড্ডার ওভার ব্রিজের নিচে এক বিক্ষোভ পূর্ব সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নাজিম উদ্দীন মোল্লা। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাতের পরিচালনায় এতে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ডা. ফখরুদ্দিন মানিক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার নো’মান আহমেদি এবং মজলিসে শূরা সদস্য মাওলানা কুতুবউদ্দিন ও ফজলে আহমেদ। বিক্ষোভ মিছিলটি উত্তর বাড্ডা থেকে শুরু হয়ে গুলশান লিংক রোডে গিয়ে শেষ হয়।

নাজিম উদ্দীন মোল্লা বলেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল বাজেট ঘোষণা করে সরকার আত্মতৃপ্তিতে ভুগছে। কিন্তু শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা হয়নি, যা রাষ্ট্রের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোকেও উপেক্ষিত করেছে। জনগণ আশা করেছিল জুলাই বিপ্লবের পর নতুন সরকার একটি জনবান্ধব বাজেট পেশ করবে। কিন্তু সরকার জনগণকে হতাশ করে গণবিরোধী বাজেট দিয়ে স্বৈরাচারী আচরণ শুরু করেছে। এই বাজেটে সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। তাই সরকারকে সময় থাকতে শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে পরামর্শ করে বাজেট সংশোধনের আহ্বান জানাচ্ছি।

ডা. ফখরুদ্দিন মানিক বলেন, বাজেটের আকার বিশাল হলেও এর বাস্তবায়ন সহজসাধ্য হবে না। এত বড় বাজেট বাস্তবায়নের জন্য বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন। কিন্তু সরকার ক্ষমতার দম্ভে সবাইকে উপেক্ষা করার নীতি গ্রহণ করেছে। দেশ ও জাতিকে বিভাজন করা হয়েছে। দেশের বৃহত্তর ইসলামী ব্যাংকগুলোকেও লুটেরা ও নৈরাজ্যবাদীদের হাতে তুলে দেওয়ার অপতৎপরতা চলছে। এসব অব্যাহত থাকলে ঘোষিত বাজেট বাস্তবায়ন কোনোভাবেই সম্ভব নয়। জনগণের ঐক্য ছাড়া এই সরকারের পক্ষে কোনো বাজেটই বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। তিনি জনগণকে আস্থায় নিয়ে সরকারকে ইতিবাচক রাজনীতিতে ফিরে আসার আহ্বান জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অভাবের তাড়নায় চা বিক্রেতার মেয়ের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন অনিশ্চিত

গণবিরোধী বাজেট প্রত্যাখ্যান: জামায়াতের বিক্ষোভ ও সংশোধনের দাবি

আপডেট সময় : ১০:৪৬:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর কর্তৃক ঘোষিত বাজেটকে ‘গণবিরোধী’ ও ‘শোষণের হাতিয়ার’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। দলটির ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দীন মোল্লা বলেছেন, এই বাজেট জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তর বাড্ডার ওভার ব্রিজের নিচে এক বিক্ষোভ পূর্ব সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নাজিম উদ্দীন মোল্লা। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাতের পরিচালনায় এতে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ডা. ফখরুদ্দিন মানিক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার নো’মান আহমেদি এবং মজলিসে শূরা সদস্য মাওলানা কুতুবউদ্দিন ও ফজলে আহমেদ। বিক্ষোভ মিছিলটি উত্তর বাড্ডা থেকে শুরু হয়ে গুলশান লিংক রোডে গিয়ে শেষ হয়।

নাজিম উদ্দীন মোল্লা বলেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল বাজেট ঘোষণা করে সরকার আত্মতৃপ্তিতে ভুগছে। কিন্তু শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা হয়নি, যা রাষ্ট্রের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোকেও উপেক্ষিত করেছে। জনগণ আশা করেছিল জুলাই বিপ্লবের পর নতুন সরকার একটি জনবান্ধব বাজেট পেশ করবে। কিন্তু সরকার জনগণকে হতাশ করে গণবিরোধী বাজেট দিয়ে স্বৈরাচারী আচরণ শুরু করেছে। এই বাজেটে সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। তাই সরকারকে সময় থাকতে শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে পরামর্শ করে বাজেট সংশোধনের আহ্বান জানাচ্ছি।

ডা. ফখরুদ্দিন মানিক বলেন, বাজেটের আকার বিশাল হলেও এর বাস্তবায়ন সহজসাধ্য হবে না। এত বড় বাজেট বাস্তবায়নের জন্য বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন। কিন্তু সরকার ক্ষমতার দম্ভে সবাইকে উপেক্ষা করার নীতি গ্রহণ করেছে। দেশ ও জাতিকে বিভাজন করা হয়েছে। দেশের বৃহত্তর ইসলামী ব্যাংকগুলোকেও লুটেরা ও নৈরাজ্যবাদীদের হাতে তুলে দেওয়ার অপতৎপরতা চলছে। এসব অব্যাহত থাকলে ঘোষিত বাজেট বাস্তবায়ন কোনোভাবেই সম্ভব নয়। জনগণের ঐক্য ছাড়া এই সরকারের পক্ষে কোনো বাজেটই বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। তিনি জনগণকে আস্থায় নিয়ে সরকারকে ইতিবাচক রাজনীতিতে ফিরে আসার আহ্বান জানান।