ঢাকা ১১:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচন পেছাল: রমজানের পরে ভোটগ্রহণ, নতুন তফসিল ঘোষণা

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২০২৭ সেশন কার্যকরী কমিটির নির্বাচন রমজান মাস উপলক্ষে পেছানো হয়েছে। আইনজীবী সমিতির প্রার্থী ও সাধারণ সদস্যদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন সময়সূচী অনুযায়ী, আগামী ১৩ ও ১৪ মে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

গতকাল রোববার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দ্বিতীয় তলার দক্ষিণ হলে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সাধারণ সভায় এই তারিখ নির্ধারণ করা হয়। পূর্বে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচন আগামী ১১ ও ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ১৮ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে মনোনয়ন জমা ও প্রত্যাহার সংক্রান্ত একটি নোটিশ জারি করা হয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়েছিল এবং গতকাল রোববার ছিল ফরম সংগ্রহের শেষ দিন। আইনজীবীদের দাবির মুখে এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে।

পূর্বের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ ছিল। ১ মার্চ সকাল সাড়ে ৯টায় মনোনয়নপত্র বাছাই এবং ৪ মার্চ বেলা ৩টার মধ্যে তা প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারিত ছিল। গতকালের বিশেষ সাধারণ সভায় এই সব তারিখ স্থগিত করে নতুন করে ভোটগ্রহণের তারিখ ১৩ ও ১৪ মে নির্ধারণ করা হয়েছে। এই নতুন তারিখ অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট বার কর্তৃপক্ষ নতুন করে তফসিল ঘোষণা করবে।

কার্যকরী কমিটিতে মোট ১৪টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে সভাপতি পদে একটি, সহসভাপতি পদে দুটি, সম্পাদক পদে একটি, কোষাধ্যক্ষ পদে একটি, সহসম্পাদক পদে দুটি এবং কার্যকরী কমিটির সদস্য পদে সাতটি পদ।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৬-৭ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট বারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই নির্বাচনে বিএনপি সমর্থকরা সভাপতি ও তিন কার্যনির্বাহী সদস্যসহ চারটি পদে এবং আওয়ামী সমর্থকরা সম্পাদকসহ দশটি পদে জয়লাভ করেন। তবে, নির্বাচনে ব্যাপক মারামারি ও ভোট কারচুপির অভিযোগ উঠেছিল।

পরবর্তীতে, ৫ আগস্ট এক পটপরিবর্তনের পর কার্যনির্বাহী কমিটির কাজে স্থবিরতা দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে, সভাপতি এএম মাহবুব উদ্দিন খোকনকে বহাল রেখে নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীদের বিভিন্ন পদে অন্তর্ভুক্ত করে একটি অন্তর্বর্তীকালীন কার্যনির্বাহী (অ্যাডহক) কমিটি গঠন করা হয়। গত বছরও নির্বাচনের দাবি উঠলেও তা অনুষ্ঠিত হয়নি। পরবর্তীতে, সুপ্রিম কোর্ট বারের অ্যাডহক কমিটির এক বিশেষ সাধারণ সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, ত্রয়োদশ নির্বাচনের পর বারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান-ইসরাইল সংঘাত: ইসরাইলের দাবি, আকাশপথে ২০০০টির বেশি বোমা বর্ষণ

সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচন পেছাল: রমজানের পরে ভোটগ্রহণ, নতুন তফসিল ঘোষণা

আপডেট সময় : ০৯:৪২:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২০২৭ সেশন কার্যকরী কমিটির নির্বাচন রমজান মাস উপলক্ষে পেছানো হয়েছে। আইনজীবী সমিতির প্রার্থী ও সাধারণ সদস্যদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন সময়সূচী অনুযায়ী, আগামী ১৩ ও ১৪ মে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

গতকাল রোববার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দ্বিতীয় তলার দক্ষিণ হলে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সাধারণ সভায় এই তারিখ নির্ধারণ করা হয়। পূর্বে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচন আগামী ১১ ও ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ১৮ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে মনোনয়ন জমা ও প্রত্যাহার সংক্রান্ত একটি নোটিশ জারি করা হয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়েছিল এবং গতকাল রোববার ছিল ফরম সংগ্রহের শেষ দিন। আইনজীবীদের দাবির মুখে এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে।

পূর্বের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ ছিল। ১ মার্চ সকাল সাড়ে ৯টায় মনোনয়নপত্র বাছাই এবং ৪ মার্চ বেলা ৩টার মধ্যে তা প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারিত ছিল। গতকালের বিশেষ সাধারণ সভায় এই সব তারিখ স্থগিত করে নতুন করে ভোটগ্রহণের তারিখ ১৩ ও ১৪ মে নির্ধারণ করা হয়েছে। এই নতুন তারিখ অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট বার কর্তৃপক্ষ নতুন করে তফসিল ঘোষণা করবে।

কার্যকরী কমিটিতে মোট ১৪টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে সভাপতি পদে একটি, সহসভাপতি পদে দুটি, সম্পাদক পদে একটি, কোষাধ্যক্ষ পদে একটি, সহসম্পাদক পদে দুটি এবং কার্যকরী কমিটির সদস্য পদে সাতটি পদ।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৬-৭ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট বারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই নির্বাচনে বিএনপি সমর্থকরা সভাপতি ও তিন কার্যনির্বাহী সদস্যসহ চারটি পদে এবং আওয়ামী সমর্থকরা সম্পাদকসহ দশটি পদে জয়লাভ করেন। তবে, নির্বাচনে ব্যাপক মারামারি ও ভোট কারচুপির অভিযোগ উঠেছিল।

পরবর্তীতে, ৫ আগস্ট এক পটপরিবর্তনের পর কার্যনির্বাহী কমিটির কাজে স্থবিরতা দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে, সভাপতি এএম মাহবুব উদ্দিন খোকনকে বহাল রেখে নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থীদের বিভিন্ন পদে অন্তর্ভুক্ত করে একটি অন্তর্বর্তীকালীন কার্যনির্বাহী (অ্যাডহক) কমিটি গঠন করা হয়। গত বছরও নির্বাচনের দাবি উঠলেও তা অনুষ্ঠিত হয়নি। পরবর্তীতে, সুপ্রিম কোর্ট বারের অ্যাডহক কমিটির এক বিশেষ সাধারণ সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, ত্রয়োদশ নির্বাচনের পর বারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।