ঢাকা ০৮:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

খামেনির হ ত্যা র প্রতিবাদে উত্তাল করাচি: বিচার দাবিতে রাজপথে জনস্রোত, নিরাপত্তা জোরদার

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হ ত্যা র খবরে পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী করাচি বি ক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ মঙ্গলবার (গতকাল) দুপুর থেকে রাস্তায় নেমে এসেছেন। তারা এই হ ত্যা কাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত বিচার দাবি করছেন। শহরের বিভিন্ন স্থানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে করাচির বিভিন্ন শিয়া অধ্যুষিত এলাকায় বিক্ষোভকারীরা জড়ো হতে শুরু করেন। প্রধান সড়কগুলোতে টায়ার জ্বালিয়ে বি ক্ষোভ প্রদর্শন করা হয় এবং ‘আমেরিকা নিপাত যাক’, ‘ইসরায়েল নিপাত যাক’ এবং ‘খামেনির হ ত্যা র বিচার চাই’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে এলাকাগুলো। বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল আয়াতুল্লাহ খামেনির ছবি সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন। অনেককে বি ক্ষোভে ফেটে পড়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দেখা যায়।

মূলত, করাচির মালির, গুলশান-ই-ইকবাল, নর্থ নাজিমাবাদ এবং শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ অন্যান্য এলাকায় বি ক্ষোভ তীব্র রূপ নেয়। শিয়া আলেম ও রাজনৈতিক নেতারা বি ক্ষোভকারীদের নেতৃত্ব দেন। তারা এই হ ত্যা কাণ্ডকে মুসলিম বিশ্বের ওপর এক চরম আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এই হ ত্যা কাণ্ড ঘটিয়েছে।

বি ক্ষোভের কারণে শহরের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটে এবং কিছু দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে করাচি পুলিশ এবং রেঞ্জার্স এর বিপুল সংখ্যক সদস্যকে বি ক্ষোভস্থলগুলোতে মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মকর্তারা বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের সং ঘ র্ষের খবর পাওয়া যায়নি।

পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া না হলেও, শিয়া সম্প্রদায়ের নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, দোষীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে। একই সাথে, তারা ইরান ও মুসলিম বিশ্বের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। এই হ ত্যা কাণ্ড মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের প্রেসিডেন্টের

খামেনির হ ত্যা র প্রতিবাদে উত্তাল করাচি: বিচার দাবিতে রাজপথে জনস্রোত, নিরাপত্তা জোরদার

আপডেট সময় : ০৬:৫৮:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হ ত্যা র খবরে পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী করাচি বি ক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ মঙ্গলবার (গতকাল) দুপুর থেকে রাস্তায় নেমে এসেছেন। তারা এই হ ত্যা কাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত বিচার দাবি করছেন। শহরের বিভিন্ন স্থানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে করাচির বিভিন্ন শিয়া অধ্যুষিত এলাকায় বিক্ষোভকারীরা জড়ো হতে শুরু করেন। প্রধান সড়কগুলোতে টায়ার জ্বালিয়ে বি ক্ষোভ প্রদর্শন করা হয় এবং ‘আমেরিকা নিপাত যাক’, ‘ইসরায়েল নিপাত যাক’ এবং ‘খামেনির হ ত্যা র বিচার চাই’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে এলাকাগুলো। বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল আয়াতুল্লাহ খামেনির ছবি সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন। অনেককে বি ক্ষোভে ফেটে পড়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দেখা যায়।

মূলত, করাচির মালির, গুলশান-ই-ইকবাল, নর্থ নাজিমাবাদ এবং শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ অন্যান্য এলাকায় বি ক্ষোভ তীব্র রূপ নেয়। শিয়া আলেম ও রাজনৈতিক নেতারা বি ক্ষোভকারীদের নেতৃত্ব দেন। তারা এই হ ত্যা কাণ্ডকে মুসলিম বিশ্বের ওপর এক চরম আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এই হ ত্যা কাণ্ড ঘটিয়েছে।

বি ক্ষোভের কারণে শহরের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটে এবং কিছু দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে করাচি পুলিশ এবং রেঞ্জার্স এর বিপুল সংখ্যক সদস্যকে বি ক্ষোভস্থলগুলোতে মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মকর্তারা বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের সং ঘ র্ষের খবর পাওয়া যায়নি।

পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া না হলেও, শিয়া সম্প্রদায়ের নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, দোষীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে। একই সাথে, তারা ইরান ও মুসলিম বিশ্বের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। এই হ ত্যা কাণ্ড মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।