ঢাকা ০৯:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ব্যাপক হামলা: আঞ্চলিক উত্তেজনায় নতুন মাত্রা

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ইরান একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যা এই অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। ইরান দাবি করেছে, তাদের এই হামলা পূর্বপরিকল্পিত এবং সন্ত্রাসবাদী ও ইসরায়েলি গুপ্তচরবৃত্তি সংশ্লিষ্ট ঘাঁটি লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। তবে আক্রান্ত দেশগুলো এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং এটিকে তাদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

জানা গেছে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ইরাক, সিরিয়া এবং পাকিস্তানের নির্দিষ্ট কিছু স্থানে এই হামলা পরিচালনা করেছে। ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের রাজধানী এরবিলে অবস্থিত একটি ভবনে হামলা চালানো হয়, যাকে ইরান ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সদর দপ্তর বলে দাবি করেছে। ইরাকি কর্তৃপক্ষ অবশ্য এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, হামলার শিকার ভবনটি একজন কুর্দি ব্যবসায়ীর ব্যক্তিগত বাসস্থান ছিল। এই হামলায় বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

একই সময়ে, সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশে আইএসআইএস (ইসলামিক স্টেট) সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর আস্তানা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। ইরান জানিয়েছে, সম্প্রতি কেরমানে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। এর পাশাপাশি, পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় সুন্নি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী জইশ আল-আদল-এর দুটি ঘাঁটিতেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পাকিস্তান এই হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এটিকে তাদের সার্বভৌমত্বের উপর অনাকাঙ্ক্ষিত আক্রমণ হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

ইরানের এই আকস্মিক ও সমন্বিত হামলা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আক্রান্ত দেশগুলো ছাড়াও আন্তর্জাতিক মহল এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলার ঘটনা আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের প্রেসিডেন্টের

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ব্যাপক হামলা: আঞ্চলিক উত্তেজনায় নতুন মাত্রা

আপডেট সময় : ০৭:২২:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ইরান একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যা এই অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। ইরান দাবি করেছে, তাদের এই হামলা পূর্বপরিকল্পিত এবং সন্ত্রাসবাদী ও ইসরায়েলি গুপ্তচরবৃত্তি সংশ্লিষ্ট ঘাঁটি লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। তবে আক্রান্ত দেশগুলো এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং এটিকে তাদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

জানা গেছে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ইরাক, সিরিয়া এবং পাকিস্তানের নির্দিষ্ট কিছু স্থানে এই হামলা পরিচালনা করেছে। ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের রাজধানী এরবিলে অবস্থিত একটি ভবনে হামলা চালানো হয়, যাকে ইরান ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সদর দপ্তর বলে দাবি করেছে। ইরাকি কর্তৃপক্ষ অবশ্য এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, হামলার শিকার ভবনটি একজন কুর্দি ব্যবসায়ীর ব্যক্তিগত বাসস্থান ছিল। এই হামলায় বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

একই সময়ে, সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশে আইএসআইএস (ইসলামিক স্টেট) সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর আস্তানা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। ইরান জানিয়েছে, সম্প্রতি কেরমানে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। এর পাশাপাশি, পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় সুন্নি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী জইশ আল-আদল-এর দুটি ঘাঁটিতেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পাকিস্তান এই হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এটিকে তাদের সার্বভৌমত্বের উপর অনাকাঙ্ক্ষিত আক্রমণ হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

ইরানের এই আকস্মিক ও সমন্বিত হামলা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আক্রান্ত দেশগুলো ছাড়াও আন্তর্জাতিক মহল এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলার ঘটনা আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে।