নির্বাচনি ফলাফলে জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে চারটি সংসদীয় আসনের (ঢাকা-৬, ঢাকা-৭, গাইবান্ধা-৪ এবং শেরপুর-১) ব্যালট পেপার, ফলাফল শিটসহ সংশ্লিষ্ট সব নথি নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্টের নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
জানা গেছে, এসব আসনে নির্বাচনি ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে জামায়াতে ইসলামী এবং বিএনপির পরাজিত প্রার্থীরা আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে ঢাকা-৬ আসনে বিএনপি প্রার্থী ইশরাক হোসেনের নামও রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী তিনটি আসনের (ঢাকা-৬, ঢাকা-৭ ও গাইবান্ধা-৪) ফলাফলের বিরুদ্ধে আবেদন করে, অন্যদিকে শেরপুর-১ আসনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করেন বিএনপির একজন পরাজিত প্রার্থী। শুনানি শেষে আদালত এই নির্দেশনা দেন।
জামায়াতে ইসলামীর আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির আদালতকে জানান, তাদের কাছে এমন ফলাফল শিট রয়েছে, যেখানে পোলিং এজেন্টের নাম বা নির্বাচন কমিশনের কোনো প্রতীক নেই। আবার কোনো কোনো শিটে ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে, যা প্রমাণ করে যে দু’ধরনের ফলাফল শিট তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বেশ কিছু ফলাফল শিটে পেন্সিল দিয়ে লেখা রয়েছে এবং সেখানে ‘বৈধ ভোট’ অংশে শূন্য দেখানো হয়েছে। অনেক শিটে কেন্দ্রের নামও উল্লেখ নেই, যা ছাপানো অক্ষরে থাকার কথা।
ব্যারিস্টার শাহরিয়ার আরও বলেন, এই তিনটি আসনে ভোটের ব্যবধান পাঁচ হাজারেরও কম ছিল। এছাড়া, হাজার হাজার পোস্টাল ভোট (প্রায় ৬-৭ হাজার) গণনা করা হয়নি বা বাতিল দেখানো হয়েছে।
আইনজীবী জানান, এসব জালিয়াতি ও অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ দেখে আদালত সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট সব ব্যালট পেপার ও ফলাফল শিট আলাদাভাবে আদালতের হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। পরবর্তী শুনানির জন্য ৩ ও ১০ মার্চ তারিখ ধার্য করা হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই তিনটি আসন দিয়ে শুনানি শুরু হলেও, জামায়াতে ইসলামী ধাপে ধাপে মোট ৩০টি আসনে নির্বাচনি জালিয়াতির প্রমাণসহ আবেদন করবে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনি অনিয়মের বিরুদ্ধে আবেদন শুনানির জন্য হাইকোর্টে ‘নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করা হয়। বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক বেঞ্চ এসব আবেদনের শুনানি গ্রহণ করছেন।
রিপোর্টারের নাম 






















