## শিরোনাম: রুমমেটের ওপর ক্ষোভ: বন্ধুকে হত্যা করে সাত টুকরোয় বিভক্ত করে দেহ ফেলল যুবক
ঢাকা: রাজধানীর পল্টন ও স্টেডিয়াম এলাকায় এক যুবকের কাটা হাত-পা উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে রয়েছে এক রোমহর্ষক ঘটনা, যা পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। জানা গেছে, ভুক্তভোগী তার রুমমেটকে সারাদিন কাজের শেষে ঘুমানোর সময় জোরে জোরে কথা বলে বিরক্ত করায় এবং নানা অজুহাতে তাকে দিয়ে কাজ করিয়ে ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই এই ঘটনা, এমনটাই জানিয়েছে পুলিশ।
গত রবিবার দুপুরে মিন্টো রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হারুন-অর-রশীদ এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, শনিবার স্টেডিয়ামের সামনে দুটি হাত উদ্ধারের পর ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করা হয়। শনাক্তকৃত ব্যক্তির নাম ওবায়দুল্লাহ, তিনি নরসিংদীর শিবপুর এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশের ভাষ্যমতে, নিহত ওবায়দুল্লাহ একটি হোমিওপ্যাথি প্রতিষ্ঠানে মার্কেটিংয়ে চাকরি করতেন। তার রুমমেট, শাহীন, হোটেল হিরাঝিলে চাকরি করত। তারা উত্তরা জসিমউদ্দীন এলাকায় একটি কক্ষে একসাথে বসবাস করতেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহীন পুলিশকে জানায় যে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে প্রায় ৮টার দিকে সে ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করে। এরপর রাত ৯টার পর থেকে বিভিন্ন স্থানে দেহের খণ্ডিত অংশ ফেলে দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে ডিসি হারুন-অর-রশীদ ঘটনার পেছনের কারণগুলো বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, ঘটনার রাতে ওবায়দুল্লাহ শাহীনকে সিগারেট আনতে বলে। শাহীনের কাছে টাকা না থাকায় সে আনতে পারেনি। পরে রাতে বাসায় ফেরার পর ওবায়দুল্লাহ আবারও তাকে নান রুটি ও কাবাব আনতে পাঠায়। কাবাব ও নানরুটি আনার পর ওবায়দুল্লাহ একাই সেগুলো খেয়ে ফেলে, যা শাহীনের মনে ক্ষোভের সঞ্চার করে।
সবচেয়ে বড় ঘটনা ঘটে রাতে, যখন ওবায়দুল্লাহ ঘুমানোর সময় ফোনে জোরে জোরে কথা বলছিল। ক্লান্ত শাহীন এতে অত্যন্ত বিরক্ত হয় এবং ওবায়দুল্লাহকে আস্তে কথা বলার অনুরোধ করে। এই নিয়ে দু’জনের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। এক পর্যায়ে ওবায়দুল্লাহ শাহীনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। সেই রাতেই ওবায়দুল্লাহ বাথরুমে কাপড় ধুতে গেলে, পেছন থেকে শাহীন ধারালো চাপাতি দিয়ে তার ঘাড় ও গলায় আঘাত করে হত্যা করে।
পরবর্তীতে নিজের অপরাধ ঢাকতে এবং ধরা পড়ার ভয়ে শাহীন ওবায়দুল্লাহর মরদেহ সাত টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয়। নয়াপল্টনে আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারের বিপরীতে দুটি হাত, বায়তুল মোকাররমের একটি গেটের পাশে একটি পা এবং কমলাপুর রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় মাথাটি ফেলে দেওয়া হয়। কমলাপুরের ময়লা বোঝাই কন্টেইনারে একটি ড্রামে দেহের অংশবিশেষ ফেলা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে শাহীন আরও জানায় যে, বাকি অংশগুলো আমিনবাজার সালিপুর ব্রিজ থেকে ফেলা হয়েছে। পুলিশ বর্তমানে সেই অংশগুলো উদ্ধারের জন্য অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ওবায়দুল্লাহ নরসিংদীর শিবপুর তাতার গ্রামের আব্দুল হামিদ মিয়ার ছেলে। তার মায়ের নাম রানী বেগম। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এখনও চলছে এবং পুলিশ বাকি অংশগুলো উদ্ধারের জন্য তৎপর রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























