দেশের সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর সার্বিক উন্নয়নে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই কার্ডের মাধ্যমে নির্বাচিত পরিবারগুলোকে নিয়মিত নগদ সহায়তা প্রদান করা হবে, যা নারীর ক্ষমতায়ন, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো মৌলিক বিষয়গুলোকে শক্তিশালী করবে। সমাজকল্যাণ ও মহিলা এবং শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন রবিবার ঢাকার কড়াইল ও সাততলা বস্তি পরিদর্শনকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।
টিএনটি বালক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাইলটিং কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ শেষে মন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ১৫(ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা রয়েছে, তাকে আধুনিক ডিজিটাল কাঠামোর মাধ্যমে বাস্তবে রূপ দিতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদপ্তর ‘ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে। এই কর্মসূচির মূল দর্শন হলো ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’।
দেশে বর্তমানে প্রচলিত ৯৫টিরও বেশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মধ্যে যে সমন্বয়হীনতা, একই ব্যক্তির একাধিক সুবিধা গ্রহণ এবং প্রকৃত দরিদ্রদের বাদ পড়ার মতো ত্রুটিগুলো বিদ্যমান, তা দূর করে একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তোলাই এই কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য। মন্ত্রী আরও জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-কে প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি ‘সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড’-এ রূপান্তর করার একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে।
সুবিধভোগী পরিবার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হিসেবে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ (পিএমটি) স্কোরিং ব্যবহার করা হবে। পাইলটিং পর্যায়ে, ০-১০০০ স্কোরের মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় কোয়ান্টাইলের অন্তর্ভুক্ত অতি দরিদ্র, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হবে। নির্দিষ্ট সময় অন্তর দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা পর্যালোচনা ও মূল্যায়নের মাধ্যমে দারিদ্র্যের এই ধাপগুলো পুনর্নির্ধারণ করারও সুযোগ থাকবে। গ্রামীণ এলাকায়, বসতভিটাসহ আবাদি জমির পরিমাণ ০.৫০ একর বা তার কম এবং পরিবারের মাসিক আয় ও সম্পদের ভিত্তিতে এই যোগ্যতা নির্ধারিত হবে। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে, এই কার্ডটি সরাসরি পরিবারের ‘মা’ বা ‘নারী প্রধান’ সদস্যের নামে ইস্যু করা হবে।
ডা. জাহিদ হোসেন আরও জানান, পাইলট কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত প্রতিটি পরিবার মাসিক ২,৫০০ টাকা সরাসরি নগদ সহায়তা পাবে। সরকারি কোষাগার থেকে এই অর্থ ‘জিটুপি’ (সরকার থেকে ব্যক্তি) পদ্ধতিতে সরাসরি সুবিধাভোগী নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। এছাড়াও, বিদ্যমান টিসিবি কার্ডগুলোকেও ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিম্মি’ (DSR)-এ স্থানান্তর করা হবে।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী কড়াইল ও সাততলা বস্তিতে বসবাসকারী সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। এ সময় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, মন্ত্রণালয়ের ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 























