ঢাকা ০৯:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পাসপোর্টে জাল সিল: ২ আফ্রিকান নাগরিক রিমান্ডে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:১০:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

পাসপোর্টে আগমনী সিল জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার দুই আফ্রিকান নাগরিককে দুই দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনজুরুল ইসলাম তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বিমানবন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাদ্দাম হোসেনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই আদেশ দেন।

রিমান্ডে যাওয়া এই দুই বিদেশি নাগরিক হলেন ২৬ বছর বয়সী নাইজেরিয়ার চিমারোকে ম্যাগনাস উজোইগি এবং ২৯ বছর বয়সী আইভরিকোস্টের ফ্র্যাংক কফি। এর আগে গত শুক্রবার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের আটক করে। পরে ইমিগ্রেশন পুলিশের পরিদর্শক এবি এম নূর উদ্দিন বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

শনিবার আসামিদের আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। এসময় এজলাসে তোলার সময় ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে আসামিরা এক সাংবাদিকের ওপর চড়াও হন।

রিমান্ডের বিষয়ে শুনানি শুরু হলে বিচারক তদন্ত কর্মকর্তার কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চান। জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, আসামিরা বিদেশে যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার সন্দেহ হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের অনুসন্ধান চালিয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশ দেখতে পায় যে তাদের তথ্য মিথ্যা এবং পাসপোর্টে ব্যবহৃত আগমনী সিলগুলো জাল। এরপরই তাদের গ্রেপ্তার করে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

আসামিদের পক্ষে আইনজীবী নজরুল ইসলাম মামুন রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। তিনি বলেন, “আসামিদের একজন ফুটবলার, অন্যজন পোশাক ব্যবসায়ী। তারা এই অভিযোগ সম্পর্কে কিছুই জানেন না। সুতরাং তাদের রিমান্ড চাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।”

তবে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মো. আবু বক্কর সিদ্দিক শুনানিতে আসামিদের রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাদের দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসে নাইজেরিয়া ও ইথিওপিয়া যাওয়ার জন্য দুই বিদেশি নাগরিক বিমানবন্দরের ২ নম্বর বহির্গমন টার্মিনালের ২৫ নম্বর ডেস্কে যান। সেখানে তাদের পাসপোর্টের সিল সন্দেহজনক মনে হওয়ায় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা বিষয়টি টার্মিনালের ইনচার্জকে অবগত করেন। ইনচার্জ পরবর্তীতে অধিকতর তদন্তের জন্য বিষয়টি ওসি ইমিগ্রেশনের কাছে পাঠান। ওসি ইমিগ্রেশন যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ইমিগ্রেশন পুলিশ পরিদর্শক এবি এম নূর উদ্দিনের কাছে পাঠান।

পরিদর্শক নূর উদ্দিন আসামিদের বাংলাদেশে আসার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানান যে তারা ভারত হয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। তবে নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করে দেখা যায়, তাদের পাসপোর্টে থাকা ভারত ত্যাগের (অ্যারাইভাল/ডিপার্চার) সিলগুলো জাল। ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের যে সিল তারা ব্যবহার করেছেন, সেগুলো বৈধ নয়। মূলত অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের উদ্দেশ্যেই তারা পাসপোর্টে এই জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিলেন। এরপর গত শুক্রবার বিকাল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের বিমানবন্দর থেকে আটক করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানজুড়ে মার্কিন-ইসরাইলি হামলার ব্যাপকতা: ২০ প্রদেশ ক্ষতিগ্রস্ত

পাসপোর্টে জাল সিল: ২ আফ্রিকান নাগরিক রিমান্ডে

আপডেট সময় : ০৭:১০:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পাসপোর্টে আগমনী সিল জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার দুই আফ্রিকান নাগরিককে দুই দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনজুরুল ইসলাম তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বিমানবন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাদ্দাম হোসেনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই আদেশ দেন।

রিমান্ডে যাওয়া এই দুই বিদেশি নাগরিক হলেন ২৬ বছর বয়সী নাইজেরিয়ার চিমারোকে ম্যাগনাস উজোইগি এবং ২৯ বছর বয়সী আইভরিকোস্টের ফ্র্যাংক কফি। এর আগে গত শুক্রবার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের আটক করে। পরে ইমিগ্রেশন পুলিশের পরিদর্শক এবি এম নূর উদ্দিন বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

শনিবার আসামিদের আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। এসময় এজলাসে তোলার সময় ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে আসামিরা এক সাংবাদিকের ওপর চড়াও হন।

রিমান্ডের বিষয়ে শুনানি শুরু হলে বিচারক তদন্ত কর্মকর্তার কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চান। জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, আসামিরা বিদেশে যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার সন্দেহ হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের অনুসন্ধান চালিয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশ দেখতে পায় যে তাদের তথ্য মিথ্যা এবং পাসপোর্টে ব্যবহৃত আগমনী সিলগুলো জাল। এরপরই তাদের গ্রেপ্তার করে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

আসামিদের পক্ষে আইনজীবী নজরুল ইসলাম মামুন রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। তিনি বলেন, “আসামিদের একজন ফুটবলার, অন্যজন পোশাক ব্যবসায়ী। তারা এই অভিযোগ সম্পর্কে কিছুই জানেন না। সুতরাং তাদের রিমান্ড চাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।”

তবে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মো. আবু বক্কর সিদ্দিক শুনানিতে আসামিদের রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাদের দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসে নাইজেরিয়া ও ইথিওপিয়া যাওয়ার জন্য দুই বিদেশি নাগরিক বিমানবন্দরের ২ নম্বর বহির্গমন টার্মিনালের ২৫ নম্বর ডেস্কে যান। সেখানে তাদের পাসপোর্টের সিল সন্দেহজনক মনে হওয়ায় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা বিষয়টি টার্মিনালের ইনচার্জকে অবগত করেন। ইনচার্জ পরবর্তীতে অধিকতর তদন্তের জন্য বিষয়টি ওসি ইমিগ্রেশনের কাছে পাঠান। ওসি ইমিগ্রেশন যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ইমিগ্রেশন পুলিশ পরিদর্শক এবি এম নূর উদ্দিনের কাছে পাঠান।

পরিদর্শক নূর উদ্দিন আসামিদের বাংলাদেশে আসার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানান যে তারা ভারত হয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। তবে নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করে দেখা যায়, তাদের পাসপোর্টে থাকা ভারত ত্যাগের (অ্যারাইভাল/ডিপার্চার) সিলগুলো জাল। ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের যে সিল তারা ব্যবহার করেছেন, সেগুলো বৈধ নয়। মূলত অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের উদ্দেশ্যেই তারা পাসপোর্টে এই জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিলেন। এরপর গত শুক্রবার বিকাল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের বিমানবন্দর থেকে আটক করে।