ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এক হামলায় নিহত হয়েছেন এবং তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে ইসরাইলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দাবি করেছেন। তবে, এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরান। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খামেনি ‘রণাঙ্গনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন’ এবং তিনি অক্ষত আছেন।
এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে বলেছেন, খামেনি, যিনি ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট ব্যক্তি ছিলেন, তিনি মারা গেছেন। ট্রাম্প আরও বলেন, এটি ইরানের জনগণের জন্য তাদের দেশ পুনরুদ্ধারের এক সুবর্ণ সুযোগ। এর আগে তিনি একটি সাক্ষাৎকারেও এমন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন এবং দাবি করেছিলেন যে মার্কিন অভিযান ‘সফল হয়েছে’।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম এবং মেহের জানিয়েছে যে সর্বোচ্চ নেতা ‘অবিচল রয়েছেন এবং রণাঙ্গনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন’।
১৯৮৯ সালে ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (৮৬) দেশটির সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তিনি ইরানের রাজনৈতিক, সামরিক এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখেন। দেশের অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্র নীতি নির্ধারণেও তার ভূমিকা অপরিসীম।
১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর ইরানে সর্বোচ্চ নেতার পদটি তৈরি করা হয় এবং তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই পদের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্টের ওপর একজন শীর্ষ ধর্মীয় নেতাকে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা অর্পণ করা হয়। ৮৮ জন আলেমের সমন্বয়ে গঠিত ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ আনুষ্ঠানিকভাবে এই নেতা নির্বাচন করে।
এই ঘটনার সূত্রপাত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায় বলে জানা গেছে। এর প্রতিক্রিয়ায়, তেহরান ইসরাইল সহ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে পাল্টা জবাব দিয়েছে। এই ঘটনাগুলি মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
—
রিপোর্টারের নাম 

















