ঢাকা ০৮:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রংপুরে ২১শে ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠানে প্রটোকল লঙ্ঘন: এমপিকে অবহেলায় ডিসির বিরুদ্ধে তোলপাড়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২৩:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

মহান ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা শহীদদের স্মরণে আয়োজিত এক সরকারি কর্মসূচিতে জাতীয় সংসদ সদস্যকে অবহেলা ও অবজ্ঞার অভিযোগ উঠেছে রংপুরের জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে। ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ অনুসরণ না করে বিভাগীয় কমিশনারকে প্রধান অতিথি করায় এ বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, যা বর্তমানে প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি প্রটোকল বা ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ অনুযায়ী একজন জাতীয় সংসদ সদস্যের অবস্থান ১৩তম, যেখানে বিভাগীয় কমিশনারের অবস্থান ২৪তম। এই প্রটোকল জানা সত্ত্বেও জেলা প্রশাসনের আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তাকে প্রধান অতিথি করা হয়নি। বরং বিভাগীয় কমিশনারকে প্রধান অতিথি করা হয়, যা দীর্ঘদিনের প্রথা পরিপন্থী বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল এ বিষয়ে বলেন, জেলা প্রশাসন তার পদমর্যাদা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত থাকা সত্ত্বেও তাকে অবমূল্যায়ন করেছে। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি এবং ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে সেদিন তিনি তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজম খান এই ঘটনাকে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে ডেকে এনে অপমান করার শামিল বলে আখ্যায়িত করে বলেন, এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সংগঠনে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সুরে কথা বলেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রংপুর জেলা কমিটির সভাপতি ফখরুল আলম বেনজু। তিনি বলেন, ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স অনুযায়ী এমপির মর্যাদা বিভাগীয় কমিশনারের চেয়ে উপরে। তাই প্রটোকল যথাযথভাবে অনুসরণ করা উচিত ছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুরের জেলা প্রশাসক এনামুল আহসান বলেন, অনুষ্ঠানটি পূর্বনির্ধারিত ছিল এবং কিছু সমন্বয়গত ত্রুটি হয়ে থাকতে পারে। তিনি সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়ানোর অঙ্গীকার করেন।

অন্যদিকে, রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলামও জানান, অনুষ্ঠানটি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। তিনি স্বীকার করেন যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদ সদস্যদের মর্যাদা যথাযথভাবে রক্ষা করা হবে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে এখনো নানা আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি প্রটোকল যথাযথভাবে অনুসরণ করা হলে এ ধরনের অপ্রীতিকর বিতর্ক সহজেই এড়ানো সম্ভব।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা: ইরানের পাল্টা হামলায় মার্কিন মিত্ররা লক্ষ্যবস্তু

রংপুরে ২১শে ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠানে প্রটোকল লঙ্ঘন: এমপিকে অবহেলায় ডিসির বিরুদ্ধে তোলপাড়

আপডেট সময় : ০৬:২৩:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মহান ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা শহীদদের স্মরণে আয়োজিত এক সরকারি কর্মসূচিতে জাতীয় সংসদ সদস্যকে অবহেলা ও অবজ্ঞার অভিযোগ উঠেছে রংপুরের জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে। ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ অনুসরণ না করে বিভাগীয় কমিশনারকে প্রধান অতিথি করায় এ বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, যা বর্তমানে প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি প্রটোকল বা ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ অনুযায়ী একজন জাতীয় সংসদ সদস্যের অবস্থান ১৩তম, যেখানে বিভাগীয় কমিশনারের অবস্থান ২৪তম। এই প্রটোকল জানা সত্ত্বেও জেলা প্রশাসনের আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তাকে প্রধান অতিথি করা হয়নি। বরং বিভাগীয় কমিশনারকে প্রধান অতিথি করা হয়, যা দীর্ঘদিনের প্রথা পরিপন্থী বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল এ বিষয়ে বলেন, জেলা প্রশাসন তার পদমর্যাদা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত থাকা সত্ত্বেও তাকে অবমূল্যায়ন করেছে। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি এবং ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে সেদিন তিনি তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজম খান এই ঘটনাকে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে ডেকে এনে অপমান করার শামিল বলে আখ্যায়িত করে বলেন, এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সংগঠনে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সুরে কথা বলেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রংপুর জেলা কমিটির সভাপতি ফখরুল আলম বেনজু। তিনি বলেন, ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স অনুযায়ী এমপির মর্যাদা বিভাগীয় কমিশনারের চেয়ে উপরে। তাই প্রটোকল যথাযথভাবে অনুসরণ করা উচিত ছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুরের জেলা প্রশাসক এনামুল আহসান বলেন, অনুষ্ঠানটি পূর্বনির্ধারিত ছিল এবং কিছু সমন্বয়গত ত্রুটি হয়ে থাকতে পারে। তিনি সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়ানোর অঙ্গীকার করেন।

অন্যদিকে, রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলামও জানান, অনুষ্ঠানটি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। তিনি স্বীকার করেন যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদ সদস্যদের মর্যাদা যথাযথভাবে রক্ষা করা হবে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে এখনো নানা আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি প্রটোকল যথাযথভাবে অনুসরণ করা হলে এ ধরনের অপ্রীতিকর বিতর্ক সহজেই এড়ানো সম্ভব।