মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০২:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬

গ্যাসের সংকটে বিদ্যুতে বিপর্যয়: তেলের উচ্চ ব্যয়ে বাড়ছে পিডিবির ভর্তুকি ও তীব্র লোডশেডিং

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫১:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় রাজধানীসহ সারা দেশে বিদ্যুৎ বিপর্যয় তীব্র রূপ ধারণ করেছে। পিডিবি ও পাওয়ার গ্রিডের হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কিছুদিন আগেও যেখানে বিদ্যুৎ খাত দৈনিক ৯০০ থেকে ১,০০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পেত, সেখানে বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৬৮০ মিলিয়ন ঘনফুটে। দেশের বেশ কয়েকটি বড় বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ একেবারেই শূন্যের কোঠায় নেমেছে।

বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য মেলাতে বাধ্য হয়ে পিডিবি অতিরিক্ত দামি তরল জ্বালানি (ফার্নেস অয়েল ও ডিজেল) চালিত কেন্দ্রগুলোর ওপর নির্ভর করছে। সম্প্রতি প্রাপ্ত চার দিনের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গ্রিডে সরবরাহকৃত মোট বিদ্যুতের ১৬ শতাংশ এসেছে তেলচালিত কেন্দ্র থেকে। অথচ মোট জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ক্রয় বাবদ ব্যয়ের প্রায় ৩৯ শতাংশই চলে গেছে এই খাতে। যেখানে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি ইউনিটে খরচ পড়ে গড়ে ৩ টাকা ৪৮ পয়সা, সেখানে তেলচালিত বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ১৮ টাকা ৫৯ পয়সা—যা প্রায় সাড়ে পাঁচ গুণেরও বেশি।

ব্যয়বহুল তেলচালিত কেন্দ্র চালু রেখেও লোডশেডিংয়ের লাগাম টানা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে লোডশেডিংয়ের মূল বোঝাটি বহন করতে হচ্ছে ঢাকার বাইরের আটটি অঞ্চলকে। পাওয়ার গ্রিডের হিসেব মতে, দেশে মোট লোডশেডিংয়ের প্রায় ৮১ শতাংশই ঘটছে ঢাকার বাইরে। সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর ও কুমিল্লা অঞ্চলে চাহিদার বিপরীতে প্রায় ১৮ থেকে ২২ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুতের তীব্র ঘাটতি রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গভীর রাতে তেলচালিত কেন্দ্রের উৎপাদন কমিয়ে আনায় কোনো কোনো সময় লোডশেডিং ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

গ্যাসের এই দ্বিমুখী সংকট সরাসরি আঘাত হানছে বিদ্যুৎ ও সাধারণ জীবনযাত্রায়। বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ না থাকায় একদিকে শহরের মানুষ বৈদ্যুতিক চুলার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন, অন্যদিকে শিল্পকারখানার নিজস্ব ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্টগুলো গ্যাসের অভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করছেন। এতে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের মোট চাহিদা অনেক গুণ বেড়ে গেছে। কিন্তু পিডিবির দেনা জমে থাকায় এবং বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সময়মতো বকেয়া বিল না পাওয়ায় তারা তরল জ্বালানি ক্রয়ে সংকটে পড়ছে।

তবে আশার কথা শুনিয়েছে পেট্রোবাংলা। মহেশখালীতে দুর্ঘটনাগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি (LNG) টার্মিনালের মেরামত কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে এবং আমদানিকৃত যন্ত্রাংশ ইতোমধ্যে দেশে এসে পৌঁছেছে।চলতি সপ্তাহের মধ্যেই টার্মিনালের প্রথম ইউনিট চালু করা সম্ভব হতে পারে এবং আগামী ১০ আগস্ট নাগাদ দ্বিতীয় ইউনিটটি সচল হলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের প্রবাহ স্বাভাবিক হবে এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী: ফেনীতে প্রতীকী আদালতে বিগত সরকারের প্রধান শেখ হাসিনাসহ ঘাতকদের প্রতীকী ফাঁসি কার্যকর

গ্যাসের সংকটে বিদ্যুতে বিপর্যয়: তেলের উচ্চ ব্যয়ে বাড়ছে পিডিবির ভর্তুকি ও তীব্র লোডশেডিং

আপডেট সময় : ১০:৫১:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় রাজধানীসহ সারা দেশে বিদ্যুৎ বিপর্যয় তীব্র রূপ ধারণ করেছে। পিডিবি ও পাওয়ার গ্রিডের হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কিছুদিন আগেও যেখানে বিদ্যুৎ খাত দৈনিক ৯০০ থেকে ১,০০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পেত, সেখানে বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৬৮০ মিলিয়ন ঘনফুটে। দেশের বেশ কয়েকটি বড় বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ একেবারেই শূন্যের কোঠায় নেমেছে।

বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য মেলাতে বাধ্য হয়ে পিডিবি অতিরিক্ত দামি তরল জ্বালানি (ফার্নেস অয়েল ও ডিজেল) চালিত কেন্দ্রগুলোর ওপর নির্ভর করছে। সম্প্রতি প্রাপ্ত চার দিনের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গ্রিডে সরবরাহকৃত মোট বিদ্যুতের ১৬ শতাংশ এসেছে তেলচালিত কেন্দ্র থেকে। অথচ মোট জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ক্রয় বাবদ ব্যয়ের প্রায় ৩৯ শতাংশই চলে গেছে এই খাতে। যেখানে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি ইউনিটে খরচ পড়ে গড়ে ৩ টাকা ৪৮ পয়সা, সেখানে তেলচালিত বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ১৮ টাকা ৫৯ পয়সা—যা প্রায় সাড়ে পাঁচ গুণেরও বেশি।

ব্যয়বহুল তেলচালিত কেন্দ্র চালু রেখেও লোডশেডিংয়ের লাগাম টানা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে লোডশেডিংয়ের মূল বোঝাটি বহন করতে হচ্ছে ঢাকার বাইরের আটটি অঞ্চলকে। পাওয়ার গ্রিডের হিসেব মতে, দেশে মোট লোডশেডিংয়ের প্রায় ৮১ শতাংশই ঘটছে ঢাকার বাইরে। সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর ও কুমিল্লা অঞ্চলে চাহিদার বিপরীতে প্রায় ১৮ থেকে ২২ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুতের তীব্র ঘাটতি রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গভীর রাতে তেলচালিত কেন্দ্রের উৎপাদন কমিয়ে আনায় কোনো কোনো সময় লোডশেডিং ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

গ্যাসের এই দ্বিমুখী সংকট সরাসরি আঘাত হানছে বিদ্যুৎ ও সাধারণ জীবনযাত্রায়। বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ না থাকায় একদিকে শহরের মানুষ বৈদ্যুতিক চুলার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন, অন্যদিকে শিল্পকারখানার নিজস্ব ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্টগুলো গ্যাসের অভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করছেন। এতে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের মোট চাহিদা অনেক গুণ বেড়ে গেছে। কিন্তু পিডিবির দেনা জমে থাকায় এবং বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সময়মতো বকেয়া বিল না পাওয়ায় তারা তরল জ্বালানি ক্রয়ে সংকটে পড়ছে।

তবে আশার কথা শুনিয়েছে পেট্রোবাংলা। মহেশখালীতে দুর্ঘটনাগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি (LNG) টার্মিনালের মেরামত কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে এবং আমদানিকৃত যন্ত্রাংশ ইতোমধ্যে দেশে এসে পৌঁছেছে।চলতি সপ্তাহের মধ্যেই টার্মিনালের প্রথম ইউনিট চালু করা সম্ভব হতে পারে এবং আগামী ১০ আগস্ট নাগাদ দ্বিতীয় ইউনিটটি সচল হলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের প্রবাহ স্বাভাবিক হবে এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।