ঢাকা ১২:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সুনামগঞ্জে পূর্বশত্রুতার জেরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: টেটাবিদ্ধ ইউপি সদস্যসহ ২, আটক ১

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৫:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় পূর্বশত্রুতার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যসহ অন্তত দুজন টেটাবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া উভয় পক্ষের আরও ছয়-সাতজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (তারিখ উল্লেখ না থাকায় শুধু বৃহস্পতিবার) উপজেলার জলুষা-আমজোড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মধ্যনগরের জলুষা গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে আমজোড়া গ্রামের ইউপি সদস্য উজ্জ্বল মেম্বার ও তার লোকজনের প্রায় দেড় বছর ধরে বিরোধ চলে আসছে। এই দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে এর আগেও কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ একাধিকবার সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী সমাধানে পৌঁছায়নি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে পুরোনো এই বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে তা ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে আমজোড়া গ্রামের উজ্জ্বল মেম্বার পায়ে এবং তার চাচাতো ভাই মোশারফ হোসেন বুকে টেটাবিদ্ধ হন। টেটার আঘাতে তারা গুরুতর জখম হন। এছাড়াও উভয় পক্ষের অন্তত আরও ছয়-সাতজন ব্যক্তি আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে মধ্যনগর থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সহিংসতা থামায়।

সংঘর্ষের ঘটনা এবং এর প্রেক্ষাপাপট নিয়ে দুই পক্ষই পরস্পরবিরোধী দাবি করছে। জলুষা গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমান দাবি করেন, তিনি ডিম নিয়ে বাজারে যাওয়ার পথে আমজোড়া গ্রামের সামনে পৌঁছালে উজ্জ্বল মেম্বারের মামা জয়ধর তার পথ আটকে মারধর করেন এবং তার সঙ্গে থাকা স্মার্টফোন ও টাকা ছিনিয়ে নেন। পরে তিনি থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ তাকে আটক করে। অপর পক্ষের আহত হওয়ার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলেও দাবি করেন।

অন্যদিকে, পায়ে টেটাবিদ্ধ হয়ে আহত উজ্জ্বল মেম্বার সাংবাদিকদের জানান, গত দেড় বছর ধরে জলুষা গ্রামের সামনে দিয়ে তারা স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছেন না। এমনকি স্থানীয় বাজার ও উপজেলা সদরে যেতেও তাদের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুরে জলুষা গ্রামের মিজান, শাহ আলম ও খসরুর নেতৃত্বে তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এই হামলায় তিনি ও তার ভাই টেটাবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। এছাড়া তাদের বাড়ির নারীসহ একাধিক ব্যক্তি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন বলেও তিনি জানান।

এ বিষয়ে মধ্যনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম শাহাব উদ্দিন বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে জলুষা গ্রামের মিজানুর রহমান নামে একজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী হেনস্তাকারী যুবক গাজীপুরে হত্যা মামলার আসামি: চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচন

সুনামগঞ্জে পূর্বশত্রুতার জেরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: টেটাবিদ্ধ ইউপি সদস্যসহ ২, আটক ১

আপডেট সময় : ১০:৫৫:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় পূর্বশত্রুতার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যসহ অন্তত দুজন টেটাবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া উভয় পক্ষের আরও ছয়-সাতজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (তারিখ উল্লেখ না থাকায় শুধু বৃহস্পতিবার) উপজেলার জলুষা-আমজোড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মধ্যনগরের জলুষা গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে আমজোড়া গ্রামের ইউপি সদস্য উজ্জ্বল মেম্বার ও তার লোকজনের প্রায় দেড় বছর ধরে বিরোধ চলে আসছে। এই দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে এর আগেও কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ একাধিকবার সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী সমাধানে পৌঁছায়নি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে পুরোনো এই বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে তা ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে আমজোড়া গ্রামের উজ্জ্বল মেম্বার পায়ে এবং তার চাচাতো ভাই মোশারফ হোসেন বুকে টেটাবিদ্ধ হন। টেটার আঘাতে তারা গুরুতর জখম হন। এছাড়াও উভয় পক্ষের অন্তত আরও ছয়-সাতজন ব্যক্তি আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে মধ্যনগর থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সহিংসতা থামায়।

সংঘর্ষের ঘটনা এবং এর প্রেক্ষাপাপট নিয়ে দুই পক্ষই পরস্পরবিরোধী দাবি করছে। জলুষা গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমান দাবি করেন, তিনি ডিম নিয়ে বাজারে যাওয়ার পথে আমজোড়া গ্রামের সামনে পৌঁছালে উজ্জ্বল মেম্বারের মামা জয়ধর তার পথ আটকে মারধর করেন এবং তার সঙ্গে থাকা স্মার্টফোন ও টাকা ছিনিয়ে নেন। পরে তিনি থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ তাকে আটক করে। অপর পক্ষের আহত হওয়ার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলেও দাবি করেন।

অন্যদিকে, পায়ে টেটাবিদ্ধ হয়ে আহত উজ্জ্বল মেম্বার সাংবাদিকদের জানান, গত দেড় বছর ধরে জলুষা গ্রামের সামনে দিয়ে তারা স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছেন না। এমনকি স্থানীয় বাজার ও উপজেলা সদরে যেতেও তাদের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুরে জলুষা গ্রামের মিজান, শাহ আলম ও খসরুর নেতৃত্বে তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এই হামলায় তিনি ও তার ভাই টেটাবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। এছাড়া তাদের বাড়ির নারীসহ একাধিক ব্যক্তি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন বলেও তিনি জানান।

এ বিষয়ে মধ্যনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম শাহাব উদ্দিন বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে জলুষা গ্রামের মিজানুর রহমান নামে একজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।