ঢাকা ১১:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কুকুরের তাণ্ডবে নীলফামারীতে ১৪ জন আহত, ভ্যাকসিন সংকটে ভোগান্তি চরমে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২০:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় একাধিক পাগলা কুকুরের তাণ্ডবে একদিনেই শিশুসহ অন্তত ১৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় আকস্মিক এই হামলায় বাজারজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন না থাকায় আহতদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ঘুরে ঘুরে কয়েকটি কুকুর একের পর এক মানুষকে কামড়ে জখম করে। হঠাৎ করে কুকুরের এমন হিংস্র আচরণে বাজার এলাকায় উপস্থিত লোকজনের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন সদর ইউনিয়নের গদা গ্রামের হাফিজুল ইসলাম (৫০), রুপালি কেশবা গ্রামের নাবিল (১০), মধ্য রাজিব চেংমারী গ্রামের শাহজালাল ইসলাম (৪০) এবং মাগুরা ইউনিয়নের সিংঙ্গেরগাড়ি গ্রামের দীপক চন্দ্র রায় (১৯) সহ আরও অনেকে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যার পর বাজারে লোকজনের ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি কুকুর হঠাৎ করে উত্তেজিত হয়ে পথচারীদের ওপর আক্রমণ শুরু করে। প্রথমে একজনকে কামড়ানোর পর লোকজন এগিয়ে এলে কুকুরগুলো পালিয়ে গিয়ে বাজারের বিভিন্ন স্থানে আরও মানুষকে কামড়ায়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা লাঠি দিয়ে পিটিয়ে একটি কুকুরকে হত্যা করে।

রুপালি কেশবা গ্রামের বাসিন্দা মিলন হোসেন জানান, তার ছেলে নাবিল বিকেলে ইফতার আনতে বাজারে গেলে কুকুরের কামড়ে গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

আরেক ভুক্তভোগী শাহজালাল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন পাইনি। বাধ্য হয়ে বাইরে ফার্মেসি থেকে ৫০০ টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন কিনতে হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেই।”

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নীল রতন দেব জানান, বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন মজুদ নেই। এ কারণে আহতদের জেলা হাসপাতালে গিয়ে ভ্যাকসিন নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে বুধবার আহত ১৪ জন ব্যক্তিকে এখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

কুকুরের আকস্মিক আক্রমণ এবং এর জেরে সৃষ্ট ভ্যাকসিন সংকট নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সরবরাহ এবং ভবঘুরে কুকুর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদে সংস্কার না হলে রাজপথে তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি বিরোধী দলের

কুকুরের তাণ্ডবে নীলফামারীতে ১৪ জন আহত, ভ্যাকসিন সংকটে ভোগান্তি চরমে

আপডেট সময় : ০৯:২০:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় একাধিক পাগলা কুকুরের তাণ্ডবে একদিনেই শিশুসহ অন্তত ১৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় আকস্মিক এই হামলায় বাজারজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন না থাকায় আহতদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ঘুরে ঘুরে কয়েকটি কুকুর একের পর এক মানুষকে কামড়ে জখম করে। হঠাৎ করে কুকুরের এমন হিংস্র আচরণে বাজার এলাকায় উপস্থিত লোকজনের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন সদর ইউনিয়নের গদা গ্রামের হাফিজুল ইসলাম (৫০), রুপালি কেশবা গ্রামের নাবিল (১০), মধ্য রাজিব চেংমারী গ্রামের শাহজালাল ইসলাম (৪০) এবং মাগুরা ইউনিয়নের সিংঙ্গেরগাড়ি গ্রামের দীপক চন্দ্র রায় (১৯) সহ আরও অনেকে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যার পর বাজারে লোকজনের ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি কুকুর হঠাৎ করে উত্তেজিত হয়ে পথচারীদের ওপর আক্রমণ শুরু করে। প্রথমে একজনকে কামড়ানোর পর লোকজন এগিয়ে এলে কুকুরগুলো পালিয়ে গিয়ে বাজারের বিভিন্ন স্থানে আরও মানুষকে কামড়ায়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা লাঠি দিয়ে পিটিয়ে একটি কুকুরকে হত্যা করে।

রুপালি কেশবা গ্রামের বাসিন্দা মিলন হোসেন জানান, তার ছেলে নাবিল বিকেলে ইফতার আনতে বাজারে গেলে কুকুরের কামড়ে গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

আরেক ভুক্তভোগী শাহজালাল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন পাইনি। বাধ্য হয়ে বাইরে ফার্মেসি থেকে ৫০০ টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন কিনতে হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেই।”

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নীল রতন দেব জানান, বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন মজুদ নেই। এ কারণে আহতদের জেলা হাসপাতালে গিয়ে ভ্যাকসিন নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে বুধবার আহত ১৪ জন ব্যক্তিকে এখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

কুকুরের আকস্মিক আক্রমণ এবং এর জেরে সৃষ্ট ভ্যাকসিন সংকট নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সরবরাহ এবং ভবঘুরে কুকুর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।