## শিরোনাম: মতলবে শাকিলা হত্যার রহস্য উন্মোচন, প্রধান আসামি বিল্লাল গ্রেপ্তার
চাঁদপুর: চাঁদপুরের মতলব উত্তরে চাঞ্চল্যকর শাকিলা আক্তার হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। ঘটনার সাথে জড়িত প্রধান আসামি বিল্লাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় মতলব উত্তর থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবির হুসনাইন সানীব মামলার তদন্তের অগ্রগতি, উদ্ধারকৃত আলামত এবং আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে মতলব উত্তরের নন্দলালপুর শিবপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় এক তরুণীর মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে ফরেনসিক ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহত শাকিলা আক্তার (২৬) উপজেলার ষাটনল ইউনিয়নের রঙ্গুখার কান্দি গ্রামের আব্দুস সাত্তারের মেয়ে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, শাকিলা নার্স হিসেবে নারায়ণগঞ্জের একটি ক্লিনিকে কর্মরত ছিলেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য তিনি গত ১১ ফেব্রুয়ারি নিজ বাড়িতে আসেন এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি কর্মস্থলে ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পরদিন তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবার দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়।
জেলা পুলিশ সুপার মো. রবিউল হাসানের সার্বিক নির্দেশনা এবং মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রদীপ মণ্ডলের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ দল দীর্ঘ তিন দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। এই অভিযানের ফলশ্রুতিতে শরীয়তপুরের গোসাইরহাট এলাকার একটি দুর্গম চরাঞ্চল থেকে মামলার প্রধান আসামি বিল্লাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, প্রায় দুই বছর আগে ছেংগারচর এলাকার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চাকরির সুবাদে বিল্লালের সাথে শাকিলার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় চার মাস ধরে তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ডেমরা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন, যদিও তাদের বিয়ে আইনত নিবন্ধিত ছিল না। বিল্লালের উপর বিয়ের নিবন্ধন এবং প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার জন্য শাকিলা চাপ সৃষ্টি করছিলেন, যা তাদের মধ্যে মনোমালিন্যের জন্ম দেয়।
পুলিশের ভাষ্যমতে, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ওই ভাড়া বাসায় শাকিলা ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। এই ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য বিল্লাল লাশটি গাড়িতে করে ডেমরা থেকে নন্দলালপুর শিবপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয় যে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং অন্যান্য প্রাপ্ত আলামত বিশ্লেষণের পর মামলার তদন্ত আরও জোরদার করা হবে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এসআই মিজানুর রহমান, এসআই একেএম ইউনুস, এসআই সুমন চন্দ্র দাসসহ পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
রিপোর্টারের নাম 























