শেরপুরের শ্রীবরদী পৌরসভা প্রতিষ্ঠার দুই দশক পেরিয়ে গেলেও আজও গড়ে ওঠেনি কোনো স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিকতার ছোঁয়া না লাগায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শহরবাসী। নির্দিষ্ট কোনো জায়গা না থাকায় যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। এমনকি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ব্যক্তিমালিকানাধীন পুকুর লিজ নিয়ে বর্জ্য ফেলায় দূষিত হচ্ছে পরিবেশ, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা সদরের বাসাবাড়ি ও বাজারের বর্জ্য অপসারণে পরিকল্পিত কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে শহরের বিভিন্ন সড়ক ও খোলা জায়গায় ময়লার স্তূপ জমে থাকছে। এতে শহরের সৌন্দর্য যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি ছড়াচ্ছে উৎকট দুর্গন্ধ। পরিস্থিতি সামাল দিতে বছরখানেক আগে পৌরসভার পূর্ব ছনকান্দা এলাকায় ২০ শতাংশের একটি পরিত্যক্ত পুকুর লিজ নেয় কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে সেখানেই ফেলা হচ্ছে শহরের সিংহভাগ বর্জ্য।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার ভেতরে অবস্থিত ওই পুকুরটি এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। চারপাশের বাসিন্দারা দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার আপত্তি জানানো সত্ত্বেও পৌর কর্তৃপক্ষ কোনো স্থায়ী সমাধান করছে না। শুধু ছনকান্দাই নয়, উত্তর বাজার, পশ্চিম বাজার ও চৌরাস্তা মোড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও ময়লা উপচে পড়ছে। দুই-তিন দিন অন্তর বর্জ্য সরানো হলেও তার আগেই পরিবেশ বিষিয়ে উঠছে।
পশ্চিম বাজারের বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা জানান, বাজারের যত্রতত্র ময়লার স্তূপ থাকায় চলাফেরা করা দায় হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে গরমের দিনে পুকুরে ফেলা বর্জ্যের পচা গন্ধ এবং মাছির উপদ্রবে ঘরে টেকাই কঠিন হয়ে পড়ে। এতে ছোট শিশুদের রোগবালাই বাড়ছে এবং কুকুরের আনাগোনায় আতঙ্কে থাকে পথচারীরা।
পরিবেশবাদীরা বলছেন, লোকালয়ে এভাবে বর্জ্য ফেলা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি। উন্মুক্ত স্থানে আবর্জনা ফেলার এই সংস্কৃতি দ্রুত বন্ধ করে একটি পরিবেশবান্ধব ‘স্যানিটারি ল্যান্ডফিল’ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে শ্রীবরদী পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনীষা আহমেদ জানান, নিজস্ব জমি না থাকায় বর্তমানে ভাড়া করা জায়গায় বর্জ্য ফেলতে হচ্ছে। তবে সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ‘৩২ পৌরসভা প্রকল্প’-এর আওতায় একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বর্জ্য নিয়ে দীর্ঘদিনের এই সংকটের অবসান ঘটবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রিপোর্টারের নাম 

























