কৃষিপ্রধান উত্তরবঙ্গের সবুজ প্রান্তরে, দিনাজপুর শহর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে বাঁশেরহাটে, জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি)। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে উত্তর জনপদের শ্রেষ্ঠ এই বিদ্যাপীঠ উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে, বিকশিত করছে শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন। দেশের খাদ্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত উত্তরাঞ্চলে একটি উন্নত কৃষি ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার যে স্বপ্ন বুনেছিল জাতি, সেই স্বপ্নেরই সার্থক রূপায়ণ এই বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রতিষ্ঠা ও ক্রমবিকাশ: এক ঐতিহাসিক যাত্রা
১৯৭৬ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটির (একনেক) এক সভায় উত্তরাঞ্চলে উচ্চতর কৃষি শিক্ষার জন্য একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় ১৯৭৯ সালে অ্যাগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (এইটিআই) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এর যাত্রা শুরু হয়, যেখানে কৃষিতে ডিপ্লোমা ডিগ্রি প্রদান করা হতো। পরবর্তীতে, ১৯৮৮ সালের ১১ নভেম্বর এটি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত একটি কলেজে রূপান্তরিত হয়। উত্তরবঙ্গের কৃষকনেতা ও তেভাগা আন্দোলনের পথিকৃৎ হাজী মোহাম্মদ দানেশের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয় ‘হাজী মোহাম্মদ দানেশ কৃষি কলেজ’, এবং এখান থেকে কৃষিতে স্নাতক ডিগ্রি প্রদান শুরু হয়।
একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে, উত্তর জনপদে উচ্চশিক্ষার বিস্তার এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির গুরুত্ব অনুধাবন করে ২০০০ সালে কলেজটিকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। অবশেষে, ২০০২ সালের ৮ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এটি পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয় এবং ১৬ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। এটি ছিল উত্তরবঙ্গের প্রথম এবং দেশের দ্বিতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যা এ অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। মৃত্তিকা বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. মো. মোশাররফ হোসাইন মিঞা এর প্রথম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
একাডেমিক শ্রেষ্ঠত্ব ও জ্ঞানচর্চা
বর্তমানে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯টি অনুষদের অধীনে ৪৫টি বিষয়ে পাঠদান করা হয়। এর মধ্যে স্নাতক পর্যায়ে ৮টি অনুষদে ২৩টি বিষয় এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে একটি অনুষদে ২২টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী এখানে জ্ঞান অর্জন করছে, যাদের শিক্ষাদানে নিয়োজিত আছেন ৪২১ জন দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক। তাঁদের মেধা, প্রজ্ঞা ও পরিশ্রমে এই বিশ্ববিদ্যালয় আজ এক বিশাল জ্ঞানচর্চার বাতিঘরে পরিণত হয়েছে।
আধুনিক অবকাঠামো ও সুবিধার সমাহার
হাজী মোহাম্মদ দানেশ কৃষি কলেজের অবকাঠামোর ওপর ভিত্তি করে কার্যক্রম শুরু করলেও, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে গড়ে উঠেছে সুবিশাল ভৌত অবকাঠামো। এর মধ্যে রয়েছে পাঁচটি একাডেমিক ভবন, চারটি ছাত্রী হলসহ মোট ৯টি আবাসিক হল, ১০০ আসনের সেমিনার কক্ষ, অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতিসমৃদ্ধ কেন্দ্রীয় গবেষণাগার এবং একটি প্রশাসনিক ভবন। শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের লক্ষ্যে রয়েছে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি), যেখানে ক্যাফেটেরিয়া ও ছাত্র সংসদ ভবনসহ সাংস্কৃতিক চর্চার সুব্যবস্থা বিদ্যমান।
এছাড়া, ২৫ হাজারেরও বেশি বই, গবেষণালব্ধ থিসিস, রিপোর্ট ও জার্নালসমৃদ্ধ একটি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, উন্নতমানের ক্রীড়া সরঞ্জামসহ জিমনেসিয়াম, খেলার মাঠ, ১২ শয্যার আধুনিক মেডিকেল সেন্টার (৬ জন চিকিৎসক ও অ্যাম্বুলেন্সসহ), ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ, ৬০০ ও ২৫০ আসনের দুটি সুসজ্জিত অডিটোরিয়াম, শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ক্লাব, ভিআইপি গেস্ট হাউস, দুটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ, ১৩৬টি আবাসিক ইউনিট, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, শিশু পার্ক, ব্যাংক শাখা, পোস্ট অফিস, শ্রমিক ব্যারাক এবং নিজস্ব স্কুলও রয়েছে। সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সুবিধা, নিজস্ব বৈদ্যুতিক লাইন এবং পর্যাপ্ত যাতায়াত ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে।
সুশোভিত বোটানিক্যাল গার্ডেন: প্রকৃতির পাঠশালা
ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে দুষ্প্রাপ্য গাছগাছালির সংগ্রহ নিয়ে গড়ে ওঠা সমৃদ্ধ বোটানিক্যাল গার্ডেন। এখানে রয়েছে ২৫০ প্রজাতির ফুল, ১০৫ প্রজাতির ফল, ৩০০-এর অধিক শোভাবর্ধক বৃক্ষ, ৩০ প্রজাতির মসলা এবং ৩০ প্রজাতির ঔষধিগাছ। এই বৈচিত্র্যময় সংগ্রহ শুধু ক্যাম্পাসের শোভাই বৃদ্ধি করেনি, বরং শিক্ষার্থীদের গবেষণা কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
গবেষণায় উৎকর্ষ ও উদ্ভাবনী সাফল্য
হাবিপ্রবির গবেষণা কার্যক্রম মূলত দুটি প্রধান ধারায় পরিচালিত হয়: ডিগ্রি গবেষণা এবং প্রকল্প গবেষণা। এমএস, এমবিএ ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি অর্জনের অংশ হিসেবে শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে ডিগ্রি গবেষণা সম্পন্ন হয়। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় বা বহিঃস্থ সংস্থার অর্থায়নে পরিচালিত হয় প্রকল্পভিত্তিক গবেষণা। গবেষণা প্রকল্পগুলোর সুষ্ঠু সমন্বয় ও ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ২০০৪ সালে ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (আইআরটি) প্রতিষ্ঠা করা হয়।
শতাধিক অধ্যাপক ও একদল তরুণ, উদ্যমী শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। উল্লেখযোগ্য গবেষণার মধ্যে রয়েছে—রাসায়নিক ও কীটনাশকমুক্ত ধান উৎপাদন, ‘হাজী’ ও ‘দানেশ’ নামে দুটি কুমড়ার জাত উদ্ভাবন, করলার উচ্চ ফলনশীল জাত, ব্যাকটেরিয়ার জীবনরহস্য উন্মোচন, অ্যান্টি-ডায়াবেটিক বিস্কুট উদ্ভাবন, চেরি টমেটোর উচ্চ ফলনশীল জাত এবং টু-স্টেজ গ্রেইন ড্রায়ারসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি উদ্ভাবন। এসব গবেষণা কৃষি ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণা প্রকাশনার সংখ্যা সাত হাজারের অধিক, যার মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এবং ৪০-৫০ হাজারবার উদ্ধৃত হয়েছে। ‘জার্নাল অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ নামে একটি গবেষণা জার্নাল প্রতিবছর দুবার প্রকাশিত হয়।
প্রশিক্ষণ ও গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ
প্রযুক্তি উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ২০০৪ সাল থেকে কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি প্রভৃতি বিষয়ে বিভিন্ন পোস্টগ্র্যাজুয়েট লেভেলে প্রশিক্ষণ কোর্স চালু রয়েছে। এছাড়া ২০১৭ সালে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (IQAC) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
সহশিক্ষা কার্যক্রম ও প্রাণবন্ত ক্যাম্পাস জীবন
হাবিপ্রবিতে শুধু একাডেমিক পড়াশোনাই নয়, শিক্ষার্থীদের মননশীলতার বিকাশে সাংস্কৃতিক চর্চা ও খেলাধুলার নিরন্তর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। শারীরিক শিক্ষা বিভাগের মাধ্যমে বিভিন্ন আন্তঃসেমিস্টার হল টুর্নামেন্ট, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। অর্ক সাংস্কৃতিক জোট, সেঁজুতি নাট্যচক্র, রোটার্যাক্ট ক্লাব, ডিবেটিং সোসাইটি, সাংবাদিক সমিতি, মজার স্কুল এবং ক্যারিয়ার অ্যাডভাইজরি সার্ভিসসহ বেশ কয়েকটি সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও শিক্ষামূলক সংগঠন ক্যাম্পাসের প্রাণবন্ত পরিবেশ বজায় রেখেছে। বিভিন্ন ফোয়ারা চত্বর, ডি বক্স, আই বক্স, ফাঁকিবাজ চত্বর, চিড়িয়াখানা, রিমা চত্বর, এলিয়েন রোড, লিচুবাগান, হতাশার মোড়, ময়না দ্বীপ—এমন বিচিত্র নামে পরিচিত স্থানগুলো শিক্ষার্থীদের আড্ডা ও স্মৃতি তৈরির কেন্দ্র।
এই বিশ্ববিদ্যালয় কেবল জ্ঞানচর্চার স্থান নয়, এটি জীবনের স্বাদ আস্বাদনের, আনন্দ-দুঃখ ভাগাভাগির, গল্প ও চায়ের আড্ডায় বন্ধুত্ব তৈরির এবং সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার এক বিস্তৃত প্রাঙ্গণ। নিয়মিত সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, আবৃত্তি, পাঠচক্র আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা, মনন ও সৃজনশীলতা বিকাশে সহায়তা করা হয়। এছাড়া সারা বছর নানা উৎসব পালনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের জীবনে ছড়িয়ে দেয় আনন্দ ও উদ্দীপনা। গণতন্ত্রচর্চার অংশ হিসেবে ক্রিয়াশীল বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে, শিক্ষার মানোন্নয়নে এবং জাতীয় ইস্যুতে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে।
বিদেশি শিক্ষার্থীদের পছন্দের শীর্ষে
ইউজিসির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যার দিক থেকে দেশের শীর্ষস্থানে রয়েছে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে নেপাল, ভারত, ভুটান, ইথিওপিয়া, সোমালিয়া এবং নাইজেরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ১১২ জন শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন। বাংলাদেশে শিক্ষা শেষে এসব শিক্ষার্থী নিজ নিজ দেশে ফিরে গিয়ে মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখছে।
দ্বিতীয় সমাবর্তন: শেকড়ের সন্ধানে মিলনমেলা
২০২৫ সালের ২২ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ৮ হাজার ৩৩ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। সমাবর্তন উপলক্ষে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীরা কালো গাউন ও কালো ক্যাপ পরিধান করে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন। এটি শুধু একটি ডিগ্রি অর্জনের মুহূর্ত ছিল না, বরং জীবনের সেই রঙিন দিনগুলোতে ফিরে গিয়ে নতুন করে জীবনবোধ, গল্প এবং সামনে এগিয়ে চলার ইস্পাতদৃঢ় মনোবল তৈরির এক স্মৃতিময় অধ্যায়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হাবিপ্রবির ভূমিকা
২০২৪ সালের ১ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হওয়ার পর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ৪ জুলাই প্রথম আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে। বৃষ্টি উপেক্ষা করে তারা সফলভাবে কর্মসূচি পালন করে। আন্দোলনের সময় যখন ছাত্রলীগ হামলা চালায়, সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করে। এরপর শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রতিটি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে। পরবর্তীতে, জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের স্মৃতি রক্ষার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই সড়ক, জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ এবং জুলাই চত্বর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
অবকাঠামো ও একাডেমিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) থেকে ৫৭৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদিত হওয়ায় হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও একাডেমিক উন্নয়নে এক নতুন অগ্রযাত্রার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হবে ১২-তলা ছাত্র হল, ১২-তলা ছাত্রী হল, ১২-তলা শিক্ষক-কর্মকর্তা আবাসিক ভবন এবং ১২-তলা একাডেমিক ভবন। পাশাপাশি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে প্রশাসনিক ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ (চতুর্থ ও পঞ্চমতলা), দোতলা নিরাপত্তা অফিস ও আনসার ব্যারাক, কনফারেন্স সুবিধাসহ জিমনেসিয়াম এবং মেডিকেল সেন্টারের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ (প্রথম ও দোতলা)। এই মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণ, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, গবেষণার সক্ষমতা বৃদ্ধি, ল্যাবরেটরি সুবিধা আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষা-গবেষণার পরিবেশ নিশ্চিত হবে, যা ২০৪১ সালের স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রিপোর্টারের নাম 
























