নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে নির্যাতন, মুক্তিপণ আদায় এবং রাজনৈতিক স্লোগান দিতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী শরীফ মিয়া বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে পূর্বধলা থানায় ৩-৪ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যায় পূর্বধলা উপজেলার ত্রিমোহনী এলাকায় বেড়াতে গেলে শরীফ মিয়াকে দুই যুবক জোরপূর্বক স্থানীয় একটি ঈদগাহ মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে আরও একজন যোগ দেয়। এ সময় তাকে মারধর করে দুই লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরিবারের আর্থিক অক্ষমতার কথা জানালে অভিযুক্তরা দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, শরীফের কাছ থেকে নগদ ৪,৫৬০ টাকা, বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ১১,৫০০ টাকা এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী শরীফ মিয়া (২১) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৫৪তম আবর্তনের শিক্ষার্থী। তিনি নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার শুনই গ্রামের জানু মিয়ার ছেলে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি শরীফকে বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দিতে বাধ্য করছেন। এমনকি শিক্ষার্থীদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ভুল ছিল বলেও তাকে বলতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, শরীফ বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন শিক্ষার্থী এবং তার কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য তার জানা নেই। তিনি ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে জানান যে, তিনি নেত্রকোণার পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন। তারা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ভুক্তভোগী শরীফ মিয়া একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।
রিপোর্টারের নাম 



















