ঢাকা ০৪:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে দুটি বিষয় দৃষ্টিকটু লেগেছে: নাগরিক পার্টির নেতা

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, দলীয় প্রধান হিসেবে যুক্তি-তর্কের স্রোতে গা ভাসানোর সুযোগ থাকলেও তা সবসময় করা যায় না, বিশেষ করে যখন কেউ দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত থাকেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্য ও আচরণের ওপর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ মন্তব্য করেন।

বৃহস্পতিবার রাতে ফেসবুক পোস্টে সারজিস আলম লেখেন, ‘জনাব প্রধানমন্ত্রী, আপনার সরল জীবনযাত্রা, রাজনৈতিক পরিমিতিবোধ এবং জনসম্পৃক্ততা সহ আপনার অনেক বিষয়কে আমরা ইতিবাচক হিসেবে দেখি। তবে বর্তমানে আপনার কিছু কর্মকাণ্ড দৃষ্টিকটু লেগেছে, যা আমরা উল্লেখ করতে চাই। আমরা প্রত্যাশা করি, বর্তমান ও আগামী বাংলাদেশে কোনো প্রধানমন্ত্রী পূর্বের কোনো অপ্রত্যাশিত দৃষ্টান্তের পুনরাবৃত্তি করবেন না।’

তিনি দুটি নির্দিষ্ট ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। প্রথমত, একাধিক জনসভায় লক্ষ মানুষের সামনে মঞ্চ থেকে একটি রাজনৈতিক দলকে ‘গুপ্ত গুপ্ত’ বলে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করাকে তিনি অশোভন বলে অভিহিত করেন। এর ফলে দলের নেতাকর্মীরা আরও উৎসাহ পায় এবং ক্ষেত্রবিশেষে সীমা অতিক্রম করে। এতে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ নষ্ট হয়ে তীব্র বিদ্বেষের রাজনীতি তৈরি হতে পারে, যা কাম্য নয়।

দ্বিতীয়ত, সর্বশেষ দুই দিন আগে সংসদে কিছু বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যের ‘ব্যাংকে ঋণ নেই’ এমন মন্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তাদের ‘জমিদার’ বলে ঠাট্টা করেছেন। যদিও তিনি ভেবেছিলেন বিষয়টি ব্যক্তিগত থাকবে, কিন্তু তা জনসমক্ষে চলে আসে। সারজিস আলমের মতে, প্রধানমন্ত্রীর মতো পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির কাছ থেকে এমন মন্তব্য আসা উচিত নয়। তিনি বলেন, যেখানে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত এমন কিছু সংসদ সদস্য আছেন যারা জনগণের শত শত কোটি টাকা লুটপাট করে ঋণখেলাপি হয়ে বসে আছেন, সেখানে পরোক্ষভাবে তাদের সমর্থন করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এই ধরনের ব্যক্তিরা প্রধানমন্ত্রী, তার দল বা দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়। অন্যদিকে, একজন সংসদ সদস্যের কোনো ঋণ না থাকাও কাম্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপে মেক্সিকোর শুভ সূচনা: দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে পরাজিত

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে দুটি বিষয় দৃষ্টিকটু লেগেছে: নাগরিক পার্টির নেতা

আপডেট সময় : ০২:৪২:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, দলীয় প্রধান হিসেবে যুক্তি-তর্কের স্রোতে গা ভাসানোর সুযোগ থাকলেও তা সবসময় করা যায় না, বিশেষ করে যখন কেউ দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত থাকেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্য ও আচরণের ওপর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ মন্তব্য করেন।

বৃহস্পতিবার রাতে ফেসবুক পোস্টে সারজিস আলম লেখেন, ‘জনাব প্রধানমন্ত্রী, আপনার সরল জীবনযাত্রা, রাজনৈতিক পরিমিতিবোধ এবং জনসম্পৃক্ততা সহ আপনার অনেক বিষয়কে আমরা ইতিবাচক হিসেবে দেখি। তবে বর্তমানে আপনার কিছু কর্মকাণ্ড দৃষ্টিকটু লেগেছে, যা আমরা উল্লেখ করতে চাই। আমরা প্রত্যাশা করি, বর্তমান ও আগামী বাংলাদেশে কোনো প্রধানমন্ত্রী পূর্বের কোনো অপ্রত্যাশিত দৃষ্টান্তের পুনরাবৃত্তি করবেন না।’

তিনি দুটি নির্দিষ্ট ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। প্রথমত, একাধিক জনসভায় লক্ষ মানুষের সামনে মঞ্চ থেকে একটি রাজনৈতিক দলকে ‘গুপ্ত গুপ্ত’ বলে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করাকে তিনি অশোভন বলে অভিহিত করেন। এর ফলে দলের নেতাকর্মীরা আরও উৎসাহ পায় এবং ক্ষেত্রবিশেষে সীমা অতিক্রম করে। এতে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ নষ্ট হয়ে তীব্র বিদ্বেষের রাজনীতি তৈরি হতে পারে, যা কাম্য নয়।

দ্বিতীয়ত, সর্বশেষ দুই দিন আগে সংসদে কিছু বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যের ‘ব্যাংকে ঋণ নেই’ এমন মন্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তাদের ‘জমিদার’ বলে ঠাট্টা করেছেন। যদিও তিনি ভেবেছিলেন বিষয়টি ব্যক্তিগত থাকবে, কিন্তু তা জনসমক্ষে চলে আসে। সারজিস আলমের মতে, প্রধানমন্ত্রীর মতো পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির কাছ থেকে এমন মন্তব্য আসা উচিত নয়। তিনি বলেন, যেখানে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত এমন কিছু সংসদ সদস্য আছেন যারা জনগণের শত শত কোটি টাকা লুটপাট করে ঋণখেলাপি হয়ে বসে আছেন, সেখানে পরোক্ষভাবে তাদের সমর্থন করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এই ধরনের ব্যক্তিরা প্রধানমন্ত্রী, তার দল বা দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়। অন্যদিকে, একজন সংসদ সদস্যের কোনো ঋণ না থাকাও কাম্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।