ঢাকা ০৬:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

প্রস্তাবিত বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাঁচ খাতের, যা মোট ব্যয়ের ৫৮ শতাংশ

সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। প্রস্তাবিত বাজেটে জনপ্রশাসন, ঋণের সুদ পরিশোধ, শিক্ষা, ভর্তুকি ও প্রণোদনা এবং স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই পাঁচটি খাতে মোট বাজেটের ৫৮ শতাংশ ব্যয় করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বাজেট সংক্ষিপ্ত সারের পরিচালন ও উন্নয়ন তথ্য অনুযায়ী, সর্বোচ্চ বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে জনপ্রশাসন খাতে, যা এক লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা। এটি মোট বাজেটের ১৫.১ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৬ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে সুদ ব্যয় খাতে। দেশি ও বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধের জন্য আগামী অর্থবছরে এক লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে, যা মোট বাজেটের ১৩.৬ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে সুদ ব্যয় ধরা হয়েছিল এক লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা, যা সংশোধিত বাজেটে বেড়ে এক লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা করা হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করেছেন যে, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে ব্যাপক ঋণ গ্রহণের ফলে ঋণ ও সুদ পরিশোধের ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে শিক্ষা খাতে। প্রতি বছর শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কম রাখা হলেও, বিএনপি সরকার নির্বাচনের আগে এ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই অনুযায়ী, এ খাতে এক লাখ ২২ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মোট বাজেটের ১৩.১ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৫ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় শিক্ষা খাতে এক লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) দুই শতাংশ। নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির পাঁচ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

শিক্ষা খাতে বরাদ্দের গুরুত্বারোপ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এবারের বাজেটে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নকে আমরা জাতীয় অগ্রযাত্রার নিউক্লিয়াস (মূল কেন্দ্র) হিসেবে বিবেচনা করেছি। একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয় তার জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ, সৃজনশীলতা ও কর্মক্ষমতার দ্বারা। তাই বর্তমান সরকার শিক্ষাকে কেবল সনদ অর্জনের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং জাতীয় পুনর্গঠন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নের চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছে।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরি: উদ্ধারে তৎপর পুলিশ

প্রস্তাবিত বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাঁচ খাতের, যা মোট ব্যয়ের ৫৮ শতাংশ

আপডেট সময় : ০৪:৪৫:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। প্রস্তাবিত বাজেটে জনপ্রশাসন, ঋণের সুদ পরিশোধ, শিক্ষা, ভর্তুকি ও প্রণোদনা এবং স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই পাঁচটি খাতে মোট বাজেটের ৫৮ শতাংশ ব্যয় করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বাজেট সংক্ষিপ্ত সারের পরিচালন ও উন্নয়ন তথ্য অনুযায়ী, সর্বোচ্চ বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে জনপ্রশাসন খাতে, যা এক লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা। এটি মোট বাজেটের ১৫.১ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৬ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে সুদ ব্যয় খাতে। দেশি ও বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধের জন্য আগামী অর্থবছরে এক লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে, যা মোট বাজেটের ১৩.৬ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে সুদ ব্যয় ধরা হয়েছিল এক লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা, যা সংশোধিত বাজেটে বেড়ে এক লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা করা হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করেছেন যে, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে ব্যাপক ঋণ গ্রহণের ফলে ঋণ ও সুদ পরিশোধের ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে শিক্ষা খাতে। প্রতি বছর শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কম রাখা হলেও, বিএনপি সরকার নির্বাচনের আগে এ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই অনুযায়ী, এ খাতে এক লাখ ২২ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মোট বাজেটের ১৩.১ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৫ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় শিক্ষা খাতে এক লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) দুই শতাংশ। নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির পাঁচ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

শিক্ষা খাতে বরাদ্দের গুরুত্বারোপ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এবারের বাজেটে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নকে আমরা জাতীয় অগ্রযাত্রার নিউক্লিয়াস (মূল কেন্দ্র) হিসেবে বিবেচনা করেছি। একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয় তার জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ, সৃজনশীলতা ও কর্মক্ষমতার দ্বারা। তাই বর্তমান সরকার শিক্ষাকে কেবল সনদ অর্জনের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং জাতীয় পুনর্গঠন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নের চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছে।’