ঢাকা ০৮:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জবিতে উপাচার্য ও ট্রেজারার নিয়োগে নিজস্ব অধ্যাপকদের অগ্রাধিকার চায় শিক্ষক সমিতি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:১৯:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শীর্ষ প্রশাসনিক পদে রদবদলের গুঞ্জনের মধ্যে উপাচার্য ও ট্রেজারার নিয়োগ নিয়ে কড়া অবস্থান ব্যক্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। সংগঠনটির দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা ও স্বকীয়তা বজায় রাখতে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকদের মধ্য থেকেই এই দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিতে হবে। বহিরাগত কাউকে এসব পদে বসানো হলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষক নেতারা।

মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির লাউঞ্জে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। সম্মেলনে সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. ইমরানুল হক লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজস্ব অধ্যাপকদের মধ্য থেকে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা ও ঐতিহ্য অনেক ক্ষেত্রে উপেক্ষিত হয়েছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নিজস্ব অধ্যাপক উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আত্মমর্যাদা ও স্বায়ত্তশাসনের পথ সুগম হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এখন সময়ের দাবি।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নেতারা আরও বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে ৩৮টি বিভাগ ও ২টি ইনস্টিটিউট নিয়ে একটি বিশাল শিক্ষা পরিবারে পরিণত হয়েছে। এই বিশাল প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ‘উপ-উপাচার্য’ পদ সৃষ্টির দাবি জানান তারা। তাদের মতে, একজন উপাচার্য ও ট্রেজারারের পক্ষে এককভাবে এত বড় প্রতিষ্ঠানের সব কাজ তদারকি করা কঠিন, তাই প্রশাসনিক গতিশীলতা আনতে উপ-উপাচার্য পদটি অত্যন্ত প্রয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকটগুলো তুলে ধরে শিক্ষক সমিতি জানায়, শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যার স্থায়ী সমাধান, কেরাণীগঞ্জে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা, গুচ্ছ পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে নিজস্ব ভর্তি পরীক্ষা চালু এবং কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) সচল করার মতো বিষয়গুলো বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ সম্পর্কে অভিজ্ঞ নেতৃত্বের বিকল্প নেই। নিজস্ব শিক্ষকরা দায়িত্ব পেলে তারা আরও সংবেদনশীলতার সঙ্গে এসব সংকট মোকাবিলা করতে পারবেন।

শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক যোগ্য ও দক্ষ জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক রয়েছেন, যারা কেবল নিজ বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বরং দেশের অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রাখেন। রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠের উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে এবং স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে সরকার জবি শিক্ষকদের মধ্য থেকেই যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত শিক্ষক নেতারা সাফ জানিয়ে দেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বার্থ রক্ষায় তারা ঐক্যবদ্ধ। প্রশাসনের শীর্ষ পদে কোনো পরিবর্তন এলে যেন অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষকদের মধ্য থেকে যোগ্য, দক্ষ ও প্রশাসনিক প্রজ্ঞাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মনোনীত করা হয়। অন্যথায় সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি পালনের ইঙ্গিতও দেন তারা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন: রাষ্ট্রপতির ভাষণে থাকছে হাসিনার ‘দুঃশাসন’ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চিত্র

জবিতে উপাচার্য ও ট্রেজারার নিয়োগে নিজস্ব অধ্যাপকদের অগ্রাধিকার চায় শিক্ষক সমিতি

আপডেট সময় : ০১:১৯:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শীর্ষ প্রশাসনিক পদে রদবদলের গুঞ্জনের মধ্যে উপাচার্য ও ট্রেজারার নিয়োগ নিয়ে কড়া অবস্থান ব্যক্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। সংগঠনটির দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা ও স্বকীয়তা বজায় রাখতে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকদের মধ্য থেকেই এই দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিতে হবে। বহিরাগত কাউকে এসব পদে বসানো হলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষক নেতারা।

মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির লাউঞ্জে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। সম্মেলনে সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. ইমরানুল হক লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজস্ব অধ্যাপকদের মধ্য থেকে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা ও ঐতিহ্য অনেক ক্ষেত্রে উপেক্ষিত হয়েছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নিজস্ব অধ্যাপক উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আত্মমর্যাদা ও স্বায়ত্তশাসনের পথ সুগম হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এখন সময়ের দাবি।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নেতারা আরও বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে ৩৮টি বিভাগ ও ২টি ইনস্টিটিউট নিয়ে একটি বিশাল শিক্ষা পরিবারে পরিণত হয়েছে। এই বিশাল প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ‘উপ-উপাচার্য’ পদ সৃষ্টির দাবি জানান তারা। তাদের মতে, একজন উপাচার্য ও ট্রেজারারের পক্ষে এককভাবে এত বড় প্রতিষ্ঠানের সব কাজ তদারকি করা কঠিন, তাই প্রশাসনিক গতিশীলতা আনতে উপ-উপাচার্য পদটি অত্যন্ত প্রয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকটগুলো তুলে ধরে শিক্ষক সমিতি জানায়, শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যার স্থায়ী সমাধান, কেরাণীগঞ্জে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা, গুচ্ছ পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে নিজস্ব ভর্তি পরীক্ষা চালু এবং কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) সচল করার মতো বিষয়গুলো বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ সম্পর্কে অভিজ্ঞ নেতৃত্বের বিকল্প নেই। নিজস্ব শিক্ষকরা দায়িত্ব পেলে তারা আরও সংবেদনশীলতার সঙ্গে এসব সংকট মোকাবিলা করতে পারবেন।

শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক যোগ্য ও দক্ষ জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক রয়েছেন, যারা কেবল নিজ বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বরং দেশের অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রাখেন। রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠের উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে এবং স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে সরকার জবি শিক্ষকদের মধ্য থেকেই যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত শিক্ষক নেতারা সাফ জানিয়ে দেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বার্থ রক্ষায় তারা ঐক্যবদ্ধ। প্রশাসনের শীর্ষ পদে কোনো পরিবর্তন এলে যেন অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষকদের মধ্য থেকে যোগ্য, দক্ষ ও প্রশাসনিক প্রজ্ঞাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মনোনীত করা হয়। অন্যথায় সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি পালনের ইঙ্গিতও দেন তারা।