ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও মোনাজাতে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ না করায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। মোনাজাত ঘিরে সৃষ্ট এই প্রতিবাদ একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক হট্টগোলে রূপ নেয়।
জানা যায়, একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর ভাষাশহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর শহীদদের আত্মার শান্তি ও মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। মোনাজাতে ভাষাশহীদ, একাত্তরের শহীদ এবং চব্বিশের শহীদসহ অনেকের জন্য দোয়া করা হলেও, বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের নাম বাদ দেওয়া হয়।
মোনাজাত শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শহীদ বেদির নিচ থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এর তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানান। তারা বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কেবল বাংলাদেশের একজন সাবেক রাষ্ট্রপতিই নন, তিনি স্বাধীনতার ঘোষক এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা। তার প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ে দাঁড়িয়ে তার নামে দোয়া না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। এ সময় উপস্থিত প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে তারা এ ভুলের ব্যাখ্যা দাবি করেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে পরে কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমামকে দিয়ে আবারও মোনাজাত পরিচালনা করানো হয়। এই দফায় তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, তাদের প্রয়াত সন্তান আরাফাত রহমান কোকো এবং তারেক রহমানসহ জিয়া পরিবারের সদস্যদের নাম উল্লেখ করে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।
এ বিষয়ে ইবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, “ইমাম অত্যন্ত ভালো মানুষ। আজ পর্যন্ত তিনি কোনোদিন তার মোনাজাতে শহীদ জিয়ার নামে দোয়া করতে ভুল করেননি। আমাদের বিশ্বাস, আয়োজক কমিটি বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে তার নামটি বাদ দিয়ে দিয়েছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ফ্যাসিবাদ কায়েম করছে এবং কতিপয় শিক্ষক উপাচার্যকে জিম্মি করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছেন।
এদিকে, ছাত্রদলের প্রতিবাদে দুবার মোনাজাত করানোর পরপরই প্রশাসনের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে হট্টগোল শুরু হয়। ইমামের এই ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’কে কেন্দ্র করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক এস এম সুইটের সঙ্গে উপ-উপাচার্য ড. এম এয়াকুব আলীর বাগ্বিতণ্ডা হয়। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপাচার্যের কাছে এ ঘটনার ব্যাখ্যা চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সুইট বলেন, “উপাচার্য একা তো প্রশাসন নন—প্রো-ভিসি, ট্রেজারারসহ পুরো বডি মিলেই প্রশাসন।”
এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য ড. এম এয়াকুব আলী জানান, মোনাজাত শুরুর আগে তিনি নিজেই ইমামকে ডেকে জিয়া পরিবারের সবার জন্য দোয়া করার কথা বলে দিয়েছিলেন। তাই ইমাম তাদের জন্য দোয়া না করার দায়ভার উপ-উপাচার্যের ওপর বর্তায় না। তার এই মন্তব্যের পরই মূলত দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে এবং হট্টগোল শুরু হয়।
এ সময় উপাচার্য ড. নকীব নসরুল্লাহ, ট্রেজারার ড. জাহাঙ্গীর আলম এবং প্রক্টোরিয়াল বডির সদস্যরা উপ-উপাচার্যকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। উপাচার্য উপস্থিত ছাত্রদের বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক এস এম সুইট উপ-উপাচার্যকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনি বলেন স্যার, আমিও আমার পয়েন্টে কথা বলব।” এ সময় উপ-উপাচার্য ড. এম এয়াকুব আলী অভিযোগ করেন যে, বৈষম্যবিরোধী এই নেতা সব সময়ই বেয়াদবি করেন। পরবর্তী সময়ে তারা সবাই ডায়না চত্বরের কাছাকাছি পৌঁছালে উপস্থিত ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আরেক দফা হট্টগোল হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
রিপোর্টারের নাম 

























