ঢাকা ০৬:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন: কর্মমুখী ও যুগোপযোগী করার ঘোষণা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৯:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তেমন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না, বরং তা বেকারত্ব বৃদ্ধিতে পরোক্ষভাবে দায়ী হচ্ছে—এমনটা উল্লেখ করে শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর ওপর জোর দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত বেকারত্ব হ্রাস এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা, কোনোভাবেই তা বেকারত্ব বাড়ানোর কারণ হওয়া উচিত নয়। এই লক্ষ্যে শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও কর্মমুখী, দক্ষতাভিত্তিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা হবে বলে তিনি জানান।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) মিরপুরে প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল।

ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার এখনও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করতে এবং তাদের দক্ষ, কর্মক্ষম ও উৎপাদনশীল হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুনভাবে বিন্যাস করতে হবে। তিনি আরও যোগ করেন, নতুন কলেজ বা বিষয় খোলার দাবির চেয়েও বর্তমানে বাজারের চাহিদা এবং কর্মসংস্থানের বাস্তবতাকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

মাতৃভাষা বাংলার গুরুত্ব অপরিসীম উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বাংলা আমাদের চিন্তা, স্বপ্ন ও অনুভূতির প্রধান মাধ্যম। বিশ্বায়নের এই যুগে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজি এবং অন্যান্য ভাষাগত দক্ষতা অর্জনও অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, বাংলা বিশ্বের অন্যতম প্রধান ব্যবহৃত ভাষা এবং এর সংরক্ষণে বাংলাদেশের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি জানান, এই দিবসের মাধ্যমে ভাষা সংরক্ষণের নৈতিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর ভাষা ও সংস্কৃতির উন্নয়ন ও সংরক্ষণেও বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, একটি শক্তিশালী ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করা অপরিহার্য। তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সকল দপ্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণের অঙ্গীকার করেন। আগামী পাঁচ বছরে মন্ত্রণালয়ের কোথাও কোনো প্রকার দুর্নীতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে না এবং কাউকে দুর্নীতির সুযোগও দেওয়া হবে না বলে তিনি জানান।

প্রতিমন্ত্রী শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে একটি রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তি হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এই ভিত্তি দুর্বল হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য তিনি তিনটি মূল বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন: যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম (কারিকুলাম), কার্যকর পাঠদান পদ্ধতি (ক্লাসরুম) এবং সারা দেশে মানের সামঞ্জস্য (কনসিস্টেন্সি)। বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাসহ বিভিন্ন শিক্ষা ধারার মধ্যে মানগত সমন্বয় সাধন করাও অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামানসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উজিরপুরে অগ্নিকাণ্ডে ৫ পরিবারের স্বপ্ন ভস্ম, লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন: কর্মমুখী ও যুগোপযোগী করার ঘোষণা

আপডেট সময় : ০৩:৩৯:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তেমন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না, বরং তা বেকারত্ব বৃদ্ধিতে পরোক্ষভাবে দায়ী হচ্ছে—এমনটা উল্লেখ করে শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর ওপর জোর দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত বেকারত্ব হ্রাস এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা, কোনোভাবেই তা বেকারত্ব বাড়ানোর কারণ হওয়া উচিত নয়। এই লক্ষ্যে শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও কর্মমুখী, দক্ষতাভিত্তিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা হবে বলে তিনি জানান।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) মিরপুরে প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল।

ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার এখনও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করতে এবং তাদের দক্ষ, কর্মক্ষম ও উৎপাদনশীল হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুনভাবে বিন্যাস করতে হবে। তিনি আরও যোগ করেন, নতুন কলেজ বা বিষয় খোলার দাবির চেয়েও বর্তমানে বাজারের চাহিদা এবং কর্মসংস্থানের বাস্তবতাকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

মাতৃভাষা বাংলার গুরুত্ব অপরিসীম উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বাংলা আমাদের চিন্তা, স্বপ্ন ও অনুভূতির প্রধান মাধ্যম। বিশ্বায়নের এই যুগে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজি এবং অন্যান্য ভাষাগত দক্ষতা অর্জনও অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, বাংলা বিশ্বের অন্যতম প্রধান ব্যবহৃত ভাষা এবং এর সংরক্ষণে বাংলাদেশের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি জানান, এই দিবসের মাধ্যমে ভাষা সংরক্ষণের নৈতিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর ভাষা ও সংস্কৃতির উন্নয়ন ও সংরক্ষণেও বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, একটি শক্তিশালী ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করা অপরিহার্য। তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সকল দপ্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণের অঙ্গীকার করেন। আগামী পাঁচ বছরে মন্ত্রণালয়ের কোথাও কোনো প্রকার দুর্নীতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে না এবং কাউকে দুর্নীতির সুযোগও দেওয়া হবে না বলে তিনি জানান।

প্রতিমন্ত্রী শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে একটি রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তি হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এই ভিত্তি দুর্বল হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য তিনি তিনটি মূল বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন: যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম (কারিকুলাম), কার্যকর পাঠদান পদ্ধতি (ক্লাসরুম) এবং সারা দেশে মানের সামঞ্জস্য (কনসিস্টেন্সি)। বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাসহ বিভিন্ন শিক্ষা ধারার মধ্যে মানগত সমন্বয় সাধন করাও অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামানসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।