ঢাকা ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জান্নাতের পথে অবিচল, অধিকার প্রতিষ্ঠায় আপসহীন: তৃতীয় তারাবিতে কোরআনের বিপ্লবী বার্তা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:২২:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

পবিত্র রমজানের তৃতীয় তারাবিহতে আজ কোরআনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সূরা, আলে ইমরান (৯২-২০০) ও নিসা (১-৮৭)-এর মর্মবাণী পাঠ করা হলো। চার পারা থেকে শুরু করে পাঁচ পারার প্রথমার্ধ পর্যন্ত পঠিত এই অংশে জান্নাতের পথে অবিচল থাকা, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, নারী ও এতিমের অধিকার সুরক্ষা এবং আত্মিক উন্নতির বহুমুখী নির্দেশনা ফুটে উঠেছে। মুসলিম উম্মাহর জন্য ইহকালীন ও পরকালীন সফলতার এক অনন্য দিকনির্দেশনা নিয়ে হাজির হয়েছে আজকের তারাবি।

আজকের তারাবিতে সূরা আলে ইমরানের ৯২ থেকে ২০০ নম্বর আয়াত পর্যন্ত পাঠ করা হয়। এই অংশে আহলে কিতাব ও মুমিনদের উদ্দেশে মৌলিক উপদেশ ও পথনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বদর ও উহুদ যুদ্ধের বিস্তারিত আলোচনা উঠে এসেছে, যেখানে আল্লাহর সাহায্য ও ফেরেশতা নাজিলের অলৌকিক ঘটনা এবং সংকটকালে মুমিনদের ধৈর্য ও দৃঢ়তার প্রশংসা করা হয়েছে। সুদ পরিহার করে দান-খয়রাতে উৎসাহিত করা হয়েছে এবং জান্নাতে প্রবেশের পূর্বশর্ত হিসেবে ক্ষমা ও আল্লাহর পথে ব্যয়ের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। কাফেরদের বিভিন্ন ভুল ধারণা ও প্রশ্নের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি মুমিনদের বারবার পরীক্ষার মুখোমুখি হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সূরার শেষ অংশে বলা হয়েছে, বিশ্বাসীরা আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে এবং সর্বক্ষণ তাঁর জিকির ও প্রশংসায় মগ্ন থাকে। পরস্পর ধৈর্য ধারণ ও আল্লাহভীরু জীবনযাপনের মাধ্যমেই প্রকৃত সফলতা অর্জন সম্ভব বলে এই সূরার ইতি টানা হয়েছে।

এরপর পাঠ করা হয় সূরা নিসার ১ থেকে ৮৭ নম্বর আয়াত। মদিনায় অবতীর্ণ এই সূরার মূল বিষয়বস্তু নারী ও এতিমদের অধিকার। এতিমদের ধনসম্পদ আত্মসাৎ না করা এবং উত্তরাধিকার সম্পত্তি বণ্টনের বিস্তারিত নিয়মকানুন এখানে বর্ণিত হয়েছে। পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেখানে ব্যভিচারের শাস্তি ও তওবার বিধানের পাশাপাশি স্ত্রীদের প্রতি সদ্ব্যবহার এবং তাদের সম্পত্তির উত্তরাধিকার জোর করে না নেওয়ার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। কাদের সঙ্গে বিয়ে হারাম, যুদ্ধবন্দি নারী ও দাসীদের প্রতি কেমন আচরণ করতে হবে—এসব বিষয়েও বিস্তারিত হেদায়েত দেওয়া হয়েছে। মুমিনদের জন্য সাধারণ উপদেশ হিসেবে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে দখল না করা, বড় ধরনের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা এবং অন্যের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ দেখে হিংসা না করার কথা বলা হয়েছে। দাম্পত্য কলহ নিরসনের উপায় বাতলে দেওয়ার পাশাপাশি একজন মুমিন মুসলমানের জীবনধারা কেমন হওয়া উচিত, কার সঙ্গে কেমন আচরণ করতে হবে এবং প্রত্যেককে তার প্রাপ্য অধিকার প্রদানের গুরুত্ব আলোচনা করা হয়েছে। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাজে দাঁড়াতে নিষেধ করা এবং পবিত্রতার জন্য পানি না পেলে তায়াম্মুমের বিধানও উল্লেখ করা হয়েছে। আহলে কিতাবদের প্রতি ভর্ৎসনা এবং জিহাদের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে আজকের তারাবিহ শেষ হয়। যারা জিহাদে অংশ নেয় তাদের মর্যাদা ও প্রতিদান বর্ণনা করা হয়েছে, অন্যদিকে জিহাদের ডাক এলে যারা ঘরে বসে থাকে তাদের কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। সুপারিশের নীতিমালা এবং অভিবাদনের শিষ্টাচার সম্পর্কিত দিকনির্দেশনাও এই অংশে দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাঠের রাজা হলেও যে অপূর্ণতা আজও পোড়ায় মেসিকে

জান্নাতের পথে অবিচল, অধিকার প্রতিষ্ঠায় আপসহীন: তৃতীয় তারাবিতে কোরআনের বিপ্লবী বার্তা

আপডেট সময় : ০৫:২২:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পবিত্র রমজানের তৃতীয় তারাবিহতে আজ কোরআনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সূরা, আলে ইমরান (৯২-২০০) ও নিসা (১-৮৭)-এর মর্মবাণী পাঠ করা হলো। চার পারা থেকে শুরু করে পাঁচ পারার প্রথমার্ধ পর্যন্ত পঠিত এই অংশে জান্নাতের পথে অবিচল থাকা, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, নারী ও এতিমের অধিকার সুরক্ষা এবং আত্মিক উন্নতির বহুমুখী নির্দেশনা ফুটে উঠেছে। মুসলিম উম্মাহর জন্য ইহকালীন ও পরকালীন সফলতার এক অনন্য দিকনির্দেশনা নিয়ে হাজির হয়েছে আজকের তারাবি।

আজকের তারাবিতে সূরা আলে ইমরানের ৯২ থেকে ২০০ নম্বর আয়াত পর্যন্ত পাঠ করা হয়। এই অংশে আহলে কিতাব ও মুমিনদের উদ্দেশে মৌলিক উপদেশ ও পথনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বদর ও উহুদ যুদ্ধের বিস্তারিত আলোচনা উঠে এসেছে, যেখানে আল্লাহর সাহায্য ও ফেরেশতা নাজিলের অলৌকিক ঘটনা এবং সংকটকালে মুমিনদের ধৈর্য ও দৃঢ়তার প্রশংসা করা হয়েছে। সুদ পরিহার করে দান-খয়রাতে উৎসাহিত করা হয়েছে এবং জান্নাতে প্রবেশের পূর্বশর্ত হিসেবে ক্ষমা ও আল্লাহর পথে ব্যয়ের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। কাফেরদের বিভিন্ন ভুল ধারণা ও প্রশ্নের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি মুমিনদের বারবার পরীক্ষার মুখোমুখি হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সূরার শেষ অংশে বলা হয়েছে, বিশ্বাসীরা আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে এবং সর্বক্ষণ তাঁর জিকির ও প্রশংসায় মগ্ন থাকে। পরস্পর ধৈর্য ধারণ ও আল্লাহভীরু জীবনযাপনের মাধ্যমেই প্রকৃত সফলতা অর্জন সম্ভব বলে এই সূরার ইতি টানা হয়েছে।

এরপর পাঠ করা হয় সূরা নিসার ১ থেকে ৮৭ নম্বর আয়াত। মদিনায় অবতীর্ণ এই সূরার মূল বিষয়বস্তু নারী ও এতিমদের অধিকার। এতিমদের ধনসম্পদ আত্মসাৎ না করা এবং উত্তরাধিকার সম্পত্তি বণ্টনের বিস্তারিত নিয়মকানুন এখানে বর্ণিত হয়েছে। পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেখানে ব্যভিচারের শাস্তি ও তওবার বিধানের পাশাপাশি স্ত্রীদের প্রতি সদ্ব্যবহার এবং তাদের সম্পত্তির উত্তরাধিকার জোর করে না নেওয়ার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। কাদের সঙ্গে বিয়ে হারাম, যুদ্ধবন্দি নারী ও দাসীদের প্রতি কেমন আচরণ করতে হবে—এসব বিষয়েও বিস্তারিত হেদায়েত দেওয়া হয়েছে। মুমিনদের জন্য সাধারণ উপদেশ হিসেবে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে দখল না করা, বড় ধরনের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা এবং অন্যের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ দেখে হিংসা না করার কথা বলা হয়েছে। দাম্পত্য কলহ নিরসনের উপায় বাতলে দেওয়ার পাশাপাশি একজন মুমিন মুসলমানের জীবনধারা কেমন হওয়া উচিত, কার সঙ্গে কেমন আচরণ করতে হবে এবং প্রত্যেককে তার প্রাপ্য অধিকার প্রদানের গুরুত্ব আলোচনা করা হয়েছে। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাজে দাঁড়াতে নিষেধ করা এবং পবিত্রতার জন্য পানি না পেলে তায়াম্মুমের বিধানও উল্লেখ করা হয়েছে। আহলে কিতাবদের প্রতি ভর্ৎসনা এবং জিহাদের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে আজকের তারাবিহ শেষ হয়। যারা জিহাদে অংশ নেয় তাদের মর্যাদা ও প্রতিদান বর্ণনা করা হয়েছে, অন্যদিকে জিহাদের ডাক এলে যারা ঘরে বসে থাকে তাদের কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। সুপারিশের নীতিমালা এবং অভিবাদনের শিষ্টাচার সম্পর্কিত দিকনির্দেশনাও এই অংশে দেওয়া হয়েছে।