ঢাকা ০৭:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আল্লাহর নিয়ামত প্রকাশে ইবাদত নিহিত: ইসলামে সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব

ইসলামকে প্রায়শই একটি ধর্ম হিসেবে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয় যেখানে সৌন্দর্য, পরিচ্ছন্নতা ও পরিপাটি জীবনযাপনের কোনো স্থান নেই। তবে বাস্তবতা হলো, ইসলাম মানুষের আত্মিক পবিত্রতার পাশাপাশি বাহ্যিক সৌন্দর্য, পরিচ্ছন্নতা ও শালীন রুচিকেও অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। ইসলাম মানুষকে অহংকার ও অপচয় থেকে যেমন বিরত থাকতে বলে, তেমনি অগোছালো, অপরিচ্ছন্ন ও অবহেলাপূর্ণ জীবনকেও নিরুৎসাহিত করে। বস্তুত, আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের যথাযথ ও পরিমিত প্রকাশকেও ইবাদতের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা তার দেওয়া নিয়ামতের নিদর্শন তার বান্দার ওপর দেখতে ভালোবাসেন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৮১৯)। এই হাদিসে ‘নিয়ামতের নিদর্শন’ বলতে কেবল ধন-সম্পদ নয়, বরং আল্লাহর দেওয়া বৈধ রিজিক, পরিচ্ছন্নতা, শালীন পোশাক, পরিপাটি জীবনযাপন এবং ভারসাম্যপূর্ণ সৌন্দর্যবোধকেও বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ, আল্লাহ কাউকে সামর্থ্য দিলে সে যেন নিজেকে এমনভাবে উপস্থাপন না করে, যাতে তাকে চরম অভাবগ্রস্ত বা অগোছালো মনে হয়, কারণ ইসলাম কৃত্রিম দারিদ্র্য প্রদর্শনকে পছন্দ করে না।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘বলুন, আল্লাহ তার বান্দাদের জন্য যে সৌন্দর্য ও পবিত্র রিজিক সৃষ্টি করেছেন, তা কে হারাম করেছে?’ (সুরা আ‘রাফ, আয়াত : ৩২)। এই আয়াত ইসলামের সৌন্দর্যবোধকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। ইসলাম সৌন্দর্যের বিরুদ্ধে নয়; বরং সৌন্দর্যকে সঠিক সীমার মধ্যে দেখতে চায়। তাই সুন্দর পোশাক পরা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, পরিচ্ছন্ন থাকা কিংবা রুচিশীল জীবনযাপন করা কোনো দোষ নয়, যদি তা অহংকার, অপচয় ও লোকদেখানোর উদ্দেশ্যে না হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও ছিলেন অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি। তিনি সুন্দর কাপড় পরতেন, সুগন্ধি ব্যবহার করতেন এবং সাহাবিদেরও পরিচ্ছন্ন থাকতে উৎসাহ দিতেন। হাদিসে এসেছে, তিনি এক অপরিষ্কার ও অগোছালো ব্যক্তিকে দেখে তাকে পরিপাটি হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিরোধী সংসদীয় এলাকায় নারী এমপিদের উন্নয়ন তদারকি: প্রধানমন্ত্রীর ব্যাখ্যা

আল্লাহর নিয়ামত প্রকাশে ইবাদত নিহিত: ইসলামে সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব

আপডেট সময় : ০৬:২৪:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

ইসলামকে প্রায়শই একটি ধর্ম হিসেবে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয় যেখানে সৌন্দর্য, পরিচ্ছন্নতা ও পরিপাটি জীবনযাপনের কোনো স্থান নেই। তবে বাস্তবতা হলো, ইসলাম মানুষের আত্মিক পবিত্রতার পাশাপাশি বাহ্যিক সৌন্দর্য, পরিচ্ছন্নতা ও শালীন রুচিকেও অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। ইসলাম মানুষকে অহংকার ও অপচয় থেকে যেমন বিরত থাকতে বলে, তেমনি অগোছালো, অপরিচ্ছন্ন ও অবহেলাপূর্ণ জীবনকেও নিরুৎসাহিত করে। বস্তুত, আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের যথাযথ ও পরিমিত প্রকাশকেও ইবাদতের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা তার দেওয়া নিয়ামতের নিদর্শন তার বান্দার ওপর দেখতে ভালোবাসেন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৮১৯)। এই হাদিসে ‘নিয়ামতের নিদর্শন’ বলতে কেবল ধন-সম্পদ নয়, বরং আল্লাহর দেওয়া বৈধ রিজিক, পরিচ্ছন্নতা, শালীন পোশাক, পরিপাটি জীবনযাপন এবং ভারসাম্যপূর্ণ সৌন্দর্যবোধকেও বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ, আল্লাহ কাউকে সামর্থ্য দিলে সে যেন নিজেকে এমনভাবে উপস্থাপন না করে, যাতে তাকে চরম অভাবগ্রস্ত বা অগোছালো মনে হয়, কারণ ইসলাম কৃত্রিম দারিদ্র্য প্রদর্শনকে পছন্দ করে না।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘বলুন, আল্লাহ তার বান্দাদের জন্য যে সৌন্দর্য ও পবিত্র রিজিক সৃষ্টি করেছেন, তা কে হারাম করেছে?’ (সুরা আ‘রাফ, আয়াত : ৩২)। এই আয়াত ইসলামের সৌন্দর্যবোধকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। ইসলাম সৌন্দর্যের বিরুদ্ধে নয়; বরং সৌন্দর্যকে সঠিক সীমার মধ্যে দেখতে চায়। তাই সুন্দর পোশাক পরা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, পরিচ্ছন্ন থাকা কিংবা রুচিশীল জীবনযাপন করা কোনো দোষ নয়, যদি তা অহংকার, অপচয় ও লোকদেখানোর উদ্দেশ্যে না হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও ছিলেন অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি। তিনি সুন্দর কাপড় পরতেন, সুগন্ধি ব্যবহার করতেন এবং সাহাবিদেরও পরিচ্ছন্ন থাকতে উৎসাহ দিতেন। হাদিসে এসেছে, তিনি এক অপরিষ্কার ও অগোছালো ব্যক্তিকে দেখে তাকে পরিপাটি হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।