ঢাকা ০৫:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত-নৃত্য-নাট্যকলা অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ বাতিলের দাবি জানাল খেলাফত মজলিস

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে সংগীত, নৃত্যকলা, নাট্যকলা এবং চারু-কারুকলাকে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার সরকারি উদ্যোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। সংগঠনটির মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ ধর্মপ্রাণ মুসলমান। তাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ, পারিবারিক সংস্কৃতি ও সামাজিক বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে কোমলমতি শিশুদের ওপর কোনো বিশেষ সাংস্কৃতিক ধারা চাপিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ জনগণের প্রত্যাশার পরিপন্থী। শিক্ষা ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ সুনাগরিক গড়ে তোলা। কিন্তু সেই লক্ষ্য থেকে সরে এসে বিতর্কিত বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া উদ্বেগজনক।

মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ আরও বলেন, দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় এখনো শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নের নানা চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। এসব মৌলিক সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে নতুন বিতর্কের জন্ম দেয় এমন বিষয় সংযোজন জাতির প্রকৃত শিক্ষাগত চাহিদাকে উপেক্ষা করার শামিল।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোমলমতি শিশুদের প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে প্রাথমিক শিক্ষায় নৈতিক, চারিত্রিক ও ধর্মীয় শিক্ষাকে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। বিদ্যালয়গুলোতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে শিশুদের সত্যবাদিতা, আমানতদারিতা, দায়িত্ববোধ, মানবিকতা, আল্লাহভীতি ও জবাবদিহিতার শিক্ষা দিতে হবে। তাদের ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ-অকল্যাণ সম্পর্কে সচেতন করে গড়ে তুলতে হবে। কারণ যে শিক্ষা মানুষকে তার স্রষ্টা, নৈতিক দায়িত্ব এবং কর্মফল সম্পর্কে সচেতন করে, সেই শিক্ষাই ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর নাগরিক তৈরি করতে সক্ষম।

তিনি বলেন, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধে সমৃদ্ধ একটি প্রজন্মই ভবিষ্যতে ঘুষ, দুর্নীতি, প্রতারণা, চাঁদাবাজি, মাদকাসক্তি ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। একটি ন্যায়ভিত্তিক, সুশাসিত ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি সরকারের প্রতি জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক চেতনা ও সামাজিক বাস্তবতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে শিক্ষানীতি প্রণয়নের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে এ বিষয়ে দেশের অভিভাবক সমাজ, আলেম-উলামা, শিক্ষাবিদ, সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের সজাগ ও সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান তিনি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নবীজির (সা.) অর্থনৈতিক জীবন: দারিদ্র্যের আড়ালে সচ্ছলতার চিত্র

প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত-নৃত্য-নাট্যকলা অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ বাতিলের দাবি জানাল খেলাফত মজলিস

আপডেট সময় : ০৩:২৪:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে সংগীত, নৃত্যকলা, নাট্যকলা এবং চারু-কারুকলাকে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার সরকারি উদ্যোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। সংগঠনটির মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ ধর্মপ্রাণ মুসলমান। তাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ, পারিবারিক সংস্কৃতি ও সামাজিক বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে কোমলমতি শিশুদের ওপর কোনো বিশেষ সাংস্কৃতিক ধারা চাপিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ জনগণের প্রত্যাশার পরিপন্থী। শিক্ষা ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ সুনাগরিক গড়ে তোলা। কিন্তু সেই লক্ষ্য থেকে সরে এসে বিতর্কিত বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া উদ্বেগজনক।

মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ আরও বলেন, দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় এখনো শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নের নানা চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। এসব মৌলিক সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে নতুন বিতর্কের জন্ম দেয় এমন বিষয় সংযোজন জাতির প্রকৃত শিক্ষাগত চাহিদাকে উপেক্ষা করার শামিল।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোমলমতি শিশুদের প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে প্রাথমিক শিক্ষায় নৈতিক, চারিত্রিক ও ধর্মীয় শিক্ষাকে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। বিদ্যালয়গুলোতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে শিশুদের সত্যবাদিতা, আমানতদারিতা, দায়িত্ববোধ, মানবিকতা, আল্লাহভীতি ও জবাবদিহিতার শিক্ষা দিতে হবে। তাদের ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ-অকল্যাণ সম্পর্কে সচেতন করে গড়ে তুলতে হবে। কারণ যে শিক্ষা মানুষকে তার স্রষ্টা, নৈতিক দায়িত্ব এবং কর্মফল সম্পর্কে সচেতন করে, সেই শিক্ষাই ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর নাগরিক তৈরি করতে সক্ষম।

তিনি বলেন, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধে সমৃদ্ধ একটি প্রজন্মই ভবিষ্যতে ঘুষ, দুর্নীতি, প্রতারণা, চাঁদাবাজি, মাদকাসক্তি ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। একটি ন্যায়ভিত্তিক, সুশাসিত ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি সরকারের প্রতি জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক চেতনা ও সামাজিক বাস্তবতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে শিক্ষানীতি প্রণয়নের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে এ বিষয়ে দেশের অভিভাবক সমাজ, আলেম-উলামা, শিক্ষাবিদ, সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের সজাগ ও সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান তিনি।