ঢাকা ০৭:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

তামাকপণ্যের দাম বৃদ্ধি সীমিত, রাজস্ব হারানো এবং জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম সামান্য বৃদ্ধি এবং বিড়ি, গুল ও জর্দার দাম ও করহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির নিরিখে তামাকপণ্যের প্রকৃত দাম কমে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সিগারেটের মূল স্তর সংখ্যা কমানো বা সুনির্দিষ্ট শুল্কের মতো কোনো সংস্কার না আনায় তামাকের ব্যবহার, তামাকজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যু বাড়বে এবং সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির সুযোগ হাতছাড়া হবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে নিম্নস্তরের প্রতি প্যাকেট দশ শলাকা সিগারেটের দাম ২ টাকা বাড়িয়ে ৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে দাম বৃদ্ধি মাত্র ৩.৩৩ শতাংশ, যা ১০.২৭ শতাংশ মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির তুলনায় অনেক কম। এর ফলে নিম্নস্তরের সিগারেটের প্রকৃত দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং তরুণ ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে কমদামী সিগারেটের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বাড়বে। বর্তমানে সিগারেট বাজারের প্রায় ৭৫ শতাংশই নিম্ন স্তরের দখলে, যার প্রধান ভোক্তা দরিদ্র ও তরুণ জনগোষ্ঠী।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, মধ্যম স্তরের ১০ শলাকা সিগারেটের দাম ৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯২ টাকা (১৫ শতাংশ), উচ্চ স্তরে ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা (১৪.২৯ শতাংশ) এবং প্রিমিয়াম বা অতি উচ্চ স্তরের ১০ শলাকার দাম ১৮৫ টাকা থেকে ২১০ টাকা (১৩.৫১ শতাংশ) নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দামবৃদ্ধি নিত্যপণ্যের দামবৃদ্ধির তুলনায় খুবই নগণ্য। তামাকবিরোধীদের প্রস্তাব অনুযায়ী, সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তরকে একত্রিত করে প্রতি ১০ শলাকার খুচরা মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ, সুনির্দিষ্ট কর পদ্ধতি প্রবর্তন এবং সব ধরনের তামাকপণ্যের দাম বাড়ানো হলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং রাজস্ব বৃদ্ধি সম্ভব হতো।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর: পেনশনের সাথে গ্র্যাচুইটি সুবিধা

তামাকপণ্যের দাম বৃদ্ধি সীমিত, রাজস্ব হারানো এবং জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা

আপডেট সময় : ০৫:৪৮:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম সামান্য বৃদ্ধি এবং বিড়ি, গুল ও জর্দার দাম ও করহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির নিরিখে তামাকপণ্যের প্রকৃত দাম কমে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সিগারেটের মূল স্তর সংখ্যা কমানো বা সুনির্দিষ্ট শুল্কের মতো কোনো সংস্কার না আনায় তামাকের ব্যবহার, তামাকজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যু বাড়বে এবং সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির সুযোগ হাতছাড়া হবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে নিম্নস্তরের প্রতি প্যাকেট দশ শলাকা সিগারেটের দাম ২ টাকা বাড়িয়ে ৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে দাম বৃদ্ধি মাত্র ৩.৩৩ শতাংশ, যা ১০.২৭ শতাংশ মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির তুলনায় অনেক কম। এর ফলে নিম্নস্তরের সিগারেটের প্রকৃত দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং তরুণ ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে কমদামী সিগারেটের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বাড়বে। বর্তমানে সিগারেট বাজারের প্রায় ৭৫ শতাংশই নিম্ন স্তরের দখলে, যার প্রধান ভোক্তা দরিদ্র ও তরুণ জনগোষ্ঠী।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, মধ্যম স্তরের ১০ শলাকা সিগারেটের দাম ৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯২ টাকা (১৫ শতাংশ), উচ্চ স্তরে ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা (১৪.২৯ শতাংশ) এবং প্রিমিয়াম বা অতি উচ্চ স্তরের ১০ শলাকার দাম ১৮৫ টাকা থেকে ২১০ টাকা (১৩.৫১ শতাংশ) নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দামবৃদ্ধি নিত্যপণ্যের দামবৃদ্ধির তুলনায় খুবই নগণ্য। তামাকবিরোধীদের প্রস্তাব অনুযায়ী, সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তরকে একত্রিত করে প্রতি ১০ শলাকার খুচরা মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ, সুনির্দিষ্ট কর পদ্ধতি প্রবর্তন এবং সব ধরনের তামাকপণ্যের দাম বাড়ানো হলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং রাজস্ব বৃদ্ধি সম্ভব হতো।