ঢাকা ১০:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মৃদু শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে পঞ্চগড়, তাপমাত্রা নামল ৮ ডিগ্রিতে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৪:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

দেশের উত্তর জনপদে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত পঞ্চগড় জেলা এখন তীব্র ঠাণ্ডা আর কনকনে হিমেল বাতাসের কবলে। উত্তরের এই জেলায় বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, যার ফলে জনজীবন অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার সকালে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অথচ এর আগের দিনও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি। অর্থাৎ মাত্র এক দিনের ব্যবধানে পারদ অনেকটা নিচে নেমে এসেছে। স্থানীয় আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, মঙ্গলবার ভোরে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল শতভাগ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৬ থেকে ৮ কিলোমিটার। সোমবার এই অঞ্চলের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হিমালয় থেকে বয়ে আসা সরাসরি শীতল বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে এই অঞ্চলে শীতের প্রকোপ বেড়েছে। সকাল ও সন্ধ্যার পর পুরো জনপদ কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে, যা দিনের বেলাতেও অব্যাহত থাকছে।

তীব্র এই শীত আর হিমেল হাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। ঠান্ডার কারণে দিনমজুর, চা-শ্রমিক ও পাথর শ্রমিকরা ঠিকমতো কাজে বের হতে পারছেন না। এতে তাদের প্রাত্যহিক আয় যেমন কমে গেছে, তেমনি সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষদের জন্য এই হাড়কাঁপানো শীতের রাতগুলো এখন চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে জেলাজুড়ে শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাবও বেড়েছে। হাসপাতালগুলোতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধরাই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।

শীতের এই কঠিন সময়ে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের সামর্থ্যবান ও বিত্তবান মানুষদের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ড. ইউনূসের বিদায় ও নতুন সরকারের আগমনে ভারতের স্বস্তি এবং প্রত্যাশার দোলাচল

মৃদু শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে পঞ্চগড়, তাপমাত্রা নামল ৮ ডিগ্রিতে

আপডেট সময় : ১০:১৪:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের উত্তর জনপদে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত পঞ্চগড় জেলা এখন তীব্র ঠাণ্ডা আর কনকনে হিমেল বাতাসের কবলে। উত্তরের এই জেলায় বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, যার ফলে জনজীবন অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার সকালে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অথচ এর আগের দিনও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি। অর্থাৎ মাত্র এক দিনের ব্যবধানে পারদ অনেকটা নিচে নেমে এসেছে। স্থানীয় আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, মঙ্গলবার ভোরে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল শতভাগ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৬ থেকে ৮ কিলোমিটার। সোমবার এই অঞ্চলের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হিমালয় থেকে বয়ে আসা সরাসরি শীতল বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে এই অঞ্চলে শীতের প্রকোপ বেড়েছে। সকাল ও সন্ধ্যার পর পুরো জনপদ কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে, যা দিনের বেলাতেও অব্যাহত থাকছে।

তীব্র এই শীত আর হিমেল হাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। ঠান্ডার কারণে দিনমজুর, চা-শ্রমিক ও পাথর শ্রমিকরা ঠিকমতো কাজে বের হতে পারছেন না। এতে তাদের প্রাত্যহিক আয় যেমন কমে গেছে, তেমনি সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষদের জন্য এই হাড়কাঁপানো শীতের রাতগুলো এখন চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে জেলাজুড়ে শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাবও বেড়েছে। হাসপাতালগুলোতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধরাই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।

শীতের এই কঠিন সময়ে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের সামর্থ্যবান ও বিত্তবান মানুষদের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।