ঢাকা ০৫:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

দুই মাসে ৬০৫ খুন, ‘অস্বাভাবিক নয়’ বলছে পুলিশ সদর দপ্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক

গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে দেশে ৬০৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও এটিকে অস্বাভাবিক বলে মনে করছে না পুলিশ সদর দপ্তর। তাদের দাবি, গত এক দশকের খুনের পরিসংখ্যানের সঙ্গে তুলনা করলে এই সংখ্যা স্বাভাবিক প্রবণতার মধ্যেই রয়েছে।

সোমবার এক লিখিত বক্তব্যে পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লিখিত দুই মাসে ৬০৫টি হত্যাকাণ্ডকে বার্ষিক হিসাবে রূপান্তর করলে তা প্রায় ৩ হাজার ৬৩০টি মামলার সমান হয়। গত এক দশকে দেশে বছরে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার খুনের মামলা হয়েছে। ফলে বর্তমান সংখ্যাকে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে দাবি পুলিশের।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষের হিসাবে দুই মাসে প্রতি লাখ জনসংখ্যায় হত্যার হার দাঁড়ায় ০ দশমিক ৩৪। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এটিকে উচ্চ হার হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

এর আগে রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি জানায়, বিএনপি সরকারের প্রথম দুই মাসে দেশে ৬০৫টি খুন, ১৯৬টি অপহরণ, ২৯৪টি ছিনতাই ও ৯০টি ডাকাতির ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে পুলিশের ওপর ১২৯টি হামলা এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ৩ হাজার ৪৯৬টি ঘটনার তথ্যও তুলে ধরে সংস্থাটি।

তবে টিআইবির তথ্যের সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, টিআইবি কোনো সরকারি সংস্থা নয় এবং তারা মূলত সংবাদপত্রের প্রতিবেদন থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। প্রকৃত পরিসংখ্যান জানতে পুলিশ বিভাগ বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যের ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দেন তিনি।

পুলিশ সদর দপ্তর আরও জানায়, ৬০৫টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে রাজনৈতিক কারণে সংঘটিত হয়েছে মাত্র তিনটি, যা মোট ঘটনার শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। অধিকাংশ হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ, পারিবারিক কলহ ও অর্থনৈতিক দ্বন্দ্ব দায়ী।

পুলিশের দাবি, টিআইবির প্রতিবেদনে পূর্ববর্তী সরকারগুলোর একই সময়ের অপরাধ পরিস্থিতির তুলনামূলক বিশ্লেষণ অনুপস্থিত। এছাড়া বর্তমান সময়ে মামলা গ্রহণ ও নথিভুক্তকরণে পুলিশের সক্রিয়তাকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পুলিশ অধিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে মামলা নথিভুক্ত করছে। ফলে অপরাধের প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্টভাবে সামনে আসছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের মতে, সামগ্রিক পরিসংখ্যান ও ঐতিহাসিক তথ্য বিবেচনায় দেশে হত্যাকাণ্ডের বর্তমান হার স্বাভাবিক সীমার মধ্যেই রয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সাংবাদিকদের ভূমিকার গুরুত্ব অপরিসীম: সেলিম উদ্দিন

দুই মাসে ৬০৫ খুন, ‘অস্বাভাবিক নয়’ বলছে পুলিশ সদর দপ্তর

আপডেট সময় : ০৫:২০:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে দেশে ৬০৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও এটিকে অস্বাভাবিক বলে মনে করছে না পুলিশ সদর দপ্তর। তাদের দাবি, গত এক দশকের খুনের পরিসংখ্যানের সঙ্গে তুলনা করলে এই সংখ্যা স্বাভাবিক প্রবণতার মধ্যেই রয়েছে।

সোমবার এক লিখিত বক্তব্যে পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লিখিত দুই মাসে ৬০৫টি হত্যাকাণ্ডকে বার্ষিক হিসাবে রূপান্তর করলে তা প্রায় ৩ হাজার ৬৩০টি মামলার সমান হয়। গত এক দশকে দেশে বছরে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার খুনের মামলা হয়েছে। ফলে বর্তমান সংখ্যাকে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে দাবি পুলিশের।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষের হিসাবে দুই মাসে প্রতি লাখ জনসংখ্যায় হত্যার হার দাঁড়ায় ০ দশমিক ৩৪। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এটিকে উচ্চ হার হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

এর আগে রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি জানায়, বিএনপি সরকারের প্রথম দুই মাসে দেশে ৬০৫টি খুন, ১৯৬টি অপহরণ, ২৯৪টি ছিনতাই ও ৯০টি ডাকাতির ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে পুলিশের ওপর ১২৯টি হামলা এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ৩ হাজার ৪৯৬টি ঘটনার তথ্যও তুলে ধরে সংস্থাটি।

তবে টিআইবির তথ্যের সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, টিআইবি কোনো সরকারি সংস্থা নয় এবং তারা মূলত সংবাদপত্রের প্রতিবেদন থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। প্রকৃত পরিসংখ্যান জানতে পুলিশ বিভাগ বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যের ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দেন তিনি।

পুলিশ সদর দপ্তর আরও জানায়, ৬০৫টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে রাজনৈতিক কারণে সংঘটিত হয়েছে মাত্র তিনটি, যা মোট ঘটনার শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। অধিকাংশ হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ, পারিবারিক কলহ ও অর্থনৈতিক দ্বন্দ্ব দায়ী।

পুলিশের দাবি, টিআইবির প্রতিবেদনে পূর্ববর্তী সরকারগুলোর একই সময়ের অপরাধ পরিস্থিতির তুলনামূলক বিশ্লেষণ অনুপস্থিত। এছাড়া বর্তমান সময়ে মামলা গ্রহণ ও নথিভুক্তকরণে পুলিশের সক্রিয়তাকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পুলিশ অধিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে মামলা নথিভুক্ত করছে। ফলে অপরাধের প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্টভাবে সামনে আসছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের মতে, সামগ্রিক পরিসংখ্যান ও ঐতিহাসিক তথ্য বিবেচনায় দেশে হত্যাকাণ্ডের বর্তমান হার স্বাভাবিক সীমার মধ্যেই রয়েছে।