ঢাকা ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

**নির্বাচন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে সরকার: প্রয়োজনে যেকোনো স্থানে তল্লাশির অনুমতি**

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখতে এবং যেকোনো বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ভোটকেন্দ্রসহ যেকোনো স্থানে প্রয়োজনে প্রবেশ ও তল্লাশি চালাতে পারবেন।

সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ১৯তম সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপতৎপরতা বা নাশকতার চেষ্টা সহ্য করা হবে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার এবং মাঠপর্যায়ে সর্বোচ্চ সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক কর্মসূচি বা প্রচারণার নামে রাস্তাঘাট বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নেবে। এক্ষেত্রে কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন উপদেষ্টা। তিনি আরও জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে এর চূড়ান্ত চার্জশিট জমা দেওয়া হবে। এছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোতে যাতে কোনো ‘ফ্যাসিস্ট এজেন্ট’ বা নাশকতাকারী অনুপ্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে দলগুলোকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় চলমান বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ–২’ এর সাফল্য তুলে ধরা হয়। উপদেষ্টা জানান, গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৪ হাজার ৫৬৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ২০১টি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গুলি, দেশীয় অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য। বিভিন্ন মামলা ও ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে সব মিলিয়ে গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৮০৪ জনে। সন্ত্রাসীদের পালিয়ে যাওয়া রোধে চেকপোস্ট ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।

নিরাপত্তার পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়। ঘন কুয়াশায় সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সতর্কতার সঙ্গে যানবাহন চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার রোধ এবং মিয়ানমার সীমান্তসহ পার্বত্য অঞ্চলের নিরাপত্তা বজায় রাখতে বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

উক্ত সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ড. ইউনূসের বিদায় ও নতুন সরকারের আগমনে ভারতের স্বস্তি এবং প্রত্যাশার দোলাচল

**নির্বাচন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে সরকার: প্রয়োজনে যেকোনো স্থানে তল্লাশির অনুমতি**

আপডেট সময় : ১০:৫১:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখতে এবং যেকোনো বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ভোটকেন্দ্রসহ যেকোনো স্থানে প্রয়োজনে প্রবেশ ও তল্লাশি চালাতে পারবেন।

সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ১৯তম সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপতৎপরতা বা নাশকতার চেষ্টা সহ্য করা হবে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার এবং মাঠপর্যায়ে সর্বোচ্চ সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক কর্মসূচি বা প্রচারণার নামে রাস্তাঘাট বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নেবে। এক্ষেত্রে কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন উপদেষ্টা। তিনি আরও জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে এর চূড়ান্ত চার্জশিট জমা দেওয়া হবে। এছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোতে যাতে কোনো ‘ফ্যাসিস্ট এজেন্ট’ বা নাশকতাকারী অনুপ্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে দলগুলোকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় চলমান বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ–২’ এর সাফল্য তুলে ধরা হয়। উপদেষ্টা জানান, গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৪ হাজার ৫৬৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ২০১টি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গুলি, দেশীয় অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য। বিভিন্ন মামলা ও ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে সব মিলিয়ে গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৮০৪ জনে। সন্ত্রাসীদের পালিয়ে যাওয়া রোধে চেকপোস্ট ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।

নিরাপত্তার পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়। ঘন কুয়াশায় সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সতর্কতার সঙ্গে যানবাহন চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার রোধ এবং মিয়ানমার সীমান্তসহ পার্বত্য অঞ্চলের নিরাপত্তা বজায় রাখতে বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

উক্ত সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।