ঢাকা ১১:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আমেরিকার উদ্বেগ: গাজায় সাধারণ ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার ছক কষছে হামাস

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৮:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩৪ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর গুরুতর এক আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। তাদের দাবি, ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস গাজার সাধারণ নাগরিকদের ওপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে আমেরিকা এমন শঙ্কা প্রকাশ করেছে। দেশটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এমন কোনো হামলা হলে তা ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির মারাত্মক লঙ্ঘন বলে বিবেচিত হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, এই সম্ভাব্য হামলাটি দুই বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া চুক্তিটিকে চরমভাবে বিপন্ন করে তুলতে পারে। তবে, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য আক্রমণের সুনির্দিষ্ট সময়, স্থান বা হামলার কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

পাশাপাশি, গাজার সাধারণ মানুষদের সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র পদক্ষেপ নেবে বলেও জানানো হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নিশ্চিত করেছে যে, হামাস যদি হামলা চালায়, তবে গাজার বেসামরিক মানুষের জীবন রক্ষা এবং যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে তারা উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার শুরু হতেই নতুন এই উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। এর কিছুদিন আগেই একটি ভিডিওতে আটজন মানুষকে প্রকাশ্যে গুলি করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার মতো নৃশংস দৃশ্য দেখা গিয়েছিল। ফুটেজে দেখা যায়, মুখোশ পরা একদল সশস্ত্র ব্যক্তি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এবং হত্যাকারীদের মাথায় হামাসের সবুজ পট্টি বাঁধা ছিল।

ওই ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, হামাস গাজায় মানুষ হত্যা করা বা চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করা অব্যাহত রাখলে তাদের পুরোপুরি শেষ করে দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। যদিও তিনি পরে বিষয়টি স্পষ্ট করে জানান যে, গাজায় কোনো মার্কিন সেনা পাঠানো হবে না। তার মতে, এই হুঁশিয়ারি ছিল মূলত হামাসের জন্য একটি কঠিন সংকেত।

যুক্তরাষ্ট্র, কাতার এবং মিশরের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ আলোচনার পর গত ১১ অক্টোবর থেকে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছিল। যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী, হামাস মৃত ২৮ জন ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ হস্তান্তর করতে রাজি হয়েছিল। এ পর্যন্ত তাদের মধ্যে ১০ জনের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এই যুদ্ধবিরতিকে সংঘাত নিরসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে।

তবে, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজায় কমপক্ষে ৬৭,৯৬৭ জন নিহত হয়েছেন এবং ১,৭০,১৭৯ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। নিহত ও আহতের মধ্যে বেশিরভাগই হলেন ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদে সংস্কার না হলে রাজপথে তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি বিরোধী দলের

আমেরিকার উদ্বেগ: গাজায় সাধারণ ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার ছক কষছে হামাস

আপডেট সময় : ১০:৪৮:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর গুরুতর এক আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। তাদের দাবি, ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস গাজার সাধারণ নাগরিকদের ওপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে আমেরিকা এমন শঙ্কা প্রকাশ করেছে। দেশটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এমন কোনো হামলা হলে তা ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির মারাত্মক লঙ্ঘন বলে বিবেচিত হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, এই সম্ভাব্য হামলাটি দুই বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া চুক্তিটিকে চরমভাবে বিপন্ন করে তুলতে পারে। তবে, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য আক্রমণের সুনির্দিষ্ট সময়, স্থান বা হামলার কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

পাশাপাশি, গাজার সাধারণ মানুষদের সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র পদক্ষেপ নেবে বলেও জানানো হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নিশ্চিত করেছে যে, হামাস যদি হামলা চালায়, তবে গাজার বেসামরিক মানুষের জীবন রক্ষা এবং যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে তারা উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার শুরু হতেই নতুন এই উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। এর কিছুদিন আগেই একটি ভিডিওতে আটজন মানুষকে প্রকাশ্যে গুলি করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার মতো নৃশংস দৃশ্য দেখা গিয়েছিল। ফুটেজে দেখা যায়, মুখোশ পরা একদল সশস্ত্র ব্যক্তি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এবং হত্যাকারীদের মাথায় হামাসের সবুজ পট্টি বাঁধা ছিল।

ওই ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, হামাস গাজায় মানুষ হত্যা করা বা চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করা অব্যাহত রাখলে তাদের পুরোপুরি শেষ করে দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। যদিও তিনি পরে বিষয়টি স্পষ্ট করে জানান যে, গাজায় কোনো মার্কিন সেনা পাঠানো হবে না। তার মতে, এই হুঁশিয়ারি ছিল মূলত হামাসের জন্য একটি কঠিন সংকেত।

যুক্তরাষ্ট্র, কাতার এবং মিশরের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ আলোচনার পর গত ১১ অক্টোবর থেকে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছিল। যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী, হামাস মৃত ২৮ জন ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ হস্তান্তর করতে রাজি হয়েছিল। এ পর্যন্ত তাদের মধ্যে ১০ জনের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এই যুদ্ধবিরতিকে সংঘাত নিরসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে।

তবে, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজায় কমপক্ষে ৬৭,৯৬৭ জন নিহত হয়েছেন এবং ১,৭০,১৭৯ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। নিহত ও আহতের মধ্যে বেশিরভাগই হলেন ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক।