ভুয়া কনটেন্ট, নকল প্রোফাইল এবং নিম্নমানের পোস্টের বিস্তার রোধে ফেসবুক তাদের প্ল্যাটফর্মে একটি নতুন বিনামূল্যের ভেরিফায়েড ব্যাজ চালু করছে। মেটা জানিয়েছে, এই ব্যবস্থাটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি হওয়া জালিয়াতি ঠেকাতে এবং প্রকৃত ব্যবহারকারীর পরিচয় নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। এই নতুন ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার জন্য কোনো অর্থ পরিশোধ করতে হবে না।
ফেসবুকের প্রধান টম অ্যালিসন জানিয়েছেন, নতুন পদ্ধতিতে ব্যবহারকারীকে একটি সেলফি ভিডিও জমা দিতে হবে। ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই ভিডিও প্রোফাইল ছবির সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় যাচাই করা হবে। এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে মাত্র কয়েক মিনিট সময় লাগতে পারে। মেটার তথ্য অনুযায়ী, এই ব্যাজ পেতে ব্যবহারকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে এবং তার অ্যাকাউন্টকে ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলতে হবে। পরিচয় যাচাই সম্পন্ন হলে ব্যাজটি ফেসবুক মার্কেটপ্লেস, ডেটিংসহ প্ল্যাটফর্মের বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শিত হবে।
তবে মেটা স্পষ্ট করেছে যে, এই নতুন ব্যাজটি সেলিব্রিটি, প্রতিষ্ঠান বা কনটেন্টের অনুমোদনের প্রতীক নয়। এটি কেবল অ্যাকাউন্টের পেছনে একজন প্রকৃত ব্যক্তি রয়েছেন—এই বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য ব্যবহার করা হবে। এটি মেটার অর্থের বিনিময়ে দেওয়া ‘মেটা ভেরিফায়েড’ সেবার বিকল্প নয়। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে যে, বর্তমানে প্রতারকরা জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে বাস্তবসম্মত ছবি, পরিচয় ও কাল্পনিক তথ্য দিয়ে ভুয়া প্রোফাইল তৈরি করছে এবং এসব অ্যাকাউন্ট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিপুল পরিমাণ বার্তা ছড়িয়ে প্রতারণার ঘটনা বাড়ছে। নতুন ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা এসব জালিয়াতি কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা করছে মেটা।
পাশাপাশি, মেটা টিকটকের আদলে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন ফুল-স্ক্রিন ইমারসিভ ভিডিও অভিজ্ঞতাও পরীক্ষামূলকভাবে চালুর ঘোষণা দিয়েছে। নির্বাচিত কিছু ব্যবহারকারী প্রথমে এই সুবিধা পাবেন এবং তারা চাইলে আগের ফিডভিত্তিক ইন্টারফেসে ফিরে যেতে পারবেন। নতুন বিনামূল্যের ভেরিফায়েড ব্যাজ পেজ বা প্রোমোটেড অ্যাকাউন্টের জন্য প্রযোজ্য হবে না। ফিচারটি সোমবার থেকে ধাপে ধাপে চালু হবে এবং শুরুতে সীমিত কয়েকটি বাজারে পাওয়া যাবে, পরে তা বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলেও সম্প্রসারণ করা হবে।
রিপোর্টারের নাম 

























