ঢাকা ০৭:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

জলাবদ্ধতার জেরে শিক্ষক বদলি: শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনে শিক্ষকের আকুতি, ‘আমার চাকরিটা খেয়ো না’

এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে জলাবদ্ধতার ঘটনায় কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের সাত শিক্ষককে আকস্মিক বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। শনিবার বেলা ১১টায় কলেজ ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে, মানববন্ধনে এসে বদলির আদেশ পাওয়া কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসিন শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি বন্ধ করার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে হাত জোড় করে আকুতি জানিয়ে বলেন, ‘তোমরা আমার চাকরিটা খেয়ো না। তোমরা আন্দোলন বন্ধ কর।’

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বদলির আদেশ পাওয়া সাত শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে কলেজে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পাঠদান করে আসছেন। তাঁদের পাঠদানের দক্ষতা, শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিকতা এবং একাডেমিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে কলেজের শিক্ষা কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। হঠাৎ করে একসঙ্গে সাত শিক্ষককে বদলি করা হলে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

মানববন্ধনে ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সোনিয়া আক্তার বলেন, আমরা আমাদের প্রিয় শিক্ষকদের বদলি চাই না। তাঁদের কাছ থেকে আমরা শুধু পাঠদানই নয়, নৈতিক শিক্ষা ও বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনাও পেয়ে থাকি। তিনি আরও বলেন, বদলি একটি সরকারি প্রক্রিয়া, এতে আমাদের বিরোধিতা করার সুযোগ নেই। কিন্তু একটি প্রাকৃতিক বিষয় জলাবদ্ধতাকে ঘিরে আমাদের সাতজন শিক্ষককে একসঙ্গে বদলি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এমনিতেই আমরা মাত্র চারজন শিক্ষক নিয়ে ক্লাস করছি। এখন আরও শিক্ষক কমে গেলে আমাদের পাঠদান ব্যাহত হবে। তাই বদলির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে তাঁদের কলেজে বহাল রাখার দাবি জানাচ্ছি।

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সাবরিনা সুলতানা জ্যোতি বলেন, মহসিন স্যারসহ সাতজন স্যারকে বদলির যৌক্তিক কারণ জানতে চাই। সরকার যদি যৌক্তিক কারণ দেখাতে পারে, তাহলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। আমরা ধোঁয়াশার মধ্যে থাকতে চাই না। এমনিতেই আমাদের কলেজে শিক্ষকের সংকট রয়েছে। আজ আমরা ব্যক্তিগত ও কলেজের স্বার্থেই এখানে এসেছি।

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আমেনা বেগম বলেন, আমি এখানে নতুন যোগ দিয়েছি। এই মুহূর্তে এভাবে আন্দোলনকে আমি সমর্থন করি না। তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিত আমি বিবেচনা করব।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে উল্লাস, যন্তর মন্তরে ‘স্বৈরাচার পরাজিত’ স্লোগান

জলাবদ্ধতার জেরে শিক্ষক বদলি: শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনে শিক্ষকের আকুতি, ‘আমার চাকরিটা খেয়ো না’

আপডেট সময় : ০৫:০৩:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে জলাবদ্ধতার ঘটনায় কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের সাত শিক্ষককে আকস্মিক বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। শনিবার বেলা ১১টায় কলেজ ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে, মানববন্ধনে এসে বদলির আদেশ পাওয়া কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসিন শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি বন্ধ করার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে হাত জোড় করে আকুতি জানিয়ে বলেন, ‘তোমরা আমার চাকরিটা খেয়ো না। তোমরা আন্দোলন বন্ধ কর।’

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বদলির আদেশ পাওয়া সাত শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে কলেজে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পাঠদান করে আসছেন। তাঁদের পাঠদানের দক্ষতা, শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিকতা এবং একাডেমিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে কলেজের শিক্ষা কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। হঠাৎ করে একসঙ্গে সাত শিক্ষককে বদলি করা হলে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

মানববন্ধনে ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সোনিয়া আক্তার বলেন, আমরা আমাদের প্রিয় শিক্ষকদের বদলি চাই না। তাঁদের কাছ থেকে আমরা শুধু পাঠদানই নয়, নৈতিক শিক্ষা ও বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনাও পেয়ে থাকি। তিনি আরও বলেন, বদলি একটি সরকারি প্রক্রিয়া, এতে আমাদের বিরোধিতা করার সুযোগ নেই। কিন্তু একটি প্রাকৃতিক বিষয় জলাবদ্ধতাকে ঘিরে আমাদের সাতজন শিক্ষককে একসঙ্গে বদলি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এমনিতেই আমরা মাত্র চারজন শিক্ষক নিয়ে ক্লাস করছি। এখন আরও শিক্ষক কমে গেলে আমাদের পাঠদান ব্যাহত হবে। তাই বদলির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে তাঁদের কলেজে বহাল রাখার দাবি জানাচ্ছি।

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সাবরিনা সুলতানা জ্যোতি বলেন, মহসিন স্যারসহ সাতজন স্যারকে বদলির যৌক্তিক কারণ জানতে চাই। সরকার যদি যৌক্তিক কারণ দেখাতে পারে, তাহলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। আমরা ধোঁয়াশার মধ্যে থাকতে চাই না। এমনিতেই আমাদের কলেজে শিক্ষকের সংকট রয়েছে। আজ আমরা ব্যক্তিগত ও কলেজের স্বার্থেই এখানে এসেছি।

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আমেনা বেগম বলেন, আমি এখানে নতুন যোগ দিয়েছি। এই মুহূর্তে এভাবে আন্দোলনকে আমি সমর্থন করি না। তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিত আমি বিবেচনা করব।