ঢাকা ০৫:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

রংপুরে ৮৭ লাখ টাকার সড়ক ১৫ দিনেই বিধ্বস্ত: ক্ষোভ স্থানীয়দের

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নের কিশামত শেরপুর এলাকায় প্রায় ৮৭ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হওয়ার মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে উঠে যেতে শুরু করেছে। সড়কের পিচ ও খোয়া আলগা হয়ে বড় বড় গর্ত ও ফাটল দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত এমন নিম্নমানের কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নবনির্মিত সড়কটির বিভিন্ন অংশে কার্পেটিং উঠে গিয়ে ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও বিটুমিন ও পাথরের স্তর সম্পূর্ণ আলগা হয়ে গেছে। এছাড়াও, সড়কের দুই পাশের এজিংয়ের ইট মূল কার্পেটিংয়ের চেয়ে উঁচু করে স্থাপন করা হয়েছে, যার কারণে বৃষ্টির পানি সড়কের মাঝখানে জমে থাকার চিহ্ন স্পষ্ট। এই ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণশৈলী সড়কের দ্রুত ক্ষতির কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পর্যায়বৃত্ত রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির (পিএমপি) আওতায় ২ হাজার ৬০০ বর্গমিটার এলাকায় এই সড়কটির কার্পেটিংয়ের কাজ সম্পন্ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হোসাইন ট্রেডার্স অ্যান্ড কর্পোরেশন।

স্থানীয় বাসিন্দা মজনু মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারের লাখ লাখ টাকা খরচ করে যে রাস্তা করা হলো, তা ১৫ দিনও টিকল না। হাত দিয়ে ঘষলেই পিচ উঠে আসে। এমন নিম্নমানের কাজ আমরা আগে কখনো দেখিনি। যারা এই কাজের সঙ্গে জড়িত, তাদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।” আরেক বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, “রাস্তার দুপাশে ইট এত উঁচু করে বসানো হয়েছে যে পানি সহজে নামতে পারছে না, মাঝখানে জমে রাস্তা নষ্ট হচ্ছে। সাধারণ মানুষও বোঝে এটি ভুলভাবে করা হয়েছে, তাহলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কীভাবে এ কাজ গ্রহণ করলেন?”

বেতগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাইমিনুল ইসলাম মারুফ জানান, তিনি ঠিকাদারকে একাধিকবার ভালোভাবে কাজ করার জন্য বলেছিলেন, কিন্তু তার কথা শোনা হয়নি। এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হোসাইন ট্রেডার্স অ্যান্ড কর্পোরেশনের ঠিকাদার রেদোয়ান ইকবাল অতিবৃষ্টিতে কাজ করার কারণে এমন সমস্যা হয়েছে বলে দাবি করেন। রংপুর সওজের উপ-প্রকৌশলী আনোয়ারুল আজমও বৃষ্টির কারণে তড়িঘড়ি করে কাজ করার কথা স্বীকার করে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনরায় সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন। রংপুর সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামানও এজিংয়ের ইট উঁচু থাকার কারণে পানি নিষ্কাশনে সমস্যার কথা উল্লেখ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগ ইতিহাস বিকৃতির একমাত্র দল: বিদ্যুৎমন্ত্রী

রংপুরে ৮৭ লাখ টাকার সড়ক ১৫ দিনেই বিধ্বস্ত: ক্ষোভ স্থানীয়দের

আপডেট সময় : ০২:৫২:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নের কিশামত শেরপুর এলাকায় প্রায় ৮৭ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হওয়ার মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে উঠে যেতে শুরু করেছে। সড়কের পিচ ও খোয়া আলগা হয়ে বড় বড় গর্ত ও ফাটল দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত এমন নিম্নমানের কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নবনির্মিত সড়কটির বিভিন্ন অংশে কার্পেটিং উঠে গিয়ে ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও বিটুমিন ও পাথরের স্তর সম্পূর্ণ আলগা হয়ে গেছে। এছাড়াও, সড়কের দুই পাশের এজিংয়ের ইট মূল কার্পেটিংয়ের চেয়ে উঁচু করে স্থাপন করা হয়েছে, যার কারণে বৃষ্টির পানি সড়কের মাঝখানে জমে থাকার চিহ্ন স্পষ্ট। এই ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণশৈলী সড়কের দ্রুত ক্ষতির কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পর্যায়বৃত্ত রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির (পিএমপি) আওতায় ২ হাজার ৬০০ বর্গমিটার এলাকায় এই সড়কটির কার্পেটিংয়ের কাজ সম্পন্ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হোসাইন ট্রেডার্স অ্যান্ড কর্পোরেশন।

স্থানীয় বাসিন্দা মজনু মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারের লাখ লাখ টাকা খরচ করে যে রাস্তা করা হলো, তা ১৫ দিনও টিকল না। হাত দিয়ে ঘষলেই পিচ উঠে আসে। এমন নিম্নমানের কাজ আমরা আগে কখনো দেখিনি। যারা এই কাজের সঙ্গে জড়িত, তাদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।” আরেক বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, “রাস্তার দুপাশে ইট এত উঁচু করে বসানো হয়েছে যে পানি সহজে নামতে পারছে না, মাঝখানে জমে রাস্তা নষ্ট হচ্ছে। সাধারণ মানুষও বোঝে এটি ভুলভাবে করা হয়েছে, তাহলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কীভাবে এ কাজ গ্রহণ করলেন?”

বেতগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাইমিনুল ইসলাম মারুফ জানান, তিনি ঠিকাদারকে একাধিকবার ভালোভাবে কাজ করার জন্য বলেছিলেন, কিন্তু তার কথা শোনা হয়নি। এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হোসাইন ট্রেডার্স অ্যান্ড কর্পোরেশনের ঠিকাদার রেদোয়ান ইকবাল অতিবৃষ্টিতে কাজ করার কারণে এমন সমস্যা হয়েছে বলে দাবি করেন। রংপুর সওজের উপ-প্রকৌশলী আনোয়ারুল আজমও বৃষ্টির কারণে তড়িঘড়ি করে কাজ করার কথা স্বীকার করে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনরায় সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন। রংপুর সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামানও এজিংয়ের ইট উঁচু থাকার কারণে পানি নিষ্কাশনে সমস্যার কথা উল্লেখ করেন।