ঢাকা ০৩:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

জুলাইয়ের উত্তাল দিনে এক অসম সাহসী প্রতিরোধ: এক প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান

জুলাই মাসের এক প্রখর দুপুরে, এক তরুণ নিজেকে খুঁজে পেয়েছিল এক অসম লড়াইয়ের মুখোমুখি। তার সামনে ছিল একটি লাল রঙের খালি ধাতব তেলের ড্রাম, যা ছিল তার একমাত্র ঢাল। এই ড্রামের আড়ালে দাঁড়িয়ে সে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। তার পরনের সাদা গেঞ্জিটি ছিল চার দিনের পুরনো, ঘামে ভেজা এবং ছেঁড়া। তাতে লেখা ছিল ‘মানি না’ এবং পিঠে ‘নো’, যা তার অদম্য মনোভাবের প্রকাশ।

চারিদিকে তখন উত্তপ্ত পরিবেশ। দুপুরের সূর্য, ধুলা মেশানো বাতাস, এমনকি তার নিজের শরীরের রক্তও যেন উত্তাপে টগবগ করছিল। কিন্তু এই সবকিছুর মধ্যেও তরুণটির মনে ছিল অটল বিশ্বাস। সে বিশ্বাস করত, তার সামনে থাকা ড্রামটি তাকে যেকোনো বুলেট থেকে রক্ষা করবে। তার মনে দৃঢ় প্রত্যয় ছিল, এই প্রতিরোধ অর্থহীন নয়।

কয়েক গজ দূরে ‘মায়ের চুলা’ রেস্তোরাঁ এবং নয়ন মিয়ার দর্জিঘরের সামনে, বৈদ্যুতিক তারের নিচে দাঁড়িয়ে সে তার বন্ধুদের সঙ্গে স্লোগান দিচ্ছিল – ‘তুমি কে? আমি কে? রাজাকার! রাজাকার!’ তাদের লক্ষ্য ছিল পুলিশের সারি। তরুণটি হাতে তুলে নিয়েছিল ফুটপাতের কিনারে পাওয়া দুটি রুক্ষ পাথর, যা ছিল তার অস্তিত্বের প্রমাণ। কিন্তু তার আসল অস্ত্র ছিল তার বিশ্বাস। সে জানত, এই সংগ্রাম একদিন শেষ হবে, অত্যাচার বন্ধ হবে। এই বিশ্বাসই তাকে শক্তি যুগিয়েছিল, নির্ঘুম রাতে অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে থাকার সাহস দিয়েছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুরে ৮৭ লাখ টাকার সড়ক ১৫ দিনেই বিধ্বস্ত: ক্ষোভ স্থানীয়দের

জুলাইয়ের উত্তাল দিনে এক অসম সাহসী প্রতিরোধ: এক প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান

আপডেট সময় : ০১:৩৩:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

জুলাই মাসের এক প্রখর দুপুরে, এক তরুণ নিজেকে খুঁজে পেয়েছিল এক অসম লড়াইয়ের মুখোমুখি। তার সামনে ছিল একটি লাল রঙের খালি ধাতব তেলের ড্রাম, যা ছিল তার একমাত্র ঢাল। এই ড্রামের আড়ালে দাঁড়িয়ে সে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। তার পরনের সাদা গেঞ্জিটি ছিল চার দিনের পুরনো, ঘামে ভেজা এবং ছেঁড়া। তাতে লেখা ছিল ‘মানি না’ এবং পিঠে ‘নো’, যা তার অদম্য মনোভাবের প্রকাশ।

চারিদিকে তখন উত্তপ্ত পরিবেশ। দুপুরের সূর্য, ধুলা মেশানো বাতাস, এমনকি তার নিজের শরীরের রক্তও যেন উত্তাপে টগবগ করছিল। কিন্তু এই সবকিছুর মধ্যেও তরুণটির মনে ছিল অটল বিশ্বাস। সে বিশ্বাস করত, তার সামনে থাকা ড্রামটি তাকে যেকোনো বুলেট থেকে রক্ষা করবে। তার মনে দৃঢ় প্রত্যয় ছিল, এই প্রতিরোধ অর্থহীন নয়।

কয়েক গজ দূরে ‘মায়ের চুলা’ রেস্তোরাঁ এবং নয়ন মিয়ার দর্জিঘরের সামনে, বৈদ্যুতিক তারের নিচে দাঁড়িয়ে সে তার বন্ধুদের সঙ্গে স্লোগান দিচ্ছিল – ‘তুমি কে? আমি কে? রাজাকার! রাজাকার!’ তাদের লক্ষ্য ছিল পুলিশের সারি। তরুণটি হাতে তুলে নিয়েছিল ফুটপাতের কিনারে পাওয়া দুটি রুক্ষ পাথর, যা ছিল তার অস্তিত্বের প্রমাণ। কিন্তু তার আসল অস্ত্র ছিল তার বিশ্বাস। সে জানত, এই সংগ্রাম একদিন শেষ হবে, অত্যাচার বন্ধ হবে। এই বিশ্বাসই তাকে শক্তি যুগিয়েছিল, নির্ঘুম রাতে অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে থাকার সাহস দিয়েছিল।