ঢাকা ০৪:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

১৫ বছর বয়সী নাঈমা সুলতানা: জুলাই বিপ্লবের প্রথম নারী শহীদ

মাত্র ১৫ বছর বয়সে দেশের জন্য আত্মত্যাগ করে ‘জুলাই বিপ্লবের’ প্রথম নারী শহীদ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে রইলেন নাঈমা সুলতানা। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই সন্ধ্যায় বাসার বেলকনিতে কাপড় আনতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে মাথায় বিদ্ধ হয়ে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। তার এই অকাল মৃত্যু দেশবাসীর জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

নাঈমা সুলতানা ছিলেন উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি চিত্রাঙ্কনেও ছিলেন পারদর্শী। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন এবং সহপাঠীদেরও অনুপ্রাণিত করেছেন। তার আঁকা গ্রাফিতিগুলো আজও উত্তরের বিভিন্ন দেয়ালে শোভা পাচ্ছে, যা তার প্রতিভার সাক্ষ্য বহন করে।

শহীদ নাঈমার মা আইনুন নাহার সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন, তার মেয়েকে যেন প্রথম নারী শহীদ হিসেবে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তিনি জানান, নাঈমা আন্দোলনে শুধু নিজেই যেত না, অন্যদেরও উৎসাহিত করত। তার স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক হওয়ার, কিন্তু দেশের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নিজের জীবন উৎসর্গ করে তিনি এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

নাঈমার বাবা, হোমিও চিকিৎসক গোলাম মোস্তফা, তার মেজো মেয়ের মেধাবী জীবনের কথা স্মরণ করে বলেন, তারা দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে নাঈমা ছিল সবচেয়ে মেধাবী। তার চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে গেলেও, দেশের জন্য তার আত্মত্যাগ তাকে অমর করে রাখবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদগঞ্জে সরকারি গাছ বিক্রির অভিযোগে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা

১৫ বছর বয়সী নাঈমা সুলতানা: জুলাই বিপ্লবের প্রথম নারী শহীদ

আপডেট সময় : ০১:৪০:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

মাত্র ১৫ বছর বয়সে দেশের জন্য আত্মত্যাগ করে ‘জুলাই বিপ্লবের’ প্রথম নারী শহীদ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে রইলেন নাঈমা সুলতানা। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই সন্ধ্যায় বাসার বেলকনিতে কাপড় আনতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে মাথায় বিদ্ধ হয়ে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। তার এই অকাল মৃত্যু দেশবাসীর জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

নাঈমা সুলতানা ছিলেন উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি চিত্রাঙ্কনেও ছিলেন পারদর্শী। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন এবং সহপাঠীদেরও অনুপ্রাণিত করেছেন। তার আঁকা গ্রাফিতিগুলো আজও উত্তরের বিভিন্ন দেয়ালে শোভা পাচ্ছে, যা তার প্রতিভার সাক্ষ্য বহন করে।

শহীদ নাঈমার মা আইনুন নাহার সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন, তার মেয়েকে যেন প্রথম নারী শহীদ হিসেবে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তিনি জানান, নাঈমা আন্দোলনে শুধু নিজেই যেত না, অন্যদেরও উৎসাহিত করত। তার স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক হওয়ার, কিন্তু দেশের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নিজের জীবন উৎসর্গ করে তিনি এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

নাঈমার বাবা, হোমিও চিকিৎসক গোলাম মোস্তফা, তার মেজো মেয়ের মেধাবী জীবনের কথা স্মরণ করে বলেন, তারা দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে নাঈমা ছিল সবচেয়ে মেধাবী। তার চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে গেলেও, দেশের জন্য তার আত্মত্যাগ তাকে অমর করে রাখবে।