নারীঘটিত কারণে নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে নির্বাচিত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই ঘটনার পর তার সংসদ সদস্য পদ থাকবে কিনা তা নিয়ে রাজনৈতিক ও নির্বাচন বিশ্লেষকদের মধ্যে দুই ধরনের মতামত দেখা দিয়েছে।
নির্বাচন বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করেন, দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার কারণে সংসদ সদস্য পদ খারিজ হওয়ার সম্ভাবনা কম। তাদের মতে, সংবিধানে এ ধরনের কোনো বিধান নেই এবং অতীতেও এমন নজির দেখা যায়নি। দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও তিনি স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হিসেবে গণ্য হতে পারেন। অন্যদিকে, অপর একটি অংশ মনে করেন, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী দলীয়ভাবে নির্বাচিত কোনো সংসদ সদস্য নিজ দল থেকে বহিষ্কার হলে সংসদ সদস্য হিসেবে থাকার কোনো সুযোগ থাকে না। তিনি দলীয় বা স্বতন্ত্র কোনোভাবেই এমপি পদে থাকতে পারবেন না।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা আরও বলেছেন, যেসব কারণে সংসদ সদস্য পদ শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে, সেখানে দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ নেই। সাধারণত, কোনো সংসদ সদস্য নিজে পদত্যাগ করলে, দলের বিপক্ষে ভোট দিলে, টানা ৯০ কার্যদিবস সংসদে অনুপস্থিত থাকলে অথবা প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা হারালে তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হতে পারে। তবে, সংশ্লিষ্ট দল যদি তাদের দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়টি স্পিকার বা নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করে, তবে ওই ব্যক্তির সংসদ সদস্য পদ শূন্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তারা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
বাংলাদেশের বিগত সংসদীয় ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার কারণে কারো সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়নি। অষ্টম জাতীয় সংসদের সদস্য আবু হেনা বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরও সংসদের বাকি মেয়াদ স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সে সময় তার পদ শূন্য ঘোষণা করার জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে স্পিকারের দ্বারস্থ হলেও, দলের বিরুদ্ধে কথা বলা বা সমালোচনা করা অনুচ্ছেদ ৭০-এর আওতায় পড়ে না বলে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল।
রিপোর্টারের নাম 



















