ঢাকা ১২:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

আমন বীজতলা রক্ষায় জরুরি নির্দেশনা

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) কর্তৃক আমন মৌসুমের শুরুতে প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রেক্ষাপটে বীজতলা ও চারা রক্ষার জন্য জরুরি কৃষি পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস মাথায় রেখে ব্রি নিম্নোক্ত কৌশলগুলো অনুসরণের জন্য কৃষকদের আহ্বান জানিয়েছে:

১. বৃষ্টি চলাকালীন জরুরি সতর্কতা

  • কার্যক্রম স্থগিতকরণ: ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকলে নতুন বীজতলা তৈরি এবং চারা রোপণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
  • পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা: বীজতলা ও সদ্য রোপণ করা জমির পানি নিষ্কাশনের নলাসমূহ পরিষ্কার রাখা অত্যাবশ্যক। অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি যেন জমিতে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি করতে না পারে, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। তবে চারা ভেসে যাওয়া রোধে জমিতে খুব সামান্য পানির স্তর বজায় রাখা যেতে পারে।
  • বিকল্প সুরক্ষা: বীজতলা ডুবে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকলে উঁচু ও নিরাপদ স্থানে বীজতলা স্থানান্তরের প্রস্তুতি রাখতে হবে। বৃষ্টির তীব্রতা থেকে রক্ষায় প্রয়োজনে পলিথিন বা অস্থায়ী ছাউনি ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • সার ও বালাইনাশক প্রয়োগ: বৃষ্টির মধ্যে বা পূর্বাভাস থাকা অবস্থায় ইউরিয়া সার, কীটনাশক বা ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ এতে ওষুধের কার্যকারিতা নষ্ট হয় ও সার ধুয়ে যায়।

২. বন্যা ও জলাবদ্ধ এলাকা ব্যবস্থাপনা

  • জাত নির্বাচন: বন্যাকবলিত অঞ্চলের জন্য স্বল্পমেয়াদী ও প্রতিকূলতা সহনশীল জাতের ধানের বীজ নির্বাচন করতে হবে।
  • বীজ শোধন: উন্নতমানের চারা নিশ্চিত করতে লবণ-পানি পরীক্ষার মাধ্যমে অপুষ্ট বীজ বাদ দিয়ে সুস্থ বীজ বাছাই এবং অনুমোদিত ছত্রাকনাশক দিয়ে বীজ শোধন করা জরুরি।

৩. বৃষ্টি পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম

  • শূন্যস্থান পূরণ: বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর দ্রুত জমি পরিদর্শন করে মৃত বা দুর্বল চারার স্থলে সুস্থ চারা রোপণ করে শূন্যস্থান (গ্যাপ ফিলিং) পূর্ণ করতে হবে।
  • রোগবালাই পর্যবেক্ষণ: দীর্ঘস্থায়ী মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় রোগবালাইয়ের প্রকোপ বাড়তে পারে, তাই নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। তবে রোগ শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত অপ্রয়োজনীয় বালাইনাশক ব্যবহার করা যাবে না।
  • স্বাভাবিক কর্মপরিকল্পনা: আবহাওয়া পুরোপুরি অনুকূলে আসার পর নতুন বীজতলা তৈরি, চারা রোপণ ও সার ব্যবস্থাপনার কাজ শুরু করতে হবে।

কৃষকদের স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা এবং জেলা ও উপজেলা ভিত্তিক আবহাওয়া ও বন্যা সতর্কবার্তা অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে ব্রি।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

২০ ঘণ্টা পানির নিচে: রাশমিকার জীবনের কঠিনতম অভিজ্ঞতা

আমন বীজতলা রক্ষায় জরুরি নির্দেশনা

আপডেট সময় : ১২:১৬:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) কর্তৃক আমন মৌসুমের শুরুতে প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রেক্ষাপটে বীজতলা ও চারা রক্ষার জন্য জরুরি কৃষি পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস মাথায় রেখে ব্রি নিম্নোক্ত কৌশলগুলো অনুসরণের জন্য কৃষকদের আহ্বান জানিয়েছে:

১. বৃষ্টি চলাকালীন জরুরি সতর্কতা

  • কার্যক্রম স্থগিতকরণ: ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকলে নতুন বীজতলা তৈরি এবং চারা রোপণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
  • পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা: বীজতলা ও সদ্য রোপণ করা জমির পানি নিষ্কাশনের নলাসমূহ পরিষ্কার রাখা অত্যাবশ্যক। অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি যেন জমিতে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি করতে না পারে, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। তবে চারা ভেসে যাওয়া রোধে জমিতে খুব সামান্য পানির স্তর বজায় রাখা যেতে পারে।
  • বিকল্প সুরক্ষা: বীজতলা ডুবে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকলে উঁচু ও নিরাপদ স্থানে বীজতলা স্থানান্তরের প্রস্তুতি রাখতে হবে। বৃষ্টির তীব্রতা থেকে রক্ষায় প্রয়োজনে পলিথিন বা অস্থায়ী ছাউনি ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • সার ও বালাইনাশক প্রয়োগ: বৃষ্টির মধ্যে বা পূর্বাভাস থাকা অবস্থায় ইউরিয়া সার, কীটনাশক বা ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ এতে ওষুধের কার্যকারিতা নষ্ট হয় ও সার ধুয়ে যায়।

২. বন্যা ও জলাবদ্ধ এলাকা ব্যবস্থাপনা

  • জাত নির্বাচন: বন্যাকবলিত অঞ্চলের জন্য স্বল্পমেয়াদী ও প্রতিকূলতা সহনশীল জাতের ধানের বীজ নির্বাচন করতে হবে।
  • বীজ শোধন: উন্নতমানের চারা নিশ্চিত করতে লবণ-পানি পরীক্ষার মাধ্যমে অপুষ্ট বীজ বাদ দিয়ে সুস্থ বীজ বাছাই এবং অনুমোদিত ছত্রাকনাশক দিয়ে বীজ শোধন করা জরুরি।

৩. বৃষ্টি পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম

  • শূন্যস্থান পূরণ: বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর দ্রুত জমি পরিদর্শন করে মৃত বা দুর্বল চারার স্থলে সুস্থ চারা রোপণ করে শূন্যস্থান (গ্যাপ ফিলিং) পূর্ণ করতে হবে।
  • রোগবালাই পর্যবেক্ষণ: দীর্ঘস্থায়ী মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় রোগবালাইয়ের প্রকোপ বাড়তে পারে, তাই নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। তবে রোগ শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত অপ্রয়োজনীয় বালাইনাশক ব্যবহার করা যাবে না।
  • স্বাভাবিক কর্মপরিকল্পনা: আবহাওয়া পুরোপুরি অনুকূলে আসার পর নতুন বীজতলা তৈরি, চারা রোপণ ও সার ব্যবস্থাপনার কাজ শুরু করতে হবে।

কৃষকদের স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা এবং জেলা ও উপজেলা ভিত্তিক আবহাওয়া ও বন্যা সতর্কবার্তা অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে ব্রি।