ঢাকা ০১:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

জুলাই বিপ্লবে উত্তাল ঢাকা: রক্ত, আর্তনাদ ও রাষ্ট্রের নিষ্ঠুরতা

২০২৪ সালের ২৫ জুলাই বাংলাদেশের ইতিহাসে এক রক্তক্ষয়ী ও কলঙ্কময় দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। রাজধানীর হাসপাতালগুলোর বারান্দা তখন গুলিবিদ্ধ তরুণদের আর্তনাদে মুখরিত ছিল, আর মর্গে জমা হচ্ছিল লাশের স্তূপ। ঠিক এমন এক ভয়াবহThea, দেশবাসী প্রত্যক্ষ করল এক অমানবিক প্রহসন — রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্টের অজুহাতে মাফিয়া শাসক ও ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার কৃত্রিম অশ্রুপাত। সেই সময় জুলাই বিপ্লবীরা শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, ‘নাটক কম কর পিও’। এই একটি বাক্য যেন চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের প্রতিবাদের এক অন্যতম নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিশু, কিশোর, যুবক থেকে শুরু করে সাধারণ পথচারী — কেউই রেহাই পায়নি শেখ হাসিনার লেলিয়ে দেওয়া বাহিনীর নির্মম বুলেট ও সন্ত্রাসী হামলা থেকে। বিশেষ করে উত্তরার চিত্র ছিল রীতিমতো বিভীষিকাময়। ১৮ থেকে ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে শুধুমাত্র উত্তরার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে অন্তত ৮৬৭ জন আহত ব্যক্তিকে, আর প্রাণহীন অবস্থায় আনা হয়েছিল ২৯টি লাশ। বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল, উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ ও সৈয়দ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছিল লাশের সারি। কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালেই ২৬৫ জনকে আহতাবস্থায় এবং আটটি লাশ আনা হয়। উত্তরা আধুনিক মেডিকেলে ১১টি লাশ এবং ২৬৩ জন আহত শিক্ষার্থীর হাহাকারে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিল।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, চিকিৎসকরা চরম চাপের মুখে হিমশিম খাচ্ছিলেন। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় ছিল পুলিশের হয়রানি ও গণগ্রেপ্তারের ভয়ে অনেক গুরুতর আহত শিক্ষার্থী চিকিৎসা অসমাপ্ত রেখেই হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। হাসপাতালের বারান্দায় যখন গুলিবিদ্ধদের আর্তনাদ চলছিল, তখন বাইরে ওত পেতে ছিল পুলিশের প্রিজন ভ্যান, যে ভ্যানে স্কুলের ইউনিফর্ম পরা কিশোরদেরও টেনেহিঁচড়ে তোলা হচ্ছিল। রাজধানীর মর্গগুলোয় সেদিনের দৃশ্য ছিল অকল্পনীয়। আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের তথ্যমতে, ওই দিনগুলোয় তারা ২১টি বেওয়ারিশ লাশ দাফন করে, যার অধিকাংশই ছিল পরিচয়হীন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের ডোম রামু চন্দ্র দাসের বর্ণনা অনুযায়ী, যেসব লাশ দাফনের জন্য পাঠানো হয়েছিল, তাদের শরীরে ছিল সরাসরি গুলির ক্ষত এবং পিটিয়ে মারার মারাত্মক জখম। ওই লাশের স্তূপই প্রমাণ করে, তৎকালীন সরকার কতটা বেপরোয়াভাবে নিজের দেশের নাগরিকদের ওপর ‘শিকার’ চালিয়েছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে গিয়ে নেত্রকোণায় একজনের মৃত্যু

জুলাই বিপ্লবে উত্তাল ঢাকা: রক্ত, আর্তনাদ ও রাষ্ট্রের নিষ্ঠুরতা

আপডেট সময় : ১১:২৪:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

২০২৪ সালের ২৫ জুলাই বাংলাদেশের ইতিহাসে এক রক্তক্ষয়ী ও কলঙ্কময় দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। রাজধানীর হাসপাতালগুলোর বারান্দা তখন গুলিবিদ্ধ তরুণদের আর্তনাদে মুখরিত ছিল, আর মর্গে জমা হচ্ছিল লাশের স্তূপ। ঠিক এমন এক ভয়াবহThea, দেশবাসী প্রত্যক্ষ করল এক অমানবিক প্রহসন — রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্টের অজুহাতে মাফিয়া শাসক ও ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার কৃত্রিম অশ্রুপাত। সেই সময় জুলাই বিপ্লবীরা শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, ‘নাটক কম কর পিও’। এই একটি বাক্য যেন চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের প্রতিবাদের এক অন্যতম নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিশু, কিশোর, যুবক থেকে শুরু করে সাধারণ পথচারী — কেউই রেহাই পায়নি শেখ হাসিনার লেলিয়ে দেওয়া বাহিনীর নির্মম বুলেট ও সন্ত্রাসী হামলা থেকে। বিশেষ করে উত্তরার চিত্র ছিল রীতিমতো বিভীষিকাময়। ১৮ থেকে ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে শুধুমাত্র উত্তরার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে অন্তত ৮৬৭ জন আহত ব্যক্তিকে, আর প্রাণহীন অবস্থায় আনা হয়েছিল ২৯টি লাশ। বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল, উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ ও সৈয়দ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছিল লাশের সারি। কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালেই ২৬৫ জনকে আহতাবস্থায় এবং আটটি লাশ আনা হয়। উত্তরা আধুনিক মেডিকেলে ১১টি লাশ এবং ২৬৩ জন আহত শিক্ষার্থীর হাহাকারে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিল।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, চিকিৎসকরা চরম চাপের মুখে হিমশিম খাচ্ছিলেন। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় ছিল পুলিশের হয়রানি ও গণগ্রেপ্তারের ভয়ে অনেক গুরুতর আহত শিক্ষার্থী চিকিৎসা অসমাপ্ত রেখেই হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। হাসপাতালের বারান্দায় যখন গুলিবিদ্ধদের আর্তনাদ চলছিল, তখন বাইরে ওত পেতে ছিল পুলিশের প্রিজন ভ্যান, যে ভ্যানে স্কুলের ইউনিফর্ম পরা কিশোরদেরও টেনেহিঁচড়ে তোলা হচ্ছিল। রাজধানীর মর্গগুলোয় সেদিনের দৃশ্য ছিল অকল্পনীয়। আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের তথ্যমতে, ওই দিনগুলোয় তারা ২১টি বেওয়ারিশ লাশ দাফন করে, যার অধিকাংশই ছিল পরিচয়হীন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের ডোম রামু চন্দ্র দাসের বর্ণনা অনুযায়ী, যেসব লাশ দাফনের জন্য পাঠানো হয়েছিল, তাদের শরীরে ছিল সরাসরি গুলির ক্ষত এবং পিটিয়ে মারার মারাত্মক জখম। ওই লাশের স্তূপই প্রমাণ করে, তৎকালীন সরকার কতটা বেপরোয়াভাবে নিজের দেশের নাগরিকদের ওপর ‘শিকার’ চালিয়েছিল।