জাতীয় যোগ্যতা ও প্রবেশিকা পরীক্ষা (নিট-ইউজি) ঘিরে প্রশ্নফাঁস ও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগের জেরে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তার এই পদত্যাগের পর ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করে আসছিল।
চলতি বছরের জুন মাস থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট-ইউজি ২০২৬ (স্নাতক) পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অন্যান্য অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছিল সিজেপি। তাদের দাবি ছিল, প্রশ্নফাঁসের দায়ভার শিক্ষামন্ত্রীকেই নিতে হবে।
পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সিজেপি তাদের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করে। ভিডিওতে দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এবং যন্তর মন্তরে সমবেত হাজারো বিক্ষোভকারীকে উল্লাস করতে দেখা যায়। অভিজিৎ দিপকে এই পদত্যাগকে গণতন্ত্রের জয় হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “এটাই গণতন্ত্র। তিনি পদত্যাগ করেছেন… মনে রাখবেন, ককরোচকে হালকাভাবে নেবেন না।”
সিজেপি আরও দাবি জানিয়েছে, নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এছাড়া, গত ২০ জুলাই ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জের ঘটনায় জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টা আগে নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধান জানান, যন্তর মন্তর এবং দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে যেন ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি’ কোনো সুযোগ নিতে না পারে, সে বিষয়টি বিবেচনা করে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। তিনি লেখেন, “গত দশ দিনের ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত। এটি আমার ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয় নয়।”
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শুরু থেকেই তিনি ঘটনার পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছেন এবং কখনো দায় এড়িয়ে যাননি। তার প্রধান লক্ষ্য ছিল, ‘পরীক্ষা মাফিয়া’র কারণে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যেন নষ্ট না হয় এবং কোনো শিক্ষার্থী যেন অবিচারের শিকার না হয়। উল্লেখ্য, নিট-ইউজি পরীক্ষা প্রথমে ৩ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের কারণে তা স্থগিত করে ২১ জুন পুনরায় আয়োজন করা হয়।
রিপোর্টারের নাম 

























