ঢাকা ০১:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

ভাস্কর্যের রাজনীতি: বিশ্বশক্তি ও মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার নতুন সমীকরণ

হাজার বছর আগের ঈশপের একটি গল্প আজও বিশ্বরাজনীতির এক গভীর সত্যকে উন্মোচন করে। সেই গল্পে মানুষ ও সিংহের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে তর্ক হয়। মানুষ যখন নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ হিসেবে মানুষের তৈরি একটি ভাস্কর্য দেখায়, যেখানে এক বীর পুরুষ সিংহকে পরাভূত করছে, তখন সিংহ যুক্তি দেয় যে, যদি সিংহদের দ্বারা ভাস্কর্য তৈরি হতো, তবে চিত্রটা ভিন্ন হতো। এই উপমা আজকের বিশ্বরাজনীতি, বিশেষ করে পারস্য উপসাগর ও মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতা পরিবর্তনের সমীকরণকে নির্দেশ করে।

দীর্ঘ দশক ধরে পশ্চিমা বিশ্বই তাদের তৈরি বয়ান ও ‘ভাস্কর্য’ দিয়ে বিশ্বকে সত্য নির্ধারণে প্রভাবিত করত। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে পারস্য উপসাগর থেকে তেহরানের রাজপথ পর্যন্ত নতুন শক্তিধররা তাদের নিজস্ব কাহিনি তৈরি করতে শুরু করেছে। এই পরিবর্তন দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয়: পারস্য উপসাগরের সাম্প্রতিক সংঘাত থেকে প্রাপ্ত সামরিক-কৌশলগত শিক্ষা এবং তেহরানে অনুষ্ঠিত একটি ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় জানাজা ও শোক অনুষ্ঠান। এই ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, বিশ্ব আর একমেরু নয়, বরং দুটি ভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিভক্ত হয়ে গেছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় তীব্র প্রতিরোধ ও প্রতিশোধের বার্তা দেওয়া হয়। তেহরানে সমবেত জনতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয় এবং খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার দাবি জানায়। এই শোকানুষ্ঠান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বকে স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করা হলেও দেশটির রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে গিয়ে নেত্রকোণায় একজনের মৃত্যু

ভাস্কর্যের রাজনীতি: বিশ্বশক্তি ও মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার নতুন সমীকরণ

আপডেট সময় : ১১:১৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

হাজার বছর আগের ঈশপের একটি গল্প আজও বিশ্বরাজনীতির এক গভীর সত্যকে উন্মোচন করে। সেই গল্পে মানুষ ও সিংহের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে তর্ক হয়। মানুষ যখন নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ হিসেবে মানুষের তৈরি একটি ভাস্কর্য দেখায়, যেখানে এক বীর পুরুষ সিংহকে পরাভূত করছে, তখন সিংহ যুক্তি দেয় যে, যদি সিংহদের দ্বারা ভাস্কর্য তৈরি হতো, তবে চিত্রটা ভিন্ন হতো। এই উপমা আজকের বিশ্বরাজনীতি, বিশেষ করে পারস্য উপসাগর ও মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতা পরিবর্তনের সমীকরণকে নির্দেশ করে।

দীর্ঘ দশক ধরে পশ্চিমা বিশ্বই তাদের তৈরি বয়ান ও ‘ভাস্কর্য’ দিয়ে বিশ্বকে সত্য নির্ধারণে প্রভাবিত করত। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে পারস্য উপসাগর থেকে তেহরানের রাজপথ পর্যন্ত নতুন শক্তিধররা তাদের নিজস্ব কাহিনি তৈরি করতে শুরু করেছে। এই পরিবর্তন দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয়: পারস্য উপসাগরের সাম্প্রতিক সংঘাত থেকে প্রাপ্ত সামরিক-কৌশলগত শিক্ষা এবং তেহরানে অনুষ্ঠিত একটি ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় জানাজা ও শোক অনুষ্ঠান। এই ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, বিশ্ব আর একমেরু নয়, বরং দুটি ভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিভক্ত হয়ে গেছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় তীব্র প্রতিরোধ ও প্রতিশোধের বার্তা দেওয়া হয়। তেহরানে সমবেত জনতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয় এবং খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার দাবি জানায়। এই শোকানুষ্ঠান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বকে স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করা হলেও দেশটির রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে।